ঢাকা, শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২

ভিসা বন্ডে আটকে যেতে পারে বাংলাদেশিদের আমেরিকা স্বপ্ন

২০২৬ জানুয়ারি ১০ ২২:২৬:৩৫

ভিসা বন্ডে আটকে যেতে পারে বাংলাদেশিদের আমেরিকা স্বপ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করা বাংলাদেশিদের জন্য নতুন করে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মার্কিন সরকারের ঘোষিত ‘ভিসা বন্ড’ ব্যবস্থা। এই নীতির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আগে নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের অতিরিক্ত অর্থ জমা দিতে হবে। ফলে পর্যটন, শিক্ষা, ব্যবসা কিংবা পারিবারিক প্রয়োজনে আমেরিকা যেতে আগ্রহীদের জন্য ভ্রমণ আরও কঠিন ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, অভিবাসন আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং ভিসার শর্ত লঙ্ঘন রোধ করতেই এই নতুন নীতি চালু করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের পথ অনেকের জন্য প্রায় বন্ধ করে দেবে।

কী এই ভিসা বন্ড, কেন চালু

ভিসা বন্ড হলো একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ, যা যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে জামানত হিসেবে জমা দিতে হবে। ভ্রমণ শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে এই অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে। তবে কেউ যদি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সেখানে অবস্থান করেন বা নিয়ম ভঙ্গ করেন, তাহলে সেই অর্থ বাজেয়াপ্ত হতে পারে।

মার্কিন কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ভিসা ওভারস্টে ঠেকানো এবং নিয়ম মানতে বাধ্য করাই এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য।

বাংলাদেশিদের ওপর বাড়ছে আর্থিক চাপ

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের নাগরিকদের জন্য এই ভিসা বন্ড কার্যত নতুন এক আর্থিক বাধা তৈরি করেছে। ভিসা ফি, বিমানভাড়া, ভ্রমণ বিমা ও থাকা-খাওয়ার খরচের সঙ্গে অতিরিক্ত বন্ড যোগ হওয়ায় মোট ব্যয় অনেকের সাধ্যের বাইরে চলে যেতে পারে।

বিশেষ করে শিক্ষার্থী, সাধারণ পর্যটক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শিক্ষা ও ব্যবসায় সম্ভাব্য প্রভাব

উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি ব্যবসায়িক সম্মেলন, প্রশিক্ষণ ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত কাজে নিয়মিত বাংলাদেশিরা সেখানে যাতায়াত করেন।

নতুন বন্ড ব্যবস্থার কারণে শিক্ষার্থীরা বিকল্প দেশ বেছে নিতে পারেন এবং ব্যবসায়ীরাও আন্তর্জাতিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আগ্রহ হারাতে পারেন—এমন আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাংস্কৃতিক ও পেশাগত যোগাযোগে ধাক্কা

এই নীতি শুধু ভ্রমণ সীমাবদ্ধ করবে না, বরং দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক, শিক্ষাগত ও পেশাগত বিনিময়েও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। গবেষণা, উদ্যোক্তা কার্যক্রম ও যৌথ প্রকল্পে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অর্থনীতিতেও পড়তে পারে প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এই নীতির প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বাংলাদেশিদের সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থান বা ব্যবসায়িক সংযোগ কমে গেলে রেমিট্যান্স ও বিনিয়োগের প্রবাহও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ভবিষ্যতে আরও দেশ যুক্ত হওয়ার শঙ্কা

বর্তমানে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশ এই ভিসা বন্ড ব্যবস্থার আওতায় এলেও ভবিষ্যতে আরও দেশ যুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেসব দেশের ভিসা ওভারস্টের হার বেশি, তাদের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।

সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে ভিসা বন্ড বাংলাদেশিদের জন্য এক নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। নিয়ম মেনে টাকা ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকলেও শুরুতেই বড় অঙ্কের অর্থ জোগাড় করা অনেকের পক্ষেই কঠিন। ফলে শিক্ষা, ব্যবসা ও ভ্রমণ—সব ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্রের দরজা বাংলাদেশিদের জন্য আরও সংকীর্ণ হয়ে আসছে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত