×

ঢাকা, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

স্বামীর করা অর্থ আত্মসাতের মামলায় স্ত্রীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

২০২৬ নভেম্বর ০২ ২০:০০:৩৮

স্বামীর করা অর্থ আত্মসাতের মামলায় স্ত্রীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজবাড়ীতে স্বামীর দায়ের করা অর্থ আত্মসাতের মামলায় মোছা. তানিয়া খাতুন (২২) নামে এক নার্সকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২ নভেম্বর) রাজবাড়ী সদর আমলী আদালতের বিচারক অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হায়দার আলী তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী শেখ মো. মেহেদী হাসান সোমবার সন্ধ্যায় যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তানিয়া রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার খালকুলা গ্রামের মোহন মল্লিকের মেয়ে। তিনি একটি বেসরকারি হাসপাতালে নার্স হিসেবে কর্মরত।

মামলা ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিনোদপুর গ্রামের মো. সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে পারিবারিক সম্মতিতে বিয়ে হয় বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের খালকুলা গ্রামের মোহন মল্লিকের মেয়ে মোছা. তানিয়া খাতুনের। বিয়ের সময় সাখাওয়াতের পরিবারের পক্ষ থেকে তানিয়াকে স্বর্ণালংকার ও বিভিন্ন উপহারসামগ্রী দেওয়া হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর তানিয়ার স্বামী মো. সাখাওয়াত হোসেন ব্যাংকে জমা রাখার জন্য তাঁকে ৬ লাখ টাকা দেন। তবে সেই টাকা ব্যাংকে জমা না রেখে নিয়ে পালিয়ে যান তানিয়া। এ ঘটনায় ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি রাজবাড়ী সদর আমলী আদালতে মামলা করেন সাখাওয়াত হোসেন।

মামলাটি তদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন আদালত। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা রয়েছে উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। পরে তানিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। তানিয়া আদালতে হাজির হয়ে আপসের শর্তে জামিনের আবেদন করলে বিচারক তাঁকে জামিন দেন।

তবে আপস না হওয়ায় সোমবার (২ নভেম্বর) ধার্য তারিখে আদালতে হাজির হয়ে আবার জামিনের আবেদন করেন তানিয়া। শুনানি শেষে বিচারক তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে মো. সাখাওয়াত হোসেন বাদী হয়ে তানিয়ার বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনে বালিয়াকান্দি আমলী আদালতে আরেকটি মামলা করেন। ওই মামলায় বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে ১৬ দিন পর জামিনে মুক্তি পান তিনি।

মামলার বাদী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘পারিবারিক ও সামাজিকভাবে সুন্দর একটি সংসারের স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে নানা অশান্তি ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। স্থানীয়ভাবে ও সামাজিকভাবে বিষয়টি সমাধানের অনেক চেষ্টা করা হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। বাধ্য হয়েই আইনের আশ্রয় নিয়েছি। আদালতের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।’

বাদীপক্ষের আইনজীবী শেখ মেহেদী হাসান বলেন, আদালতের তদন্তের পর আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরে আসামি আদালতে হাজির হয়ে আপসের শর্তে জামিন নেন। এরপর বাদী ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মাধ্যমে একাধিকবার আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। লিগ্যাল এইডের মাধ্যমেও বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে আসামি বাদীর সঙ্গে সংসার করতে রাজি না হওয়ায় এবং মীমাংসা কার্যকর না হওয়ায় আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তবে মামলার অভিযোগের বিষয়ে আসামিপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

জাতীয় এর অন্যান্য সংবাদ