ঢাকা, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
যুদ্ধবিরতির আলো: গাজার ঘরে প্রত্যাবাসন শুরু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। ফলে দখলদার সেনারা গাজার কিছু অংশ থেকে পিছু হটতে শুরু করেছে এবং অবরুদ্ধ উপত্যকায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। শুক্রবার হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি তাদের পরিত্যক্ত বাড়িঘরে ফিরতে শুরু করেছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলের নির্মম সামরিক অভিযানের শিকার গাজা সিটি। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ধুলোমাখা পথে বিশাল এক বাস্তুচ্যুত মানুষের স্রোত শহরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। গাজা সিটির শেখ রাদওয়ান এলাকার ৪০ বছর বয়সী ইসমাইল জায়দা জানিয়েছেন, তার বাড়ি এখনও দাঁড়িয়েছে, তবে চারপাশ ধ্বংস হয়ে গেছে।
স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়। এর ফলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গাজায় আংশিক সেনা প্রত্যাহার এবং পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ স্থগিতের পথ সুগম হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, হামাস ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জীবিত থাকা ২০ জন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেবে, আর ইসরায়েল কারাগার থেকে ২৫০ জন দীর্ঘমেয়াদি সাজাপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেবে। এছাড়াও গাজায় আটক ১৭০০ জনকে মুক্তি দেওয়া হবে।
যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সঙ্গে গাজায় শত শত ট্রাক ভর্তি খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছাবে। ইসরায়েলি বাহিনীর আক্রমণে ঘরবাড়ি হারানো ও তাঁবুতে আশ্রয় নেওয়া লাখ লাখ বেসামরিক মানুষের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গাজার প্রধান শহরাঞ্চল থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে, তবে উপত্যকার প্রায় অর্ধেক এলাকার নিয়ন্ত্রণ ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে থাকবে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, গাজা সামরিকীকরণমুক্ত হবে এবং হামাসকে অস্ত্র সমর্পণ করতে হবে; প্রয়োজনে কঠিন পথে লক্ষ্য অর্জন করা হবে।
গাজার দক্ষিণে খান ইউনিসে কিছু ইসরায়েলি সেনা সীমান্ত সংলগ্ন পূর্বাঞ্চল থেকে পিছু হটেছে। তবে এখনও কোথাও কোথাও গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। নুসিরাত ক্যাম্পে কিছু সেনাকে পূর্ব ইসরাইল সীমান্তের দিকে সরানো হয়েছে, তবে অন্যান্য সেনারা অবস্থান করছে।
গাজার দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে বাসিন্দারা বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন। মাহদি সাকলা জানিয়েছেন, যদিও বাড়ি নেই, ধ্বংসস্তূপের ওপর ফিরতেও আনন্দিত। হামাসের নির্বাসিত প্রধান খলিল আল-হায়া জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা পেয়েছেন।
এই সংঘাত ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা বাড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে, ইরান, ইয়েমেন ও লেবানন জড়িয়ে পড়েছে। ৬৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। তবে বন্দিদের মুক্তি তালিকা প্রকাশ এবং গাজার ভবিষ্যৎ শাসন সংক্রান্ত বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। হামাস এখনও ইসরায়েলের নিরস্ত্রীকরণের দাবি মেনে নেনি।
ডুয়া/নয়ন
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ১১-২০ গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষায় নতুন মানবণ্টন
- ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সিরাজুল হক আর নেই
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৪ সেপ্টেম্বর)
- নব্বইয়ের দশকের রেট্রো ছবি বানাবেন যেভাবে, জেনে নিন ১০ AI প্রম্পট
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৬ সেপ্টেম্বর)
- মেসির দুই সহায়তাতেও আটলান্টার সঙ্গে ড্র ইন্টার মিয়ামির
- ‘সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিলটি কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক’
- ফেল বিরোধীদলের ওয়াকআউট
- পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সুখবর দিল মন্ত্রণালয়
- ‘ছয় মাসে জুলাই সনদের একটি অক্ষরও বাস্তবায়ন করেনি বিএনপি’
- ফের বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ল
- ঢাবিতে গ্রিন নেক্সাস কর্মসূচি সমাপ্ত
- মেসির ১০ নম্বর জার্সি কি অবসর নিতে পারবে?
- শুক্রবার ঢাকার যেসব মার্কেট-দোকানপাট বন্ধ
- ব্যালন ডি’অর ২০২৬-এর ৩০ ফুটবলারের তালিকা প্রকাশ