ঢাকা, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
দ্বিতীয় বিয়েতে স্ত্রীর সম্মতি বাধ্যতামূলক নয়: হাইকোর্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে বহুবিবাহ নিয়ে দীর্ঘদিনের সামাজিক ও আইনি বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে হাইকোর্টের সাম্প্রতিক রায়। মুসলিম পুরুষের দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক নয়—এমন পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে আদালত স্পষ্ট করেছেন, বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির ভিত্তিতে।
মুসলিম পারিবারিক আইন সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট এই সিদ্ধান্ত দেন। আদালতের মতে, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে প্রথম স্ত্রীর সম্মতি নেওয়ার বিষয়টি আইনে সরাসরি উল্লেখ নেই; বরং অনুমতির একমাত্র বৈধ কর্তৃপক্ষ হলো আরবিট্রেশন কাউন্সিল।
রায়ে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে সমাজে এমন ধারণা প্রচলিত ছিল যে স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে আইনত সম্ভব নয়। তবে মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান বিশ্লেষণ করে আদালত দেখেছেন, সেখানে স্ত্রীর অনুমতিকে বাধ্যতামূলক শর্ত হিসেবে নির্ধারণ করা হয়নি।
২৪ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত ব্যাখ্যা করেন, দ্বিতীয় বিয়ের অনুমোদনের ক্ষমতা যেহেতু আরবিট্রেশন কাউন্সিলের হাতে ন্যস্ত, তাই স্ত্রীর অনুমতি আইনগত শর্ত নয়। আদালত এ প্রসঙ্গে দণ্ডবিধির ঐতিহাসিক ধারার কথাও উল্লেখ করেন।
রায়ে বলা হয়, ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় স্ত্রী বা স্বামীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান ছিল। তবে ১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইন প্রবর্তনের পর পুরুষের দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি ভিন্ন কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
বর্তমান আইনে আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। নারীর ক্ষেত্রে আগের শাস্তি বহাল থাকলেও পুরুষের ক্ষেত্রে আইনটি সংশোধিত আকারে কার্যকর রয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।
এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন রিটকারীরা। তাঁদের আশঙ্কা, এ সিদ্ধান্ত বহুবিবাহের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করতে পারে এবং নারী-পুরুষের সমান অধিকার ও সুরক্ষার প্রশ্নে নতুন জটিলতা তৈরি হতে পারে।
সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, আর্থিক সক্ষমতা ও সামাজিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে কেউ কেউ বহুবিবাহের সুযোগ অপব্যবহার করতে পারেন, যা পারিবারিক অস্থিরতা ও সামাজিক বৈষম্য বাড়াতে পারে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি আপিল বিভাগে গেলে তা নিয়ে নতুন করে আইনি ব্যাখ্যা ও জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হতে পারে।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম সান মারিনো ম্যাচ: সরাসরি দেখা যাবে এখানে LIVE
- বাংলাদেশ বনাম সান মারিনো ফুটবল ম্যাচ, দেখুন একাদশ-দেখার উপায়
- বাংলাদেশ বনাম ভারতের ফুটবল ম্যাচ: সরাসরি দেখুন (LIVE)
- ঢাবি অ্যালামনাই ইউকে শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা
- বাংলাদেশ বনাম সান মারিনোর ম্যাচটি শেষ-দেখুন ফলাফল
- ঢাবি শিক্ষককে বিয়ে করলেন দীপ্তি চৌধুরী
- বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তানের ফুটবল ম্যাচ: এক ক্লিকে সরাসরি দেখুন
- আজ রাত ৮ টায় ভারত বনাম বাংলাদেশের ফুটবল ম্যাচ, কোথায় ও যেভাবে দেখবেন?
- বাংলাদেশ বনাম সান মারিনোম্যাচ: এক ক্লিকে সরাসরি দেখুন এখানে
- আজ বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তান ম্যাচ: সরাসরি দেখবেন যেভাবে
- পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই: ড. নিয়াজ আহমদ
- ঢাবির এসএম হলের নতুন প্রভোস্ট অধ্যাপক আবদুস সালাম
- মাসিক ফি দিয়ে ব্যবহার করতে হবে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম
- টাইমস হায়ার ও কিউএস র্যাঙ্কিংয়ে ঢাবির জয়জয়কার
- নতুন পে-স্কেলে কার বেতন কত বাড়তে পারে? আলোচনায় দুটি প্রস্তাব