ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বিএনপি না জামায়াত? নির্বাচনী জটিলতায় এনসিপি’র জোট কোন পথে
নিজস্ব প্রতিবেদক :আগামী জাতীয় নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা না হওয়া সত্ত্বেও দেশের রাজনীতিতে জোটকেন্দ্রিক আলোচনার তীব্রতা বেড়েছে। বিশেষ করে গণঅভ্যুত্থানকালীন ছাত্রদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কোন শীর্ষ রাজনৈতিক জোটের সঙ্গে আসন সমঝোতা করবে তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা রকম সমালোচনা ও অনুমান চলছে। এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যেই দলটি বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় জড়িত, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।
এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে দুই দিকের মত বিরাজ করছে। একটি পক্ষ বিএনপির সঙ্গে আসন ভাগাভাগি বা নির্বাচনী জোটে অংশ নেওয়ার পক্ষে, যেখানে তারা অন্তত ৩০-৪০টি আসনের ছাড় পেলে জোটে যাওয়ার কথা বিবেচনা করবে। অন্যদিকে দলটির আরেকটি অংশ জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়ে দ্বিধা প্রকাশ করছে, কারণ জোটের কারণে দলের স্বাধীনতা সীমিত হতে পারে এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে জামায়াতের বিদ্রোহী অংশ দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এনসিপি যদি তাদের জনপ্রিয়তা যাচাই করতে চায়, তবে এককভাবে ভোটের মাঠে অংশ নেওয়াই উত্তম। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, “নতুন দল হিসেবে এনসিপি এককভাবে ভোটে অংশ নিলে তাদের সাংগঠনিক শক্তি ও জনগণের গ্রহণযোগ্যতা সঠিকভাবে পরিমাপ করা সম্ভব হবে।”
এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, “আমরা কার সঙ্গে জোট বা আসন সমঝোতা করব, এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরে সিদ্ধান্ত নেব।” এনসিপি গঠনের পর থেকে জামায়াতের সঙ্গে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও বিএনপির সঙ্গে দলটির সম্পর্ক সবসময় উত্তেজনাপূর্ণ রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান এবং অন্যান্য রাজনৈতিক ইস্যুতে এনসিপি-বিএনপির মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে।
জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার ক্ষেত্রেও দলের মধ্যে বিভক্তি বিদ্যমান। কিছু নেতা মনে করছেন, নির্বাচনের মাঠে যদি জামায়াতের সঙ্গে জোট বা আসন সমঝোতা হয়, তাহলে সুবিধা পাওয়া যাবে, কিন্তু অন্যরা মনে করেন, জামায়াতের সঙ্গে জোটে যাওয়ায় রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষতি হতে পারে। এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত জামায়াতসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির এক নেতা জানান, পিআর বা আনুপাতিক নির্বাচনী পদ্ধতির বাস্তবায়ন হলে দলটি এককভাবে বা মধ্যপন্থী জোট গঠনের পরিকল্পনা করছে। দলটি চাইছে, এমন পরিস্থিতিতে তারা নিজেদের স্বাধীনভাবে নির্বাচনী কৌশল প্রয়োগ করতে পারবে এবং নির্বাচনের মাঠে তাদের জনপ্রিয়তা যাচাই হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোটের মাঠে এনসিপি নতুন দল হিসেবে উপস্থিত, তাই বড় কোনও দলের সঙ্গে জোটে গেলে তাদের জনপ্রিয়তা ও স্বতন্ত্র রাজনৈতিক ভাবমূর্তি যাচাই করা কঠিন হবে। এ কারণে দলের জন্য এককভাবে নির্বাচন করাই অধিক উপযোগী মনে হচ্ছে। এনসিপির মধ্যে এখনও নানা বৈঠক ও আলোচনা চললেও জোট ও সমঝোতা বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, যা নির্বাচনী প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
ডুয়া/নয়ন
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- রামিসা হ'ত্যাকাণ্ডে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
- তিন ছাত্রদল নেতাকে ষষ্ঠ গ্রেডে নিয়োগ দিল সরকার
- আজ বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশনের ৯০তম বৈঠক
- জাবিতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে কারাদণ্ড
- নবম জাতীয় পে-স্কেল, কাটছাঁটের পর যত টাকা লাগছে?
- দেশে কমল সোনার দাম, ভরি কত?
- পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের ওবিসি সুবিধা বাতিলের ঘোষণা
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ভর্তি আবেদনের সময়সূচি প্রকাশ
- ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণে অংশ নিলেই মিলবে দৈনিক ২০০ টাকা ভাতা
- শিক্ষকদের ঈদ ভাতা নিয়ে যা জানাল মাউশি
- শাবিপ্রবির নতুন ভিসি ড. খায়রুল ইসলাম
- উপাচার্যের হোয়াটসঅ্যাপ থেকে টাকা চেয়ে ভুয়া বার্তা
- ঢাকার আবহাওয়া নিয়ে দুঃসংবাদ
- গরু-মহিষ কোরবানি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিধিনিষেধ বহাল
- ‘নতুন ধরন, নতুন ধারণা’ স্লোগানে আত্মপ্রকাশ করল দৈনিক আগামীর সময়