ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে পোস্ট করে বিপাকে অধ্যাপক
ডুয়া ডেস্ক: ভারতের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে ফেসবুকে মন্তব্য করার পর গ্রেফতার হয়েছেন আশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলি খান মাহমুদাবাদ।
১৯ মে (সোমবার) হরিয়ানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
৮ মে এক ফেসবুক পোস্টে মাহমুদাবাদ নারী সেনা কর্মকর্তাদের ভূমিকা ‘লোক দেখানো’ বলে উল্লেখ করেন। তার এই মন্তব্য ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
মাহমুদাবাদ লিখেছিলেন, “আমি খুশি যে অনেক ডানপন্থি বিশ্লেষক কর্নেল সোফিয়া কুরেশিকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। তবে একইভাবে যদি তারা গণপিটুনিতে নিহতদের বা বিজেপির ঘৃণানীতির শিকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার দাবি করতেন, সেটাই হতো আরও অর্থবহ। দুই নারী সেনা কর্মকর্তার প্রেস ব্রিফিং গুরুত্বপূর্ণ, তবে বাস্তব পরিবর্তন না এলে তা শুধুই লোক দেখানো।”
এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে হরিয়ানা রাজ্য মহিলা কমিশন অভিযোগ তোলে যে, এতে নারী সেনা কর্মকর্তাদের ‘অপমান’ এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানো হয়েছে। তাকে ২৩ মে’র মধ্যে কমিশনে হাজির হতে বলা হয়। অনুপস্থিতি হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
অধ্যাপক মাহমুদাবাদ অবশ্য শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য: “এতে কোথাও নারীবিদ্বেষ নেই। আমি সেনা সদস্য ও সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তার দিকেই দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। আমার বক্তব্য ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত করা হয়েছে।”
সমাজকর্মী শবনম হাশমি ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)–এ লিখেছেন, “তার পোস্টে কোথাও দেশদ্রোহ বা নারীবিরোধী কিছু নেই। এটি নিছক হয়রানি।”
দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির নতুন সংস্করণ, অর্থাৎ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী ‘সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ উসকে দেওয়া’, ‘বিদ্রোহে প্ররোচনা’ এবং ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’ করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তবে মাহমুদাবাদের আইনজীবীদের দাবি, তিনি শুধু সংবিধানসম্মত মতপ্রকাশের অধিকার প্রয়োগ করেছেন।
এদিকে অধ্যাপকের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের প্রতিবাদে ভারতের এক হাজারেরও বেশি শিক্ষাবিদ, ইতিহাসবিদ, অধিকারকর্মী ও শিল্পী একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। তারা অবিলম্বে অভিযোগ প্রত্যাহার করার এবং হরিয়ানা মহিলা কমিশনের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি করেছেন।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, "হরিয়ানা রাজ্য ভারতের নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতায় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। এই ধরনের বাস্তব সমস্যা উপেক্ষা করে একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে। এটি সরাসরি বাকস্বাধীনতার উপর আঘাত।"
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- মাস্টারদা সূর্য সেন হল অ্যালামনাইয়ের নতুন কমিটি ঘোষণা, সভাপতি ডাবলু, সাধারণ সম্পাদক পলাশ
- ৬.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৬ অক্টোবর)
- নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ৭০ শতাংশের ভিসা প্রত্যাখ্যান, বাড়ছে উদ্বেগ
- আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীতে ২২৮ পদে নিয়োগ
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ভর্তির আবেদন শুরু আজ
- ২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস
- বিআইডব্লিউটিসি ও মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই
- সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃ/ত্যুদণ্ড কার্যকর
- সালাহউদ্দিন আহমেদের জানাজায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- বাংলাদেশকে ৩০৫ রানের লক্ষ্য দিল আফগানিস্তান, জবাবে ১৬৯ রান
- এসএসসি-এইচএসসিতে ফেল করলে ফের পরীক্ষা, এরপর কারিগরি শিক্ষা
- খুলনায় ৩০ কেজি ধানে তৈরি দুর্গাপ্রতিমা দেখতে ভিড়
- হরমুজে জাহাজডুবি, সাগরে ভাসছে আইফোন
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৩ অক্টোবর)