ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২

বিশ্বকাপ বর্জনে বিসিবি ও ক্রিকেটারদের কতটা আর্থিক ক্ষতি?

২০২৬ জানুয়ারি ২৩ ১৪:৪১:৪০

বিশ্বকাপ বর্জনে বিসিবি ও ক্রিকেটারদের কতটা আর্থিক ক্ষতি?

স্পোর্টস ডেস্ক: ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচনা, আইসিসির সঙ্গে একাধিক বৈঠক এবং নানা নাটকীয়তার পর অবশেষে চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ক্রীড়া উপদেষ্টা ও বিসিবি সভাপতি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন ভারতে নয়, শুধুমাত্র শ্রীলঙ্কায় ভেন্যু নির্ধারিত হলে তবেই বিশ্বকাপে অংশ নেবে বাংলাদেশ। এই সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় টাইগাররা বিশ্বকাপে না খেললে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে, সেটিও এখন পরিষ্কার।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিলেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফ ও ম্যানেজমেন্ট মিলিয়ে প্রায় চার কোটি টাকা বা প্রায় তিন লাখ মার্কিন ডলার পাওয়ার সুযোগ ছিল। আর টুর্নামেন্টে সেরা ১২ দলের মধ্যে জায়গা করে নিতে পারলে কোনো দল পেত সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার বেশি, যা ডলারে প্রায় চার লাখ ৫০ হাজার।

বাংলাদেশ যদি আনুষ্ঠানিকভাবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায়, তাহলে এর সরাসরি আর্থিক চাপ পড়বে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের ওপর। ম্যাচ ফি, পারফরম্যান্স বোনাস ও প্রাইজমানির সুযোগ হারাবেন তারা, ফলে ব্যক্তিগত আয়ের ক্ষেত্রেও বড় ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি হবে। একই সঙ্গে বিসিবিও পড়বে লোকসানের মুখে। আইসিসির কাছ থেকে যে তিন থেকে পাঁচ লাখ মার্কিন ডলার অংশগ্রহণ ফি পাওয়ার কথা ছিল, তা আর পাওয়া যাবে না বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় চার থেকে ছয় কোটি টাকা।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম লাভজনক আসর হিসেবে পরিচিত। এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ না খেললে শুধু খেলোয়াড় বা বোর্ডই নয়, পুরো ইভেন্টের বাণিজ্যিক কাঠামোতেও প্রভাব পড়তে পারে। ভারতীয় উপমহাদেশে বাংলাদেশের ম্যাচ সাধারণত ভালো টেলিভিশন দর্শক টানে। সেসব ম্যাচ না হলে টিআরপি কমার আশঙ্কা রয়েছে, যা বিজ্ঞাপনদাতা ও স্পন্সরদের আগ্রহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সাবেক ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকাররাও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, বাংলাদেশের ম্যাচসংখ্যা কমে গেলে টুর্নামেন্টের সামগ্রিক বাণিজ্যিক মূল্য হ্রাস পেতে পারে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, একটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেই বাংলাদেশের একজন ক্রিকেটার ন্যূনতম আড়াই লাখ টাকা আয় করেন।

এর আগে ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রাইজমানির অঙ্ক ছিল টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও যুক্তরাষ্ট্রের নয়টি ভেন্যুতে ২৮ দিনে অনুষ্ঠিত সেই আসরে ২০টি দল অংশ নেয়। রানার্সআপ দল পেয়েছিল অন্তত ১২ লাখ ৮০ হাজার ডলার, সেমিফাইনালে হেরে যাওয়া দুই দল পেয়েছিল সাত লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ ডলার করে। দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠতে না পারা দলগুলো পেয়েছিল তিন লাখ ৮২ হাজার ৫০০ ডলার।

নবম থেকে দ্বাদশ স্থানে থাকা দলগুলো পেয়েছিল দুই লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ ডলার করে, আর ১৩ থেকে ২০তম অবস্থানে থাকা দলগুলোর প্রত্যেককে দেওয়া হয়েছিল দুই লাখ ২৫ হাজার ডলার। পাশাপাশি সেমিফাইনাল ও ফাইনাল বাদে প্রতিটি ম্যাচ জয়ের জন্য দলগুলো অতিরিক্ত ৩১ হাজার ১৫৪ ডলার করে পেয়েছিল।

আইসিসির ক্ষতি কতটা?

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের মতে, বাংলাদেশকে ছাড়া বিশ্বকাপ আয়োজন মানে আইসিসির জন্যও বড় ধাক্কা। এতে প্রায় ২০ কোটি দর্শক হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে। তবে যেহেতু সম্প্রচার স্বত্ব আগেই বিক্রি হয়ে যায়, তাই আইসিসির তুলনায় বেশি ক্ষতির মুখে পড়বেন সম্প্রচারক ও বিজ্ঞাপনদাতারা।

এদিকে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারত-বাংলাদেশ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে দুই দেশের মধ্যে ট্যুরিস্ট ভিসা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে অংশ নিলেও সাধারণ দর্শকদের জন্য ভারতে গিয়ে খেলা দেখার সুযোগ থাকত না। উল্লেখযোগ্যভাবে, বিশ্বকাপের সূচিতে বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচ কলকাতায় এবং একটি ম্যাচ মুম্বাইয়ে নির্ধারিত ছিল।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

১২ ঘণ্টার ব্যবধানেই সোনার দামে বড় লাফ

১২ ঘণ্টার ব্যবধানেই সোনার দামে বড় লাফ

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের অস্বাভাবিক অস্থিতিশীলতার কারণে দেশের বাজারে আবারও বড় ধরনের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স... বিস্তারিত