ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩
সাংবাদিক তুহিন হত্যা: ১৫ দিনের মধ্যে চার্জশিটের আশ্বাস
গাজীপুরে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করার আশ্বাস দিয়েছেন গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার ড. নাজমুল করিম খান। একই সঙ্গে, সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারার ব্যর্থতা স্বীকার করে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
শনিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে জিএমপি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। কমিশনার বলেন, "সাংবাদিক হত্যার দায় আমরা এড়াতে পারি না। আমাদের ব্যর্থতা ও জনবল স্বল্পতা রয়েছে। যে ঘটনাটি ঘটেছে, তার জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি।" অপরাধ দমনে জনগণের সম্পৃক্ততা ও সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
ঘটনার বিবরণে পুলিশ কমিশনার জানান, চক্রটি প্রথমে বাদশা মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে 'হানি ট্র্যাপ'-এ ফেলে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে বাদশা মিয়া চক্রের সদস্য গোলাপিকে ঘুষি মারলে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা ৫-৬ জন সহযোগী চাপাতি নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এই দৃশ্য ভিডিও করছিলেন সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন।
অপরাধের প্রমাণসহ ভিডিও ধারণ করতে দেখে ফেলায় আসামিরা তুহিনের ওপর চড়াও হয়। তারা ভিডিও কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং তাকে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে তুহিন একটি চায়ের দোকানে আশ্রয় নিলেও তাকে সেখান থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে এনে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়।
জিএমপি কমিশনার জানান, ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িত আটজনের মধ্যে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- প্রধান আসামি মিজান ওরফে কেটু মিজান (৩৫), তার স্ত্রী গোলাপি (২৫), মো. স্বাধীন (২৮), আল আমিন (২১), শাহজালাল (৩২), মো. ফয়সাল হাসান (২৩) এবং সুমন। পালিয়ে থাকা অপর আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্য। প্রধান আসামি কেটু মিজানের নামে ১৫টি, শাহজালালের নামে ৮টি এবং অন্য আসামিদের নামেও একাধিক মামলা রয়েছে।
পুলিশ কমিশনার বলেন, "আমাদের কাছে সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীসহ সমস্ত তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। আমরা আশা করি দ্রুততম সময়ে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।"
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাতে গাজীপুর মহানগরীর ব্যস্ততম চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় 'দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ' পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার আসাদুজ্জামান তুহিনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় নিহত তুহিনের ভাই এবং অপর ভুক্তভোগী বাদশা মিয়ার ভাই বাদী হয়ে বাসন থানায় দুটি মামলা দায়ের করেছেন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- শুধু আইফোনের জন্য নয়, অপ্রতীম হ/ত্যার পেছনে ছিল বিরোধও
- পাভেলকে ঘিরে ফের ভাইরাল পাঁচ মিনিটের ভিডিও
- একাদশ শ্রেণির ভর্তির ফল প্রকাশ আজ, যেভাবে দেখবেন
- মব হেনস্তার প্রতিবাদে ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান তাহসিনের
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি আবেদনের সময় বাড়ল
- সিগারেট নিয়ে নতুন বিধান জারি
- মিছিলের প্রস্তুতিকালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৮ কর্মী আটক
- নতুন পে স্কেলে কোন গ্রেডে কত বেতন, দেখুন এখানে
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ, আবেদন ১২ অক্টোবর পর্যন্ত
- রাস্তার পাশে গাড়ি পার্কিং না করার আহ্বান পরিবহন মালিক সমিতির
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৫ সেপ্টেম্বর)
- আরও ৯০ দিন মেয়াদ বাড়ল ডাকসুর
- পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে যা জানা গেল
- অপ্রতিম হ/ত্যার রহস্যময় তথ্য উন্মোচন করেছে পুলিশ
- ঢাবির ৬৪ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি