ঢাকা, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২

চীন-বাংলাদেশের নজরদারিতে নৌঘাঁটি বানাচ্ছে ভারত

২০২৬ জানুয়ারি ১১ ১৪:৫১:১১

চীন-বাংলাদেশের নজরদারিতে নৌঘাঁটি বানাচ্ছে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের নৌবাহিনী পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়া নদীতে একটি নতুন নৌঘাঁটি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের পাশাপাশি চীনের ক্রিয়াকলাপ পর্যবেক্ষণ করা যায়। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে এবং সামুদ্রিক উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ভারতের প্রতিরক্ষা সূত্রে জানানো হয়েছে, যা ইন্ডিয়া টুডে প্রতিবেদন করেছে।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বঙ্গোপসাগরে ক্রমবর্ধমান চীনা নৌ-তৎপরতা এবং বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে ঘিরে পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ভারত এই পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে নতুন ঘাঁটিতে কোনো বৃহৎ যুদ্ধস্ত্র বা অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েন হবে না।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হলদিয়া ঘাঁটিটি মূলত একটি নৌ ‘ডিটাচমেন্ট’ হিসেবে কাজ করবে। এখানে ছোট যুদ্ধজাহাজ এবং আনুমানিক ১০০ জন কর্মকর্তা ও নাবিক মোতায়েন করা হবে। এটি পূর্ণাঙ্গ কোনো কমান্ড সেন্টার হিসেবে কার্যকর হবে না।

ভারতের সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিন জানায়, নৌবাহিনী ইতিমধ্যেই ঘাঁটি তৈরির প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে। এখানে ফার্স্ট ইন্টারসেপ্টর ক্রাফট এবং নিউ ওয়াটার জেট ফার্স্ট অ্যাটাক ক্রাফট রাখা হবে। পাশাপাশি CRN-91 গান এবং নাগাস্ত্রা সিস্টেমের মতো লয়টারিং মিউনিশন সক্ষমতা থাকবে, যা নজরদারি ও আঘাতের সক্ষমতা আরও বাড়াবে। তবে জেটি নির্মাণ এখনও শুরুর পর্যায়ে নেই।

হলদিয়া ডক কমপ্লেক্সের বিদ্যমান অবকাঠামোও ঘাঁটির কাজে ব্যবহার করা হবে। এর ফলে অতিরিক্ত অবকাঠামো তৈরি না করেই দ্রুত ঘাঁটিটি কার্যকর করা সম্ভব হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে একটি নির্দিষ্ট জেটি ও তীরভিত্তিক সহায়ক পরিকাঠামো নির্মাণ করা হবে। হলদিয়া কলকাতা থেকে প্রায় ১০০ কিমি দূরে এবং বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পদক্ষেপের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভি-এর ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি, সমুদ্রপথে অনুপ্রবেশের ঝুঁকি এবং বাংলাদেশ থেকে ভারতে অবৈধ প্রবেশের ঘটনা।

সামুদ্রিক নিরাপত্তা, আঞ্চলিক পর্যবেক্ষণ এবং ভারতের প্রধান নিরাপত্তা প্রদানের ভূমিকাকে আরও শক্তিশালী করতে এই নৌ মোতায়েন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে ঘাঁটির নাম এখনও নির্ধারণ করা হয়নি এবং ভারতীয় সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা আসেনি।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত