ঢাকা, শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১৫ ভাদ্র ১৪৩২

নুরকে পেটানো লাল টি-শার্ট পরা সেই ব্যক্তি কে?

ডুয়া নিউজ- জাতীয়
২০২৫ আগস্ট ৩০ ১১:০১:০৭
নুরকে পেটানো লাল টি-শার্ট পরা সেই ব্যক্তি কে?

রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির (জাপা) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দিয়ে আওয়ামী লীগবিরোধী মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) নেতাকর্মীদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও হামলার ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাতে সংঘটিত এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দলটির সভাপতি নুরুল হক নুরকে লাল টি-শার্ট পরা এক ব্যক্তি বেধড়ক পেটাচ্ছেন। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে তার পরিচয় শনাক্তে পুলিশ তৎপর হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মীর আসাদুজ্জামান জানান, ভিডিওতে যাকে দেখা গেছে, তাকে শনাক্তে পুলিশের কয়েকটি টিম কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘ঘটনার সময় লাল টি-শার্ট পরা ব্যক্তি নুরের ওপর হামলা চালায়। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা তখনই তাকে আটক করলেও তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি জানানো হয়নি। ফলে পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।’

গণঅধিকার পরিষদের নেতাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগবিরোধী মিছিল চলাকালে জাপার নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনার প্রতিবাদে রাত ৮টার কিছু পর গণঅধিকার পরিষদ কাকরাইল এলাকায় মশাল মিছিল বের করে। এ সময় জাপার নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলার চেষ্টা চালালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে জাপার কার্যালয় চত্বরে প্রবেশ করে।

পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লাঠিচার্জ করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সেনা ও পুলিশ সদস্যরা নুরুল হক নুরের ওপর লাঠিচার্জ করছে। এরই একপর্যায়ে লাল টি-শার্ট পরা এক ব্যক্তি ‘জুলাই ভরে দেব’ বলে চিৎকার করে নুরকে বেধড়ক পেটাতে থাকে। পরবর্তী একটি ভিডিওতে দেখা যায়, লাঠি হাতে থাকা ওই ব্যক্তিকে সেনা ও পুলিশ আটক করলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।

মারধরে গুরুতর আহত হন নুরুল হক নুরসহ গণঅধিকার পরিষদের কয়েকজন নেতা-কর্মী এবং একজন পুলিশ সদস্য। আহতদের মধ্যে রয়েছেন—সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান (৩২), হাসান তারেক (২৮), ফারজানা কিবরিয়া (৩০), মইনুল ইসলাম (৩৫), মেহবুবা ইসলাম (৩০), আবু বক্কর (৩০), তারেক আজাদ (২৫) এবং পুলিশ ইন্সপেক্টর আনিছুর রহমান (৪২)। তাদের সবাইকে রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান অভিযোগ করে বলেন, ‘ভিডিও ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যায়, প্রথমে পুলিশ ও সেনাবাহিনী আমাদের ওপর হামলা চালায়। সেনাবাহিনীর একজন সদস্য নুরের বুকে লাঠি দিয়ে আঘাত করলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। এরপরই লাল টি-শার্ট পরা ব্যক্তি এসে তাকে বেধড়ক মারধর করে। এ ধরনের ঘটনায় সাধারণত সিভিল পোশাকে ডিবি বা গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা থাকে। ওই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা এবং দায়ীদের শাস্তির ব্যবস্থা করা পুলিশের ও সেনাবাহিনীর দায়িত্ব।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা ভিপি নুরসহ আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে। আমরা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি।’

গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ বলেন, ‘আজকের বিক্ষোভ সমাবেশ ছিল আওয়ামী লীগের দোসরদের কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবিতে। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সমাবেশ শেষে আমরা পল্টন জিরো পয়েন্ট থেকে মিছিল নিয়ে নাইটিঙ্গেল মোড়ের দিকে যাচ্ছিলাম। জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে আমাদের পেছন থেকে ইটপাটকেল ছোড়া শুরু হয়।’

তিনি আরও জানান, জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে তখন ৩-৪ শতাধিক লোক ছিল এবং তাদের ধারণা জাপার পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সন্ত্রাসীরাও উপস্থিত ছিল। আবু হানিফ দাবি করেন, ‘এই ঘটনায় আমাদের ১০-১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং অনেককে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়েছে।’

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত