ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
যুক্তরাষ্ট্রে উজ্জ্বল হচ্ছে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি
বাংলাদেশের পোশাক খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে। পুরোনো ক্রেতাদের পাশাপাশি নতুন ক্রেতারাও আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তারা একের পর এক ইনকোয়ারি দিচ্ছেন, অনেকে ইতিমধ্যে অর্ডারও শুরু করেছেন। পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তাদের দাবি, এরই মধ্যে ৫ থেকে ১০ শতাংশ অর্ডার বেড়েছে। বড় বড় কারখানায় উৎপাদন সক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত কাজের চাপ তৈরি হয়েছে।
পোশাকখাত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় শুল্ক সুবিধায় এগিয়ে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজার নিয়ে নতুন করে আশাবাদী হচ্ছে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প। আগে যারা এই বাজারে কাজ করেননি, তারাও এখন প্রবেশের চেষ্টা করছেন।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রধান দুটি বাজার হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এর মধ্যে একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রই সবচেয়ে বড় ক্রেতা, যেখানে দেশের মোট পোশাক রফতানির প্রায় ২০ শতাংশ যায়। গেল এপ্রিলে ট্রাম্প প্রশাসনের পাল্টা শুল্ক আরোপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক ক্রেতা তাদের অর্ডার স্থগিত করেছিল। তবে তিন মাসের জন্য শুল্ক কার্যকরের সিদ্ধান্ত স্থগিত হলে অর্ডারও ফিরতে শুরু করে। পরে জুলাইয়ে আবার শুল্কের বিষয়টি সামনে আসায় নতুন করে কিছু অর্ডার স্থগিত হয়।
শেষ পর্যন্ত বাণিজ্যিক দর কষাকষির পর যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পোশাকের ওপর আরোপিত সম্পূরক শুল্ক ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশে নামায়। গত ১ আগস্ট ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত পোশাক শিল্পের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করে। এর পর থেকেই ভারত ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশের অনেক অর্ডার বাংলাদেশমুখী হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন।
পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ব্র্যান্ডগুলো এখন বেশ ভালো অর্ডার দিচ্ছে। বিশেষ করে উচ্চমানের ব্র্যান্ডগুলোর অর্ডার বেড়েছে। তবে নিম্নমানের ব্র্যান্ডের অর্ডার কিছুটা কমেছে। তিনি বলেন, “বড় ফ্যাক্টরিগুলোতে উৎপাদন ক্ষমতার চেয়ে বেশি অর্ডার আসছে। ওভেনে অর্ডার ৫ থেকে ১০ শতাংশ বেড়েছে, তবে নিটওয়্যারে এখনও বাড়তি কাজ দেখা যাচ্ছে না।”
তারা জানান, চীনের শুল্ক বর্তমানে ৩০ শতাংশ, যা নভেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। ভারতের শুল্ক এখনো ২৫ শতাংশ এবং তা বাড়তে পারে। তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভালো অবস্থানে রয়েছে। তবে তার মতে, শুল্ক বৃদ্ধির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে পোশাকের সাময়িক চাহিদা কিছুটা কমে যেতে পারে। তবু দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের রফতানি আরও বাড়বে।
বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে নতুন অর্ডার আসবে বলে আশাবাদী। ইতিমধ্যে ক্রেতারা নতুন ইনকোয়ারি দিচ্ছেন। দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশি পোশাকের রফতানি বাড়বেই।”
একই বিষয়ে বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, “এখনো অর্ডার তেমনভাবে আসেনি, তবে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রাতারাতি কোনো পরিবর্তন হবে না। অবকাঠামো, বিদ্যুৎ-গ্যাস, ব্যাংকিং সুবিধা—এসব প্রস্তুতি নিতে হবে। একটি মৌসুম না গেলে আসলে বোঝা যাবে না কতটুকু অর্ডার বেড়েছে।”
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ভিয়েতনাম, চীন, ভারত, পাকিস্তান, মেক্সিকো ও ইন্দোনেশিয়া। এর মধ্যে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের শুল্ক ২০ শতাংশ, চীনের ৩০ শতাংশ আর ভারতের ২৫ শতাংশ (যা বাড়তে পারে)। ফলে শুল্ক সুবিধায় বাংলাদেশ এগিয়ে থাকায় বাজারে আরও বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- মাস্টারদা সূর্য সেন হল অ্যালামনাইয়ের নতুন কমিটি ঘোষণা, সভাপতি ডাবলু, সাধারণ সম্পাদক পলাশ
- আফগান যুবাদের কাছে হারল বাংলাদেশের যুবারা
- আজ ২২,২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার দাম কত? জেনে নিন
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মাহমুদ আলমের মৃত্যু, উপাচার্যের শোক
- সৌদিতে সুইটির মৃ/ত্যুদণ্ড, এখনো জানে না পরিবার
- যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারিতে বাংলাদেশিরা কি অংশ নিতে পারবে? জানুন বিস্তারিত
- জেনে নিন আজকের বাজারে ২২,২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার দাম
- আজ ২২,২১ ও ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম কত? জেনে নিন
- বৃহস্পতিবার রাজধানীর যেসব মার্কেট-দোকানপাট বন্ধ
- নভেম্বরে টানা তিন দিনের ছুটির সুযোগ, যারা পাবেন
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২১ অক্টোবর)
- ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা: ঢাবির সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার
- আজ ২২,২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার দাম কত? জেনে নিন
- ১৫ দিনের ব্যবধান দুইবার হবে শারদীয় দুর্গাপূজা
- নতুন পে-স্কেলে শিক্ষকদের বেতন কবে, জানাল অর্থ মন্ত্রণালয়