ঢাকা, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২
হাসিনার আইনজীবীকে প্রশ্ন: ‘আমি সন্তান হারিয়েছি, আর কী জিজ্ঞেস করবেন?’
জুলাই-আগস্টের ছাত্র-গণআন্দোলনে নিহত শেখ মেহেদী হাসান জুনায়েদের মা সোনিয়া জামাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন। বুধবার (২০ আগস্ট) সাক্ষ্য দেওয়ার এক পর্যায়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আসামিপক্ষের আইনজীবীকে প্রশ্ন করেন, "আমার একমাত্র ছেলে শহীদ হয়েছে। আমি সন্তান হারিয়েছি, আপনি আর কী জিজ্ঞেস করবেন?"
ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে ১৬ নম্বর সাক্ষী হিসেবে সোনিয়া জামাল তার জবানবন্দি দেন।
সাক্ষ্যে সোনিয়া জামাল বলেন, তার ১৪ বছর বয়সী ছেলে জুনায়েদ গেন্ডারিয়া উইল পাওয়ার স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র এবং ১০ পারার হাফেজ ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখারপুলে পুলিশের গুলিতে সে নিহত হয়। তিনি জানান, ওইদিন সকালে জুনায়েদ তার বন্ধু সিয়ামকে নিয়ে আন্দোলনে যাওয়ার কথা বলে বের হয়। পরে তিনিও তার মেয়েকে নিয়ে মতিঝিলে আন্দোলনে যোগ দিতে যান।
তিনি বলেন, "দুপুর ১টার দিকে আমার ছোট ভাইয়ের ফোন পেয়ে জানতে পারি, জুনায়েদ মাথায় ব্যথা পেয়েছে। বাসায় ফিরে ভাশুরের কক্ষে গিয়ে দেখি আমার ছেলেকে বিছানায় শুইয়ে রাখা হয়েছে। তার চোখের বাম পাশে গুলি লেগে মাথার পেছন দিয়ে বেরিয়ে গেছে। রক্তে ভেসে যাচ্ছিল সব। ওই দৃশ্য দেখে আমি কান্নায় ভেঙে পড়ি।" এই বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি আদালতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।
সোনিয়া জামাল আরও জানান, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই জুনায়েদ মারা যায়। তার বন্ধু সিয়াম ও আব্দুর রউফ তার মরদেহ বাসায় নিয়ে আসে। পরে জুরাইন কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ডিএমপির পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান ও যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমারের নির্দেশে এডিসি আক্তারুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা গুলি চালিয়ে তার ছেলেসহ আরও কয়েকজনকে হত্যা করে।
সাক্ষ্যগ্রহণের পর রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন তাকে জেরা শুরু করলে সোনিয়া জামাল আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং সন্তান হারানোর যন্ত্রণা তুলে ধরে আইনজীবীকে উপরোক্ত প্রশ্নটি করেন। জবাবে আইনজীবী আমির হোসেন বলেন, "আমরাও মর্মাহত। কিন্তু পেশার জায়গা থেকে আমাদের কিছু প্রশ্ন করতেই হয়।"
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- কী আছে এপস্টেইন ফাইলে? কেন এত হইচই বিশ্বজুড়ে?
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সিলকো ফার্মা
- শব-ই-বরাতের গুরুত্ব ও আমল
- শুরু হচ্ছে ‘অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপ’, স্কোয়াড ও সূচি ঘোষণা
- ইপিএস প্রকাশ করেছে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ
- ইপিএস প্রকাশ করেছে গোল্ডেন সন
- ইপিএস প্রকাশ করেছে মাগুরা মাল্টিপ্লেক্স
- আজকের নামাজের সময়সূচি (৩ ফেব্রুয়ারি)
- ইপিএস প্রকাশ করেছে আরডি ফুড
- ঢাবির ১৯ শিক্ষার্থী পেলেন ‘টিএফপি ক্রিয়েটিভ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’
- আজকের নামাজের সময়সূচি (৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬)
- দেশের প্রথম বিটিসিএল এমভিএনও সিম চালু
- ১০০ টাকা প্রাইজ বন্ডের ১২২তম ড্র অনুষ্ঠিত, জেনে নিন বিজয়ী নম্বরগুলো
- জুলাই শহীদের বোনের দেওয়া উপহারে অশ্রুসিক্ত মির্জা ফখরুল
- কে এই কু'খ্যাত জেফ্রি এপস্টেইন?