ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় আসন্ন নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়: প্রধান উপদেষ্টা
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে সামনে আসা জাতীয় নির্বাচনকে “নতুন বাংলাদেশের যাত্রা” হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনকে সর্বাঙ্গসুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং এজন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
শুক্রবার সশস্ত্র বাহিনী দিবস ২০২৫ উপলক্ষে সেনাকুঞ্জে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় সামনের নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। একটি নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে তিনি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা থেকে শুরু করে দুর্যোগ মোকাবিলা ও রাষ্ট্র গঠনে সশস্ত্র বাহিনী সবসময় জনগণের পাশে থেকেছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর চলমান পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায়ও বাহিনী জনগণের আস্থা অর্জন করে দায়িত্ব পালন করছে। তিনি বিশ্বাস করেন, গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের প্রতি অনুগত সশস্ত্র বাহিনী দেশের প্রতি তাদের ত্যাগ ও পেশাদারিত্বের ধারাবাহিকতা ধরে রাখবে।
সরকার প্রধান আরও উল্লেখ করেন, শান্তিপ্রিয় জাতি হিসেবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্মানজনক সহাবস্থান চায়, তবে যেকোনো বহিঃশত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীকে সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে। এজন্য বাহিনীগুলোর আধুনিকায়ন, বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ এবং যুগোপযোগী প্রযুক্তি সংযোজনের প্রক্রিয়া চলমান বলে তিনি জানান।
ফ্যাসিস্ট আমলে সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি উপেক্ষিত ছিল বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বাহিনীদের সক্ষমতা বাড়াতে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি দেশরক্ষা ও জনকল্যাণে ছাত্র ও যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করতে বিএনসি কার্যক্রম বহুগুণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা দেশের প্রতিরক্ষা শক্তিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সশস্ত্র বাহিনীর জন্ম ও বীরত্বের ইতিহাস সগর্বে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সম্মিলিত অভিযানের ফলেই ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় আসে এবং তাদের অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বিশ্ব শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের অবদান তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ৩৭ বছরে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা ৪৩টি দেশে ৬৩টি মিশন সম্পন্ন করেছে, আর বর্তমানে ১০টি মিশনে কাজ করছে। নারী শান্তিরক্ষী প্রেরণেও বাংলাদেশ বিশ্বে অন্যতম শীর্ষ দেশ। শান্তিরক্ষীদের প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
শেষে তিনি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ও তাদের পরিবারের কল্যাণ কামনা করেন এবং দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- তিন ছাত্রদল নেতাকে ষষ্ঠ গ্রেডে নিয়োগ দিল সরকার
- জাবিতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে কারাদণ্ড
- নবম জাতীয় পে-স্কেল, কাটছাঁটের পর যত টাকা লাগছে?
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ভর্তি আবেদনের সময়সূচি প্রকাশ
- শাবিপ্রবির নতুন ভিসি ড. খায়রুল ইসলাম
- দেশে কমলো সোনার দাম, ভরি কত?
- রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প
- আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ঢাবি শিক্ষার্থীদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন
- সোমবার টানা ৯ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়
- আজ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে মাদ্রাসা শিক্ষকদের পদযাত্রা
- ঢাবিতে মাদারীপুর সদর ছাত্র কল্যাণ সমিতির নতুন কমিটি ঘোষণা
- শোলাকিয়া থেকে জাতীয় ঈদগাহ কোথায় কখন ঈদের জামাত, জেনে নিন বিস্তারিত
- ৭ কোটি মানুষ চরম সংকটের মুখে রয়েছে: পানিসম্পদ মন্ত্রী
- জাল সনদে নিয়োগ: ৬৩ শিক্ষককে শোকজ মাউশির
- কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিশ্ব সুসংবাদ শুনতে পারে: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী