ঢাকা, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
ডেঙ্গুর পাশাপাশি চার ভাইরাসের প্রভাব, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি
ডুয়া ডেস্ক: বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতার ঘাটতি, দেরিতে চিকিৎসা এবং জটিল রোগ নির্ণয়ে বিলম্ব মৃত্যুহার বাড়াচ্ছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে হাসপাতালগুলোতে চাপ বাড়ছে রোগীর, আর জনস্বাস্থ্যের জন্য এটি পরিণত হয়েছে এক বড় হুমকিতে।
এদিকে সোমবার নতুন করে আরও পাঁচজনের মৃত্যু যোগ হওয়ায় এ বছর এ পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫৫ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মৃত্যুর পরিসংখ্যান নিম্নরূপ— জানুয়ারিতে ১০, ফেব্রুয়ারিতে ৩, মার্চে শূন্য, এপ্রিলে ৭, মে মাসে ৩, জুনে ১৯, জুলাইয়ে ৪১, আগস্টে ৩৯ এবং সেপ্টেম্বরে (১৪ তারিখ পর্যন্ত) ৩৩ জন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় সবচেয়ে বেশি ৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে মৃত্যু ২১ জন করে এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মারা গেছেন ১৭ জন।
অন্যদিকে, সোমবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন নতুন করে ৬৩৬ জন রোগী। ফলে এ বছর এখন পর্যন্ত সারাদেশে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮ হাজার ৫২৭ জনে।
মৃত্যুহার বাড়ার কারণ কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এইচ এম নাজমুল আহসানের মতে, মৃত্যুহার বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে— দেরিতে হাসপাতালে আসা, রোগ নিয়ে মানুষের উদ্বেগ কমে যাওয়া, আগের মতো গুরুত্ব না দেওয়া, একসঙ্গে অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হওয়া এবং ঢাকায় রোগী রেফার করতে দেরি করা।
তিনি বলেন, এ বছর আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও মৃত্যুহার বেড়েছে। কারণ, অন্যান্য ভাইরাসজনিত সংক্রমণে মানুষ ডেঙ্গুকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না। বর্তমানে দেশে ডেঙ্গুর পাশাপাশি ইনফ্লুয়েঞ্জা, চিকুনগুনিয়া ও কোভিড-১৯ ছড়াচ্ছে।
দেরিতে রেফার ও জটিলতা
ডা. নাজমুল আহসান জানান, অনেক রোগী গুরুতর পেটব্যথা, শ্বাসকষ্ট, রক্তক্ষরণ, তীব্র অবসাদ, প্রস্রাব কমে যাওয়া বা দ্রুত প্লাটিলেট হ্রাসের মতো বিপজ্জনক লক্ষণগুলোকে অবহেলা করেন। ফলে হাসপাতালে পৌঁছাতে দেরি হলে তাদের অবস্থা জটিল হয়ে পড়ে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, বিশেষ করে বয়স্ক, একাধিক রোগে আক্রান্ত ও সন্তানসম্ভবা নারীদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে। কারণ, ডেঙ্গুর ভিন্ন সেরোটাইপে পুনঃসংক্রমণ হলে জটিলতা মারাত্মক রূপ নিতে পারে, যদি চিকিৎসায় বিলম্ব ঘটে।
ঢাকা দক্ষিণে সর্বাধিক মৃত্যু হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকার বাইরে থেকে সংকটাপন্ন রোগীদের রেফার করে ঢাকায় আনা হয়। এতে সময় নষ্ট হয় এবং অনেক রোগী শক অবস্থায় পৌঁছান। তিনি পরামর্শ দেন, জেলা পর্যায়ে জাতীয় ডেঙ্গু চিকিৎসা নির্দেশিকা অনুসারে চিকিৎসা দেওয়ার, আর কেবল গুরুতর রোগীদেরই ঢাকায় পাঠানোর।
প্রতিরোধে জনসচেতনতার ওপর জোর
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ মুশতাক হোসেন বলেন, মৃত্যুহার কমাতে হলে স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা জোরদার করতে হবে। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ ও ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের চিকিৎসা জেলা পর্যায়েই নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি সিটি করপোরেশনের দেওয়া বিনামূল্যের ডেঙ্গু পরীক্ষার সুযোগ গ্রহণে মানুষকে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি রক্ত সংগ্রহকেন্দ্র বাড়ানো ও মাধ্যমিক স্তরের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের সুপারিশ করেন, যাতে বড় হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ কমে।
এছাড়া সারা বছরব্যাপী স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি চালিয়ে মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন।
এমজে
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা
- চলতি মাসে টানা চার দিনের ছুটির সুযোগ
- শুধু আইফোনের জন্য নয়, অপ্রতীম হ/ত্যার পেছনে ছিল বিরোধও
- পাভেলকে ঘিরে ফের ভাইরাল পাঁচ মিনিটের ভিডিও
- একাদশ শ্রেণির ভর্তির ফল প্রকাশ আজ, যেভাবে দেখবেন
- মব হেনস্তার প্রতিবাদে ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান তাহসিনের
- মিছিলের প্রস্তুতিকালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৮ কর্মী আটক
- সিগারেট নিয়ে নতুন বিধান জারি
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি আবেদনের সময় বাড়ল
- নতুন পে স্কেলে কোন গ্রেডে কত বেতন, দেখুন এখানে
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ, আবেদন ১২ অক্টোবর পর্যন্ত
- আরও ৯০ দিন মেয়াদ বাড়ল ডাকসুর
- পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে যা জানা গেল
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৫ সেপ্টেম্বর)
- পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে যা বলছেন কর্মকর্তারা