ঢাকা, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৬ ভাদ্র ১৪৩২

ডাকসু নির্বাচন : নারীদের হলে প্রবেশের সময়সীমা প্রত্যাহার চায় বামপন্থী প্রতিরোধ পর্ষদের

২০২৫ আগস্ট ৩১ ১৮:৫৭:১৬

ডাকসু নির্বাচন : নারীদের হলে প্রবেশের সময়সীমা প্রত্যাহার চায় বামপন্থী প্রতিরোধ পর্ষদের

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ও হল সংসদ নির্বাচন (ডাকসু) নির্বাচনকে সামনে রেখে বাম ছাত্র সংগঠন সমর্থিত প্রতিরোধ পর্ষদ প্যানেল তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে।

আজ রোববার (৩১ আগস্ট) বিকেল তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।

আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ডাকসু নির্বাচনে প্রতিরোধ পর্ষদের পক্ষ থেকে প্যানেলের জিএস প্রার্থী মেঘ মল্লার বসু ‘সমতায়-প্রতিরোধে, নিরাপদ ক্যাম্পাস’ স্লোগানকে সামনে রেখে এ ইশতেহার ঘোষণা করেন। সংবাদ সম্মেলন শেষে তারা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রচার শুরু করে।

ইশতেহার গুলো হলো:

১. ডাকসুর কাঠামোর সংস্কার ও ক্ষমতা বৃদ্ধি:

একাডেমিক ক্যালেন্ডারে কেন্দ্রীয় এবং হল সংসদ নির্বাচনের তারিখ সুনির্দিষ্ট করা। সিনেটের কোরাম পূর্ণ করতে ন্যূনতম দুজন নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধির উপস্থিত থাকার বাধ্যবাধকতা রেখে ৭৩-এর অধ্যাদেশ সংশোধন করা। সিনেটে ৫ জন নয়, ন্যূনতম ১০ জন নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধি রাখার বিধান যুক্ত করা। হল সংসদ এবং কেন্দ্রীয় সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপসারণ বা কোনো কারণে বিলুপ্ত করতে হলে তা শিক্ষার্থীদের গণভোটের মাধ্যমে হতে হবে, কোনোভাবেই প্রোভোস্ট এবং উপাচার্যের হাতে এ ক্ষমতা রাখা। যাবে না। অনুষদভিত্তিক শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নির্বাচন করা।

২. শিক্ষার্থীদের ক্ষমতায়ন করে শিক্ষার মানোন্নয়ন:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ, বেসরকারিকরণ সংকোচন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা। আইএমএফ, বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে গৃহীত ইউজিসির কৌশলপত্র বাতিল করা। বিশ্ববিদ্যালয়ে Public-Private Partnerships (PPP), Institutional Quality Assurance Cell (IQAC), বাণিজ্যিক নাইটকোর্সসহ শিক্ষা বিধ্বংসী সকল প্রকল্প রুখে দেয়া। সকল প্রকার ফি বৃদ্ধি বা আরোপ বন্ধ করা, তিন মাসের মধ্যে পরীক্ষার ফল প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা। শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের অবগত করা এবং মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে বিভাগের পক্ষ থেকে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া। উপস্থিতির হারের ওপর ভিত্তি করে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না করা এবং নন কলেজিয়েট/ডিসকলেজিয়েট ফি-এর নামে জরিমানা বাতিল, অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণের শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করা।

৩. গবেষণায় অগ্রাধিকার:

গবেষণা ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটের অন্তত ১০ ভাগ গবেষণা খাতে বরাদ্দ নিশ্চিত করা। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে প্রতিটি গবেষণাগারের আধুনিকায়নের ব্যবস্থা করা। প্রতিটি বিভাগে গবেষণা প্রকল্প গ্রহণ করতে উদ্যোগ নেয়া এবং বছর শেষে গবেষণা প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের অবগত করা। গবেষণা প্রকল্পে শিক্ষার্থীদের রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ, রিসার্চ ফেলোশিপ দেয়া। থিসিস নেয়ার ক্ষেত্রে সিজিপিএ-এর প্রতিবন্ধকতা দূর করা।

৪. আবাসন সংকট নিরসন:

সকল হলে সন্ত্রাস-দখলদারিত্ব বন্ধ করা। পুরনো ভবনগুলোর সংস্কার, সম্প্রসারণ এবং নতুন ভবন নির্মাণ করতে প্রশাসনকে বাধ্য করা। ১ম বর্ষ থেকেই প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সিট নিশ্চিত করা। হলের ভেতর জোরপূর্বক রাজনৈতিক কিংবা অরাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেওয়া কিংবা কর্মসূচিতে যেতে বাধা প্রদান বন্ধ করা। গণরুম, গেস্টরুম ও র‍্যাগিং প্রথা নিষিদ্ধ করে ক্যাম্পাস চার্টার প্রকাশ। হলগুলোতে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা কার্যকর থাকাটা নিশ্চিত করা।

৫. নারীবান্ধব ক্যাম্পাস:

নারী শিক্ষার্থীদের সাইবার সুরক্ষা, চলাফেরার স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে বাধ্য করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়নবিরোধী সেল কার্যকর করার সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। প্রতিটি ফ্যাকাল্টি, নারী হল ও ডিপার্টমেন্টগুলোতে কার্যকরী ভেন্ডিং মেশিন স্থাপন। গর্ভবতী ও সদ্য মা হওয়া নারী শিক্ষার্থীদের জন্য ইনটেনসিভ কেয়ার সেন্টার ও ব্রেস্টফিডিং কর্নার স্থাপণসহ সামগ্রিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা। নারী হলে 'লোকাল গার্ডিয়ান' নামক হয়রানির নির্মূলসহ হলের যাবতীয় হয়রানিমূলক নিয়মকানুনের অবসান ঘটানো। নারীদের হলে প্রবেশের সময়সীমা প্রত্যাহার করা। উক্ত হলে আবাসিক-অনাবাসিক নারী শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।

নয়ন

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

বিশ্ববিদ্যালয় এর অন্যান্য সংবাদ