ঢাকা, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ইস্তানবুলে পাকিস্তান-আফগান সংলাপ ব্যর্থ, কোনো চুক্তি হয়নি
ইস্তানবুলে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের তৃতীয় শান্তি সংলাপ কোনো চূড়ান্ত চুক্তি বা লিখিত সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহম্মদ আসিফ বিষয়টি পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজকে নিশ্চিত করেছেন এবং সংলাপকে ‘অচলাবস্থা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তিনি বলেন, একটা পরিপূর্ণ অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। আমাদের সংলাপ অনির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর আর কোনো ভবিষ্যৎ নেই।
গত বৃহস্পতিবার ইস্তানবুলে শুরু হওয়া তৃতীয় দফার সংলাপে দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছিলেন। সংলাপের মাধ্যমে শান্তি চুক্তি করার পরিকল্পনা ছিল, তবে তা কার্যকর হয়নি। এই প্রক্রিয়ায় সংলাপ প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে সংলাপের টেবিলে বসাতে কাতার ও তুরস্ক ব্যাপক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়েছে। খাজা আসিফ সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন, আমরা সন্ত্রাসের মূল উৎস ধ্বংস করার জন্য আফগানিস্তানের সহযোগিতা চেয়েছিলাম। কাতার ও তুরস্ক আমাদের অবস্থানকে সমর্থন করেছে। আফগান প্রতিনিধিরাও প্রাথমিকভাবে আমাদের সঙ্গে একমত হয়েছিল। কিন্তু শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের সময় তারা পিছিয়ে গেল।
তিনি আরও বলেন, তারা চায় যে আমরা তাদের মৌখিক প্রতিশ্রুতিতে আস্থা রাখি। কিন্তু আন্তর্জাতিক আলোচনায় চুক্তি বা সমঝোতা ছাড়া এটি সম্ভব নয়।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্কের তিক্ততার মূল কারণ হল তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। তালেবানপন্থি এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর ধারাবাহিক হামলায় পাকিস্তানে গত কয়েক বছরে হাজার হাজার সামরিক ও বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। ২০২১ সালে তালেবান বাহিনী কাবুল দখল করার পর থেকে গোষ্ঠীটি আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া রাজ্য টিটিপির প্রধান ঘাঁটি। তাদের মূল লক্ষ্য এই অঞ্চলে আফগানিস্তানের আদলে একটি কট্টর ইসলামপন্থি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। আফগানিস্তান থেকে এদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ পাকিস্তান বারবার করেছে, তবে কাবুল বরাবরই তা অস্বীকার করেছে।
গত ৯ অক্টোবর পাকিস্তান সেনাবাহিনী কাবুলে বিমান অভিযান চালিয়ে টিটিপির শীর্ষ নেতা নূর ওয়ালি মেহসুদ এবং অন্যান্য নেতাদের হত্যা করে। ২ দিন পর আফগান সেনাবাহিনী সীমান্তবর্তী পাকিস্তানি চৌকিগুলোতে হামলা চালায়, যা পাকিস্তানের পাল্টা জবাবের সঙ্গে মিলিত হয়ে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত সংঘাতের রূপ নেয়। পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সংঘাতে আফগান সেনা ২০০ জন এবং পাকিস্তানি সেনা ২৩ জন নিহত হয়।
চার দিন চলা সংঘাতের পর ১৫ অক্টোবর দুই দেশ ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির মধ্যে দোহায় কাতারের মাধ্যমে সংলাপ শুরু করে। পরে সংলাপের স্থানান্তর হয় তুরস্কের ইস্তানবুলে। তবে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর কর্মকর্তারাও হতাশ হন।
খাজা আসিফ বলেন, “আমাদের অবস্থান স্পষ্ট ও দৃঢ়। আমরা চাইছিলাম আফগান ভূখণ্ড যেন পাকিস্তানে হামলার জন্য ব্যবহার না হয়। কাবুল আমাদের এই প্রতিশ্রুতি দিতে পারেনি। ভবিষ্যতে যদি আফগান ভূখণ্ড থেকে পাকিস্তানে হামলা ঘটে, আমরা উপযুক্ত জবাব দেব।
কেএমএ
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- পে স্কেল নিয়ে ৭ দাবি সরকারি কর্মচারীদের
- চলছে বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান ম্যাচ: সরাসরি দেখুন এখানে
- প্রথমবারের মতো নিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপাচার্য পেলো কুবি
- শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের ভিডিও ধারণ ও আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ
- ৫৪ জেলায় টিসিবির ডিলার নিয়োগ, আবেদন শুরু ১০ মে
- পে স্কেলের প্রস্তাবিত গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামো প্রকাশ
- ঢাবির নতুন প্রক্টর অধ্যাপক ইসরাফিল
- রবির মুনাফায় আকাশচুম্বী প্রবৃদ্ধি, ব্যাকফুটে শিপিং কর্পোরেশন
- বাংলাদেশিদের স্কলারশিপ দেবে যুক্তরাষ্ট্রের সিমন্স ইউনিভার্সিটি, আবেদন শুরু
- আজ সন্ধ্যায় সাদিক কায়েমের বিয়ে
- ঈদকে সামনে রেখে মুনাফা তুলছেন বিনিয়োগকারীরা
- পদত্যাগ করলেন ঢাবি শিক্ষক মোনামি
- এমপিও শিক্ষকদের ঈদ বোনাস কবে, যা জানা গেল
- ঢাকাসহ ১৭ জেলায় রাতের ঝড়ের সতর্কতা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর
- বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৫ চেয়ারম্যান ও ৭ ডিনের পদত্যাগ, নেপথ্যে কী?