ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩০ মাঘ ১৪৩২
ঢাবির ডিগ্রি বিদেশে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে
মো: আবু তাহের নয়ন :দেশের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যাকে ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ বলা হয়, সম্প্রতি আন্তর্জাতিক শিক্ষামূল্যায়নে নতুনভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক-স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়া একজন শিক্ষার্থী শামসুল ইসলাম (ছদ্মনাম) সিঙ্গাপুরে তার এমপ্লয়মেন্ট পাস নবায়নের জন্য আবেদন করেছিলেন। সিঙ্গাপুরের জনশক্তি মন্ত্রণালয় তার স্নাতকোত্তর ডিগ্রিকে যুক্তরাজ্যের মান অনুযায়ী স্নাতক সমমানের এবং স্নাতক ডিগ্রিকে ফাউন্ডেশন কোর্স সমমান হিসেবে মূল্যায়ন করেছে। ফলে শিক্ষার্থী কোনো পয়েন্ট পাননি এবং নবায়নের প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে।
শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত সনদকেও সিঙ্গাপুরে ‘ডিপ্লোমা’ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা এমপ্লয়মেন্ট পাসের নির্ধারিত পয়েন্ট থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একই ধরনের সমস্যা যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশেও দেখা যাচ্ছে, বিশেষত সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়গুলোতে। শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে মান নিশ্চিতকরণ, কারিকুলামের আধুনিকীকরণ ও আন্তর্জাতিক অ্যাক্রেডিটেশন সংস্থার সঙ্গে সমঝোতা করা জরুরি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. এসএম হাফিজুর রহমান বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে আমাদের শিক্ষার্থীরা মেধার স্বাক্ষর রাখছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি হলেও গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ নেই এবং ওয়েবসাইটে কারিকুলামের তথ্য নিয়মিত আপডেট হয় না। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে অ্যাক্রেডিটেশন গুরুত্বপূর্ণ।’
দেশের ১৭১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সরকারি ৫৬টি ও বেসরকারি ১১৫টি। আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠান ৫০০ সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে নেই। কিউএস র্যাংকিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৫৮৪তম অবস্থানে রয়েছে। টাইমস হায়ার এডুকেশনেও কোনো বাংলাদেশি বিশ্ববিদ্যালয় সেরা ৫০০-এ নেই।
বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও এখনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়কে সনদ দেয়নি। পাঁচটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন প্রক্রিয়াধীন। সংস্থার চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেসবাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘উচ্চশিক্ষায় মান নিশ্চিত করতে অ্যাক্রেডিটেশন বাধ্যতামূলক করা গেলে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা সম্ভব।’
ডেনমার্কের উচ্চশিক্ষা ও বিজ্ঞান মন্ত্রণালয়ের জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও অনেকেই শিক্ষাগত মান অনুযায়ী পিছিয়ে থাকছেন। এতে ভবিষ্যতে ভিসা প্রাপ্তিতে কঠিন শর্ত আরোপ হতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এসএমএ ফায়েজ বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে আমাদের শিক্ষার্থীরা ভালো করছে। তবে বিদেশের কিছু দেশে পিএইচডি গ্রহণের আগে অতিরিক্ত কোর্স নিতে হয়। সমস্যা শুধুই বাংলাদেশে নয়।’
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত না করা উচ্চশিক্ষায় সংকটের মূল কারণ। দেশের উচ্চশিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী উন্নত করতে সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।
ডুয়া/নয়ন
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- পাকিস্তান বনাম যুক্তরাষ্ট্র: কখন, কোথায় সরাসরি Live দেখবেন জানুন
- বিশ্বরেকর্ড জুটিতে আমিরাতকে ১০ উইকেটে উড়াল নিউজিল্যান্ড
- ইপিএস প্রকাশ করেছে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বে লিজিং
- টানা ৫ দিনের ছুটি পাচ্ছে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
- ৩৬০ মিটার, মোবাইল নিষেধাজ্ঞা ও ক্ষমতার রাজনীতি: নিরাপত্তার নামে কতটা নিয়ন্ত্রণ গ্রহণযোগ্য?
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬: জেনে নিন সরাসরি দেখার উপায়
- ডিইউপিএস-এর ২৩তম কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা: সভাপতি আবীর, সম্পাদক হাসিব
- ৪ দিন ইন্টারনেট ব্যাংকিং বন্ধ ঘোষণা
- এক নজরে দেখে নিন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরিবর্তিত সময়সূচি
- সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ ফাইনাল: ভারত বনাম বাংলাদেশ ম্যাচের চূড়ান্ত ফলাফল জানুন
- ঢাকা-১৩ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, জরিপে এগিয়ে ববি হাজ্জাজ
- বিএনপি দুই নেতার শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের হুলস্থুল
- নির্বাচনে যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করল সরকার