ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২

ইসরায়েলি হামলায় নি'হত ইরান-সমর্থিত হুথি প্রধানমন্ত্রী

ডুয়া নিউজ- আন্তর্জাতিক
২০২৫ আগস্ট ২৯ ১৮:৫৩:৪৮
ইসরায়েলি হামলায় নি'হত ইরান-সমর্থিত হুথি প্রধানমন্ত্রী

ইয়েমেনের রাজধানী সানায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের প্রধানমন্ত্রী আহমেদ আল-রাহাবি নিহত হয়েছেন বলে ইয়েমেনি গণমাধ্যম আল-জুমহুরিয়া টেলিভিশন ও দৈনিক ‘আদেন আল-গাদ’ জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) এই হামলায় তার কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীও নিহত হয়েছেন বলে খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ইসরায়েল এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

একই দিনে আরেকটি পৃথক হামলায় হুথি নেতৃত্বের ওপর বড় ধরনের আঘাত হানার চেষ্টা করা হয়। খবর অনুযায়ী, রাজধানীর বাইরে হুথি নেতা আবদুল মালিক আল-হুথির ভাষণ শোনার জন্য জড়ো হওয়া ১০ জন শীর্ষ মন্ত্রীকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। ইসরায়েলের চ্যানেল ১৩ এবং ওয়াই-নেট জানিয়েছে, এই হামলা সফল হয়েছে এবং হুথিদের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রায় পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা ওই বৈঠকের তাৎক্ষণিক তথ্য সরবরাহ করে হামলার সমন্বয় ঘটায়। ভারী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মধ্যেও লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা সম্ভব হয়। হামলার সময় আবদুল মালিক আল-হুথি সরাসরি ভাষণ দিচ্ছিলেন, কিন্তু তিনি বুঝতে পারেননি যে তার শীর্ষ কর্মকর্তারা হামলার শিকার হচ্ছেন। `লক্ষ্যবস্তুদের মধ্যে ছিলেন হুথিদের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মুহাম্মদ নাসের আল-আত্তাফি এবং সেনাপ্রধান মুহাম্মদ আল-গামারি। আল-আত্তাফি ২০১৬ সাল থেকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পদে আছেন এবং ইরানি বিপ্লবী গার্ড ও হিজবুল্লাহর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। সেনাপ্রধান গামারিও লক্ষ্যবস্তু ছিলেন; জুন মাসে এক হামলায় তিনি গুরুতর আহত হলেও বেঁচে গিয়েছিলেন।

ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ এর একটি সূত্র জানিয়েছে, গত রোববারই হুথি নেতৃত্বকে সানায় নিশানা করার পরিকল্পনা ছিল, তবে শেষ পর্যন্ত তা বৃহস্পতিবার কার্যকর করা হয়।

অন্যদিকে, হুথি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা হামলায় কোনো শীর্ষ নেতার নিহত হওয়ার খবর অস্বীকার করে বলেছেন, ইসরায়েল মূলত বেসামরিক স্থাপনা ও সাধারণ ইয়েমেনি জনগণকে নিশানা করছে, কারণ তারা ফিলিস্তিনের গাজার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

এই হামলার মাধ্যমে ইয়েমেনে ইসরায়েলের ১৬তম হামলা সংঘটিত হলো। প্রায় ১,৮০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হলেও হুথিরা নিয়মিতভাবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে। তাদের স্লোগান ‘যুক্তরাষ্ট্রের ধ্বংস, ইসরায়েলের ধ্বংস ও ইহুদিদের ওপর অভিশাপ’ গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আরও জোরালোভাবে সামনে এসেছে।

২০২৩ সালের নভেম্বরে হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলার পরপরই হুথিরা ইসরায়েল ও আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলকে লক্ষ্য করা শুরু করে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইসরায়েল-হামাসের মধ্যে অস্ত্রবিরতি হলে তারা কিছুদিন হামলা বন্ধ রাখলেও মার্চে গাজায় ইসরায়েলি অভিযানের পুনরায় শুরু হওয়ার পর হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা নতুন করে বেড়ে যায়। এখন পর্যন্ত অন্তত ৭২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৩টিরও বেশি ড্রোন ছোড়া হয়েছে, যার কয়েকটি ইসরায়েলের ভেতরে আঘাত হেনেছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট ও ইসরায়েল এর পাল্টা হামলায় ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও কৌশলগত উপকূলীয় শহর হোদাইদাসহ বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বিমান হামলা চালিয়ে আসছে। মে মাসে ইসরায়েলি হামলায় সানা বিমানবন্দর অচল হয়ে যায়।

মে মাসেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন হুথিদের সঙ্গে একটি চুক্তি ঘোষণা করে, যাতে বলা হয়েছিল, জাহাজ চলাচলে হামলা বন্ধের বিনিময়ে বিমান হামলা বন্ধ হবে। তবে হুথিরা জানায়, তারা ইসরায়েল-সমর্থিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো অব্যাহত রাখবে।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত