ঢাকা, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
জিডিপির ২৩৫% ছাড়াল বৈশ্বিক ঋণ: আইএমএফের সতর্কবার্তা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্ব অর্থনীতি আবারও নতুন এক দ্বন্দ্বে পড়েছে—একদিকে সরকারি ঋণের চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে বেসরকারি ঋণ ক্রমেই কমছে। এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সর্বশেষ গ্লোবাল ডেট ডেটাবেজ প্রতিবেদন বলছে, বর্তমানে বৈশ্বিক ঋণ বিশ্ব জিডিপির ২৩৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।
প্রতিবেদনের তথ্যে দেখা যায়, গত বছর বৈশ্বিক ঋণ দাঁড়ায় প্রায় ২৫১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে। এর মধ্যে সরকারি ঋণ বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৯৯ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারে, অন্যদিকে বেসরকারি ঋণ নেমে যায় ১৫১ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলারে, যা ২০১৫ সালের পর সর্বনিম্ন।
সরকারি ঋণ বাড়ার পেছনে দায়ী করা হয়েছে কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ের আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম, বাজেট ঘাটতি, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয় এবং উচ্চ সুদের হারকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি ঋণ এখন জিডিপির ১২১ শতাংশ এবং চীনে তা ৮৮ শতাংশ। তবে জাপান ও গ্রিসের মতো কিছু উন্নত অর্থনীতিতে সরকারি ঋণ কমেছে, যা গড় প্রবণতাকে খানিকটা ভারসাম্যে এনেছে।
আইএমএফ সতর্ক করেছে, সরকারি ঋণের এই প্রবণতা ‘ক্রাউডিং-আউট’ প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে। অর্থাৎ, সরকারের অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণের ফলে বেসরকারি খাত ঋণের সুযোগ কম পায়, সুদের হার বেড়ে যায় এবং বিনিয়োগ কমে যায়।
অন্যদিকে, বেসরকারি ঋণের চিত্র দেশভেদে ভিন্ন। উন্নত দেশগুলোতে—যেমন যুক্তরাষ্ট্রে—বেসরকারি ঋণ জিডিপির প্রায় ৪.৫ শতাংশ কমেছে। এর কারণ হিসেবে করপোরেট খাতের আর্থিক শক্তিশালী অবস্থা এবং দুর্বল প্রবৃদ্ধির আশঙ্কায় নতুন বিনিয়োগ এড়িয়ে যাওয়া উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ভারত, ব্রাজিল ও মেক্সিকোর মতো উদীয়মান অর্থনীতিতে বেসরকারি ঋণ বেড়েছে। চীনে করপোরেট ঋণ বৃদ্ধি পেলেও পারিবারিক ঋণ কমেছে আবাসন খাতের মন্দা এবং চাকরির অনিশ্চয়তার কারণে।
ভবিষ্যৎ করণীয় হিসেবে আইএমএফ বলছে, দেশগুলোকে বাস্তবসম্মত মধ্যম-মেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। ধীরে ধীরে রাজস্ব সমন্বয় করে সরকারি ঋণ কমাতে হবে এবং এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে যা প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগকে উৎসাহিত করে। অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারি ঋণের বোঝা ও বেসরকারি বিনিয়োগের স্থবিরতা মিলিয়ে বিশ্ব অর্থনীতি এক সূক্ষ্ম ভারসাম্যহীনতার মধ্যে রয়েছে। আগামী দিনে নীতিনির্ধারকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে সরকারি ব্যয় ও বেসরকারি বিনিয়োগের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য রক্ষা করা।
এমজে
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম সান মারিনো ম্যাচ: সরাসরি দেখা যাবে এখানে LIVE
- বাংলাদেশ বনাম সান মারিনো ফুটবল ম্যাচ, দেখুন একাদশ-দেখার উপায়
- বাংলাদেশ বনাম ভারতের ফুটবল ম্যাচ: সরাসরি দেখুন (LIVE)
- বাংলাদেশ বনাম সান মারিনোর ম্যাচটি শেষ-দেখুন ফলাফল
- ঢাবি অ্যালামনাই ইউকে শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা
- ঢাবি শিক্ষককে বিয়ে করলেন দীপ্তি চৌধুরী
- বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তানের ফুটবল ম্যাচ: এক ক্লিকে সরাসরি দেখুন
- আজ রাত ৮ টায় ভারত বনাম বাংলাদেশের ফুটবল ম্যাচ, কোথায় ও যেভাবে দেখবেন?
- বাংলাদেশ বনাম সান মারিনোম্যাচ: এক ক্লিকে সরাসরি দেখুন এখানে
- আজ বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তান ম্যাচ: সরাসরি দেখবেন যেভাবে
- পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই: ড. নিয়াজ আহমদ
- ঢাবির এসএম হলের নতুন প্রভোস্ট অধ্যাপক আবদুস সালাম
- মাসিক ফি দিয়ে ব্যবহার করতে হবে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম
- নতুন পে-স্কেলে কার বেতন কত বাড়তে পারে? আলোচনায় দুটি প্রস্তাব
- ডিএসইতে রেকর্ড উত্থান, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাড়ছে প্রত্যাশা