ঢাকা, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২
হোটেল-মোটেল বন্ধের শঙ্কা, পর্যটন ব্যবসায় ভোগান্তি
ডুয়া ডেস্ক: রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালিতে দেখা দিয়েছে তীব্র খাবার পানির সংকট। পাহাড়ি এই জনপ্রিয় পর্যটন এলাকাটিতে বৃষ্টিপাত না থাকায় শুকিয়ে গেছে ঝিরি ও ঝরনাগুলো—যেগুলো ছিল এখানকার প্রধান পানির উৎস। ফলে হোটেল, মোটেল ও কটেজগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।
সাজেকের মানুষ মূলত ঝিরি-ঝরনার পানি ব্যবহার করেই দৈনন্দিন চাহিদা পূরণ করে থাকেন। বিকল্প কোনো পানি সরবরাহ ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, বছরের পর বছর ধরে পাহাড় কেটে বন ধ্বংস, জুম চাষ ও অপরিকল্পিত হোটেল-কটেজ নির্মাণের ফলে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এরই পরিণতিতে আজকের এই সংকট।
পরিবেশবিদদের দাবি, অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও বন ধ্বংসের কারণে প্রাকৃতিক জলাধার শুকিয়ে যাচ্ছে, যা জীববৈচিত্র্য ও পানির ভারসাম্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।
পানি পরিবহনকারী গাড়ির লাইনম্যান বিনিময় চাকমা জানান, বৃষ্টির অভাবে সাজেকের ঝিরি-ঝরনাগুলো পুরোপুরি শুকিয়ে গেছে। এখন দূরবর্তী মাচালং এলাকার কাচালং নদী থেকে ২১ কিলোমিটার দূর থেকে পানি আনতে হচ্ছে। প্রতি দেড় হাজার লিটার পানি আনতে খরচ হচ্ছে প্রায় আড়াই হাজার টাকা, যা দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তাঁর আশঙ্কা এই সংকট চলতে থাকলে সাজেক বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠবে।
এদিকে কাচালং সরকারি কলেজের শিক্ষক ও পরিবেশকর্মী আবুল ফজল বলেন, “জুম চাষের নামে প্রতিদিন পাহাড় কেটে বন ধ্বংস করা হচ্ছে, আগুন লাগানো হচ্ছে। এতে প্রাকৃতিক জলাধার নষ্ট হচ্ছে, যা ভবিষ্যতের জন্য মারাত্মক হুমকি।” তিনি দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিরীন আক্তার জানান, সাজেকে পানি সংকটের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিকল্প পানির উৎস খুঁজতে বলা হয়েছে এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে জরুরি পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতির উন্নতি না হলে শুধু সাজেকের পর্যটনশিল্পই নয়, পুরো এলাকার পরিবেশও বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বিডি থাই ফুড
- কী আছে এপস্টেইন ফাইলে? কেন এত হইচই বিশ্বজুড়ে?
- ইপিএস প্রকাশ করেছে কনফিডেন্স সিমেন্ট
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সোনালী পেপার
- ইপিএস প্রকাশ করেছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ইজেনারেশন
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সিলকো ফার্মা
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সাফকো স্পিনিং
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ইন্দো-বাংলা ফার্মা
- নতুন জাতীয় দৈনিকে ক্যারিয়ার গড়ার বড় সুযোগ
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ইনটেক
- এক লাফে ভরিতে ১৪ হাজার টাকা কমলো সোনার দাম
- ইপিএস প্রকাশ করেছে এসিআই
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বার্জার পেইন্টস