×

ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

ঢাবিতে ঔপনিবেশিক স্বাধীনতার ৭৮ বছর উদ্‌যাপন

২০২৫ আগস্ট ১৪ ২০:৫৪:১৮

ঢাবিতে ঔপনিবেশিক স্বাধীনতার ৭৮ বছর উদ্‌যাপন

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শৃঙ্খল মুক্তির ৭৮তম বার্ষিকী উদ্‌যাপন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) "ফিরে দেখা আজাদি" শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে খ্যাতিমান চিন্তক ও বুদ্ধিজীবীগণ ১৯৪৭ সালের দেশভাগের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

সভায় বক্তারা বলেন, ১৯৪৭ সালের এই দিনে ভারতবর্ষের মুসলমানরা দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র অর্জন করেছিল, যা ছিল দুই শত বছরের ঔপনিবেশিক শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্তির দিন। কিন্তু আমাদেরকে সেই ইতিহাস থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। অথচ আমাদের শেখানো হয়- হাজার বছরের বাঙালির ইতিহাস শুরু হয়েছে বায়ান্ন থেকে।

লেখক ও বুদ্ধিজীবী ডা. ফাহমিদ-উর-রহমান বলেন, "আজকের দিনে আমরা শুধু রাজনৈতিক স্বাধীনতা পাইনি, মুসলিম জাতিসত্তার স্বীকৃতি পেয়েছিলাম। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পেছনে বাংলার মুসলমানদের অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"

তিনি ইতিহাসবিদ মোহর আলীর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ১৭৫৭ সালের পলাশীর প্রান্তরে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন শুধু নবাব পরিবারের পতন ছিল না, বরং ইউরোপের কাছে সমগ্র এশিয়ার পরাজয় ছিল।

ডা. ফাহমিদ-উর-রহমান আরও বলেন, "৪৭-কে যারা অস্বীকার করে, তারা আসলে বাংলাদেশের জন্মকেও অস্বীকার করে। দ্বিজাতিতত্ত্বকে শুধু জিন্নাহ বা নবাব সলিমুল্লাহর দায় হিসেবে দেখা ভুল। উনিশ শতকের হিন্দু মেলা, শিবাজী উৎসব, অনুশীলন, যুগান্তরের মতো হিন্দুয়ানী সংস্কৃতিগুলোও দ্বিজাতিতত্ত্বের বীজ বপন করেছিল।"

আলোচনা সভায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. বিলাল হোসাইন বলেন, "ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলায় শুধু রাজনৈতিক দখলই নেয়নি, বরং হিন্দু জমিদারদের সঙ্গে মিলে একটি 'দ্বৈত উপনিবেশ' তৈরি করেছিল। ছিয়াত্তরের মন্বন্তরসহ নানা দুর্ভিক্ষ ছিল তাদের শোষণনীতির ফল।"

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. নুরুল ইসলাম মনজুর মনে করেন, কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহকে ইতিহাসে ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। "জিন্নাহ, আল্লামা ইকবালরা ছিলেন মুসলমানদের রাজনৈতিক মুক্তির ধারাবাহিক সংগ্রামের মূল প্রেরণা," বলেন তিনি।

বক্তারা আরও বলেন, ১৯৪৭ সালের আজাদির ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক ভিত্তির ওপরই দাঁড়িয়ে আছে স্বাধীন বাংলাদেশ। এছাড়াও, বাংলাদেশের ইতিহাসকে ‘ফিকশন’ বা পক্ষপাতদুষ্ট বর্ণনা থেকে মুক্ত করার আহ্বান এবং রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সব ধরনের আধিপত্যবাদ ও হেজিমনির বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তারা।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

বিশ্ববিদ্যালয় এর অন্যান্য সংবাদ

ফের বাড়ল সোনার দাম, ভরিতে কত?

ফের বাড়ল সোনার দাম, ভরিতে কত?

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন দরে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম... বিস্তারিত