ঢাকা, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২

বাংলাদেশ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে: প্রধানমন্ত্রী

২০২৬ মার্চ ০৬ ২১:৫০:০৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বশান্তি রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে বৈশ্বিক বন্ধন সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিদেশি কূটনীতিকদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানান, অনুষ্ঠানে সরকারপ্রধান দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশের বাস্তববাদী পররাষ্ট্রনীতির রূপরেখা তুলে ধরেন।

ইফতারের ধর্মীয় ও মানবিক তাৎপর্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, সমৃদ্ধি গড়ে ওঠে সহযোগিতা ও সম্পৃক্ততার মাধ্যমে, বিচ্ছিন্নতার মাধ্যমে নয়।’ তিনি আরও যোগ করেন যে, আজকের এই আয়োজন কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং তা বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ধর্মের মানুষের ঐক্য ও সহমর্মিতার গুরুত্ব মনে করিয়ে দেয়। এই মূল্যবোধই একটি সহনশীল সমাজ গঠনের মূল ভিত্তি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, ‘তার সরকার বিচক্ষণ নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ নীতি অনুসরণ করবে, ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ আরও সহজ করবে এবং দায়িত্বশীল বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ গড়ে তুলবে।’ তিনি বেসরকারি খাতের সম্ভাবনাকে পূর্ণাঙ্গভাবে কাজে লাগানোর ওপর জোর দেন এবং বলেন যে, ‘আমাদের লক্ষ্য আমাদের জনগণ ও বেসরকারি খাতের পূর্ণ সম্ভাবনাকে উন্মোচিত করা।’ প্রবৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বা পিপিপি মডেলকে আরও শক্তিশালী করা হবে।

পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি স্পষ্ট করে তিনি বলেন, ‘পারস্পরিক স্বার্থ, আস্থা ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত’ নীতির আলোকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হবে বাস্তববাদী ও টেকসই।’ তিনি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে খোলামেলা আলোচনা ও শক্তিশালী সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ সবসময় প্রস্তুত রয়েছে বলে কূটনীতিকদের আশ্বস্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।

সুশাসনের বিষয়ে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা স্বীকার করি যে, জনগণের আস্থা নির্ভর করে স্বচ্ছতা ও সততার ওপর এবং শাসনের সব স্তরে দুর্নীতি মোকাবিলায় আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব।’ গণতন্ত্রের সংজ্ঞা কেবল নির্বাচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে গণতন্ত্র শুধু ব্যালট বাক্সে সীমাবদ্ধ নয়; এটি অন্তর্ভুক্তি, স্বচ্ছতা ও সংলাপের ধারাবাহিক অঙ্গীকার।’ আইনের শাসন সমুন্নত রাখা এবং মানবাধিকার রক্ষায় তাঁর সরকার সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সরকারের জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনার মধ্যে নারী ও কৃষকদের জন্য বিশেষ সুবিধার কথা জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের উদ্যোগে ধাপে ধাপে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু করা হবে’ যাতে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা পৌঁছানো যায়। এছাড়া কারিগরি শিক্ষা জোরদার করা, পাঠ্যক্রমে তৃতীয় ভাষা অন্তর্ভুক্ত করা এবং গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

সবশেষে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ২০২৬-২৭ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে সমর্থন দেওয়ার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও বক্তব্য রাখেন।

এসপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত