ঢাকা, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২
ভারতের আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ চুক্তি প্রসঙ্গে যা বললেন জ্বালানি উপদেষ্টা
নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতের আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ চুক্তি প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, চুক্তিতে দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হয়নি এমন স্বীকারোক্তি থাকলেও, তা লঙ্ঘিত হলে চুক্তি বাতিল করা সম্ভব। জাতীয় কমিটি আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এবং অধ্যাপক মোশতাক হোসেন খান জানান, আদানির চুক্তিতে ব্যাপক দুর্নীতির প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং মাসখানেকের মধ্যে আরও তথ্য প্রকাশ পাবে।
রোববার (২ নভেম্বর) সচিবালয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংক্রান্ত চুক্তিগুলো পর্যালোচনার লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় কমিটির ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। তিনি বলেন, চুক্তি বাতিলের একটি প্রক্রিয়া রয়েছে; কারণ দেখিয়ে বা কারণ ছাড়া দুইভাবেই চুক্তি বাতিল করা যায়, তবে কারণ ছাড়া বাতিল করলে ক্ষতিপূরণ দিতে হয়।
ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের ‘ফ্যাকাল্টি অব ল অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সে’র অধ্যাপক (অর্থনীতি) মোশতাক হোসেন খান বলেন, যে চুক্তিগুলো হয়েছে সেগুলো সার্বভৌম চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত। যদি কোনো কারচুপি প্রমাণিত হয়, তবে ইচ্ছামতো বাতিল করা যাবে না, কারণ এতে আন্তর্জাতিক আদালত থেকে বড় জরিমানা আসতে পারে। তাই পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে প্রক্রিয়াগুলো যাচাই করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, "আপনারা আগামী মাস খানেকের মধ্যে আরও অনেক দুর্নীতির তথ্য পাবেন। এখানে ব্যাপক দুর্নীতি, এই দুর্নীতি আমাদের রোধ করতেই হবে। এটাকে মেনে নেওয়া বা সহ্য করা সম্ভব নয়।"
অধ্যাপক মোশতাক হোসেন খান বলেন, এই দুর্নীতির কারণে ইতোমধ্যে আমাদের দেশে বিদ্যুতের দাম প্রতিযোগীদের চেয়ে ২৫ শতাংশ বেশি হয়ে গেছে, যা সাবসিডিগুলো সরিয়ে দিলে ৪০ শতাংশে দাঁড়াবে। এই দামে বাংলাদেশের শিল্প প্রতিষ্ঠান টিকতে পারবে না। তিনি উল্লেখ করেন, তাদের প্রতিবেদনে ভুলগুলো কোথায় করা হয়েছে এবং কিভাবে ওপর থেকে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে, তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর মাশুল দিচ্ছে সাধারণ ভোক্তা ও করদাতারা। যারা টাকা নিয়ে চলে গেছে, তাদের পার পেতে দেওয়া হবে না এবং প্রমাণ সংগ্রহ করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, আদানির চুক্তি নিয়ে দ্বিতীয় আরেকটি রিট পিটিশন হয়েছে এবং আদালত দুদকসহ সংশ্লিষ্টদের ৬০ দিনের মধ্যে তদন্ত করে আদালতে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, মাস খানেকের মধ্যে এই দুর্নীতির শক্ত প্রমাণ পাওয়া যাবে। এরপর আদানি এবং এর সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকটি বড় কোম্পানির বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে আইনি প্রক্রিয়া চালু করা হবে।
বিশ্বব্যাংকের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ও অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ কেনার চুক্তিগুলো এবং এর পেছনের চিঠি আদান-প্রদান খতিয়ে দেখা হয়েছে। ২০০৮-০৯ থেকে ২০২৪ অর্থবছর পর্যন্ত অর্থ পরিষদের তথ্যপত্র বিশ্লেষণ করে তারা দেখেছেন যে, ২০১১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত বিদ্যুতের উৎপাদন চার গুণ বাড়লেও অর্থ পরিশোধ বেড়েছে ১১.১ গুণ, যা কোনো প্রযুক্তিগত কারণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। ২০১১ সালে ৬৩৮ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা হলেও, ২০২৪-এ তা ৭.৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিশেষ বিধান আইনে বারবার মেয়াদ বাড়ানো এবং দায়মুক্তির পথ খুলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, ক্ষমতা কেন্দ্রীভূতকরণ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ অন্যান্য দপ্তরের জড়িত থাকার সমস্যাও চোখে পড়েছে।
এসপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিশেষ নির্দেশনা জারি
- অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত নিয়ে যা জানা গেল
- অস্তিত্ব সংকটে ৩৭ কোম্পানি: অডিটরদের ‘লাল সংকেত’
- গুচ্ছ ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি ফল প্রকাশ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৭ এপ্রিল)
- টানা ৫ দিনের বড় ছুটিতে যাচ্ছে স্কুল-কলেজ
- ৪.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে টের পেল বাংলাদেশ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৫ এপ্রিল)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১০ এপ্রিল)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৮ এপ্রিল)
- বিভাজন নয়, ভ্রাতৃত্বের বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান মির্জা ফখরুলের
- আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপে ব্রাজিল
- অনলাইন ক্লাস হতে পারে যেসব স্কুল-কলেজে
- রবি আজিয়াটার বিরুদ্ধে বিএসইসির আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু
- সংসদে তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের অনুমোদন