ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩
সেন্টমার্টিনে রাত্রি যাপনের জন্য মানতে হবে যেসব নির্দেশনা
নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ১ ডিসেম্বর থেকে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে। এবার রাত কাটানোর সুবিধা থাকবে, তবে দৈনিক দুই হাজারের বেশি পর্যটক দ্বীপে যেতে পারবেন না। এছাড়া ১২টি সরকারি নির্দেশনা কঠোরভাবে মানা বাধ্যতামূলক। কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া জেটিঘাট থেকে সকাল ৭টায় জাহাজ ছেড়ে যাবে এবং পরের দিন বেলা ৩টায় সেন্টমার্টিন থেকে ফিরে আসবে। চলতি যাত্রা ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা দুই মাস চলবে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলম জানান, এমভি কর্ণফুলি এক্সপ্রেস, এমভি বারো আউলিয়া, কেয়ারি সিন্দাবাদ ও কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন নামে চারটি জাহাজ জেলা প্রশাসনের অনুমোদন নিয়ে এই রুটে চলবে। তিনি আরও বলেন, সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারি ১২টি নির্দেশনা এবার কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
আগে টেকনাফ থেকে চলাচল হলেও নিরাপত্তার কারণে এখন কক্সবাজার থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে দ্বীপে যাবে। জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, নভেম্বর মাসে রাতে থাকার সুযোগ না থাকায় পর্যটক আগ্রহ দেখাননি। কিন্তু ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে রাত কাটানোর সুবিধা থাকায় পর্যটকরা আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন বলেন, জাহাজ চলাচলের সময় পর্যটকদের সংখ্যা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। প্রতিদিন দুই হাজারের বেশি পর্যটক দ্বীপে যেতে পারবেন না। নুনিয়ারছড়া জেটিঘাট ও সেন্টমার্টিন জেটিঘাটে পৃথক তল্লাশির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ২২ অক্টোবর সেন্টমার্টিন ভ্রমণের জন্য ১২টি নির্দেশনা জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনের আওতায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ও মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কোনো নৌযান চলাচল করতে পারবে না। পর্যটকদের অবশ্যই বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের ওয়েবপোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট নিতে হবে, যাতে ট্রাভেল পাশ ও কিউআর কোড সংযুক্ত থাকবে।
দ্বীপে ভ্রমণের সময়সূচি ও পর্যটক উপস্থিতি কড়াকড়ি নিয়ন্ত্রিত থাকবে। নভেম্বর মাসে শুধু দিনের বেলায় ভ্রমণ করা যাবে, রাতে থাকার অনুমতি দেওয়া হবে না। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে রাত্রিযাপন করা যাবে। ফেব্রুয়ারি মাসে দ্বীপে পর্যটক যাতায়াত বন্ধ থাকবে।
সেন্টমার্টিনের প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখতে সৈকতে আলো জ্বালানো, শব্দ সৃষ্টি বা বারবিকিউ পার্টি করা, কেয়াবনে প্রবেশ, সামুদ্রিক প্রাণী সংগ্রহ ও মোটরচালিত যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক বহনও নিষিদ্ধ। পর্যটকদের নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক সঙ্গে রাখতে উৎসাহিত করা হয়েছে।
সরকার আশা করছে, এই নতুন ব্যবস্থা দ্বীপের সংবেদনশীল পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সহায়ক হবে এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপকে দায়িত্বশীল ও পরিবেশবান্ধব পর্যটনের উৎকৃষ্ট উদাহরণে পরিণত করবে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- মাস্টারদা সূর্য সেন হল অ্যালামনাইয়ের নতুন কমিটি ঘোষণা, সভাপতি ডাবলু, সাধারণ সম্পাদক পলাশ
- ৬.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৬ অক্টোবর)
- নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ৭০ শতাংশের ভিসা প্রত্যাখ্যান, বাড়ছে উদ্বেগ
- আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীতে ২২৮ পদে নিয়োগ
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ভর্তির আবেদন শুরু আজ
- ২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস
- বিআইডব্লিউটিসি ও মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই
- সালাহউদ্দিন আহমেদের জানাজায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃ/ত্যুদণ্ড কার্যকর
- এসএসসি-এইচএসসিতে ফেল করলে ফের পরীক্ষা, এরপর কারিগরি শিক্ষা
- হরমুজে জাহাজডুবি, সাগরে ভাসছে আইফোন
- খুলনায় ৩০ কেজি ধানে তৈরি দুর্গাপ্রতিমা দেখতে ভিড়
- সালাহউদ্দিন আহমেদের মৃ/ত্যুতে রাজনীতিতে শূন্যতা তৈরি হয়েছে: রিজভী
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৩ অক্টোবর)