ঢাকা, সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

লিবিয়ায় গোপন কারাগার থেকে শতাধিক অভিবাসী উদ্ধার

২০২৬ জানুয়ারি ১৯ ১৭:০৬:২৭

লিবিয়ায় গোপন কারাগার থেকে শতাধিক অভিবাসী উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মানবপাচারের ভয়াবহ বাস্তবতা আবারও সামনে এলো লিবিয়ায়। দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কুফরা শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে একটি গোপন ভূগর্ভস্থ কারাগার থেকে দুই শতাধিক অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের অনেকেই বছরের পর বছর অমানবিক পরিবেশে বন্দি ছিলেন।

রোববার কুফরার অন্তত দুটি নিরাপত্তা সূত্র ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানায়, উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের মধ্যে কেউ কেউ টানা দুই বছরের বেশি সময় ধরে ওই কারাগারে আটকে ছিলেন। ঘটনাটিকে মানবতার বিরুদ্ধে ভয়াবহ অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন দেশটির এক কর্মকর্তা।

নিরাপত্তা সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন মিটার গভীরে নির্মিত এই ভূগর্ভস্থ কারাগারটি অত্যন্ত নোংরা ও বিপজ্জনক অবস্থায় ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, লিবীয় এক মানবপাচারকারী এই কারাগার পরিচালনা করতেন। তবে অভিযানের সময় অভিযুক্ত পাচারকারী পালিয়ে যাওয়ায় এখনো তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

অভিযানের সময় শহরের ভেতরে থাকা একাধিক গোপন ভূগর্ভস্থ কক্ষের সন্ধান পাওয়া যায়, যেখানে অভিবাসীদের আটকে রাখা হয়েছিল। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বেশিরভাগই সাব-সাহারান আফ্রিকার দেশ—বিশেষ করে সোমালিয়া ও ইরিত্রিয়া থেকে আসা। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।

কুফরা শহরটি লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি থেকে প্রায় ১ হাজার ৭০০ কিলোমিটার দূরে, দেশের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত।

২০১১ সালে ন্যাটো-সমর্থিত গণঅভ্যুত্থানে মুয়াম্মার আল গাদ্দাফির পতনের পর থেকেই ইউরোপমুখী অভিবাসীদের জন্য লিবিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়েছে। সংঘাত, দারিদ্র্য ও নিরাপত্তাহীনতা থেকে বাঁচতে হাজারো মানুষ মরুভূমি ও ভূমধ্যসাগরের ঝুঁকিপূর্ণ পথ পাড়ি দিয়ে লিবিয়ায় প্রবেশ করছে।

তেলসমৃদ্ধ এই দেশটি অনেক অভিবাসীর কাছে জীবিকার আশার জায়গা হলেও দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে তারা প্রায়ই মানবপাচার, নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হন।

এর আগে গত সপ্তাহে পূর্ব লিবিয়ার একটি গণকবর থেকে অন্তত ২১ জন অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিরাপত্তা সূত্র জানায়, ওই ঘটনায় জীবিত উদ্ধার হওয়া প্রায় ১০ জনের শরীরে নির্যাতনের স্পষ্ট চিহ্ন ছিল।

লিবিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল এক বিবৃতিতে জানান, গণকবরের ঘটনায় গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতেও কুফরা এলাকায় প্রায় ৫৫টি গণকবর থেকে ৩৯ জন অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। পাশাপাশি ২০২৩ সালে সুদানে সংঘাত শুরুর পর কয়েক দশক হাজার সুদানি শরণার্থীও কুফরায় আশ্রয় নিয়েছেন।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত