ঢাকা, শুক্রবার, ২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২

ঢাকায় করমর্দনের পরই পাকিস্তানকে ‘খারাপ প্রতিবেশী’ বললেন জয়শঙ্কর

২০২৬ জানুয়ারি ০২ ১৮:২৭:২৮

ঢাকায় করমর্দনের পরই পাকিস্তানকে ‘খারাপ প্রতিবেশী’ বললেন জয়শঙ্কর

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকায় পাকিস্তানের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও করমর্দনের ঘটনার মাত্র দুই দিনের মাথায় পাকিস্তানকে প্রকাশ্যে ‘খারাপ প্রতিবেশী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়ে হুমকিস্বরূপ বক্তব্যও দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) ভারতের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি), মাদ্রাজ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে ভারতের কপালেও এমন এক প্রতিবেশী জুটেছে, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে, ধারাবাহিকভাবে এবং কোনো অনুশোচনা ছাড়াই সন্ত্রাসবাদ চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, “আপনার কপালে খারাপ প্রতিবেশী থাকতেই পারে। আমাদেরও আছে। পশ্চিমের এমন একটি দেশ রয়েছে, যারা সন্ত্রাসবাদকে রাষ্ট্রীয় নীতিতে পরিণত করেছে। এমন পরিস্থিতিতে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে নিজেদের জনগণকে রক্ষার অধিকার ভারতের আছে এবং আমরা সেই অধিকার প্রয়োগ করব।”

এই অধিকার প্রয়োগের পদ্ধতি ও সময় কেবল ভারতই নির্ধারণ করবে বলেও স্পষ্ট করে দেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, “কীভাবে এই অধিকার প্রয়োগ করা হবে, তা আমাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। কেউ আমাদের নির্দেশ দিতে পারে না আমরা কী করব বা কী করব না। নিজেদের সুরক্ষায় যা প্রয়োজন, আমরা তাই করব।”

উল্লেখ্য, গত এপ্রিল মাসে ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মিরের পেহেলগমামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হন। এই হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে ভারত ৭ মে ভোরে পাকিস্তানের ভেতরে মিসাইল হামলা চালায়। পাল্টা জবাবে পাকিস্তানও আক্রমণ চালালে চার দিন ধরে দুই দেশের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলে, যা পরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় থামে।

এই সংঘাতের আগেই ভারত ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি বাতিল করে। ওই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে জয়শঙ্কর বলেন, “দশকের পর দশক ধরে যদি কোনো দেশ সন্ত্রাসবাদ চালায় এবং প্রতিবেশীসুলভ আচরণ না করে, তাহলে তারা একদিকে সন্ত্রাস চালিয়ে অন্যদিকে পানি ভাগের দাবি করতে পারে না— এমন সমন্বয় সম্ভব নয়।”

তিনি আরও বলেন, “যদি আপনার প্রতিবেশী অন্তত ক্ষতিকর না হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই আপনি সহযোগিতার পথে হাঁটবেন। ভারত ভালো প্রতিবেশীর সঙ্গে সবসময় সেই নীতিই অনুসরণ করে।”

প্রসঙ্গত, গত বুধবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে শেষ বিদায় জানাতে ঢাকায় এসেছিলেন এস জয়শঙ্কর ও পাকিস্তানের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক। ওই দিন আকস্মিক সাক্ষাতে দুজনের মধ্যে করমর্দন ও সংক্ষিপ্ত কথোপকথন হয়, যা নিয়ে তখন আলোচনার সৃষ্টি হয়েছিল।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত