ঢাকা, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
দুই সন্তানকে নিয়ে দুর্গাপূজার পরিকল্পনা কাঞ্চন-শ্রীময়ীর
বিনোদন ডেস্ক: দুর্গাপূজার উৎসবে মেতে উঠেছে গোটা বাংলা। ঠাকুর দেখা, বন্ধু-পরিবারের সঙ্গে আড্ডা, জমিয়ে খাওয়া-দাওয়া আর মণ্ডপে মণ্ডপে ঘোরার আনন্দে কাটে বাঙালির পূজার দিনগুলো। উৎসবের এই আনন্দে পিছিয়ে থাকতে চান না টালিউডের তারকারাও। কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালোবাসেন তারকা দম্পতি কাঞ্চন মল্লিক ও শ্রীময়ী চট্টরাজ। দুই সন্তানকে নিয়ে এবারের দুর্গাপূজার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তাঁরা।
কাঞ্চন ও শ্রীময়ীর কাছে এ বছরের পূজা বিশেষ আনন্দের। গত বছর মেয়েকে নিয়ে ঘুরেছেন তাঁরা, এবার পরিবারে রয়েছে ছেলেও। ফলে আনন্দ বেড়েছে দ্বিগুণ। তবে মাত্র দুই মাস বয়সী ছেলে গদাইকে নিয়ে এখনই বাইরে বেরোনোর পরিকল্পনা নেই তাঁদের। এ বিষয়ে দুজনের বক্তব্য, ‘গদাইয়ের বয়স দুই মাস। ওকে নিয়ে বেরোনো যাবে না।’
মেয়ে ঠাকুর দেখতে খুব ভালোবাসে বলে জানান কাঞ্চন। গত বছর তাকে প্যান্ডেলে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কাঁধে চড়িয়ে প্রতিমাও দেখিয়েছিলেন তিনি। এবারও মেয়েকে নিয়ে বেরোনোর পরিকল্পনা রয়েছে শ্রীময়ীর। তাঁর আশা, ‘গত বছর মেয়েকে নিয়ে গিয়েছিলাম। এ বছরও একদিন নিয়ে যাব, দারুণ কাটবে আশা করি।’
শ্রীময়ীর গ্রামের বাড়িতেও পূজার আয়োজন হয়। সেখানে পরিবারের সবাই মুখে কাপড় বেঁধে ভোগ রান্না করেন। আয়োজন করা হয় মিউজিক্যাল চেয়ার খেলার। সিঁদুর খেলা আর বিসর্জনের সময় নাচ—সব মিলিয়ে উৎসবের দিনগুলো আনন্দেই কাটে বলে জানান তিনি।
দুর্গাপূজার স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে কাঞ্চন ফিরে যান ছোটবেলায়। তখন পূজায় কোন মামা বা কাকা কী জামা দেবেন, সেই অপেক্ষায় থাকতেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘দেখতাম ১০টা জামা হচ্ছে কিনা।’ মায়ের হাত ধরে এক মণ্ডপ থেকে আরেক মণ্ডপে ঘুরে বেড়ানোর স্মৃতিও তাঁর মনে গেঁথে আছে। পাশাপাশি মেলায় গিয়ে মোগলাই পরোটার সঙ্গে কষা মাংস খাওয়ার আনন্দও ছিল পূজার অন্যতম আকর্ষণ।
পরে নিজেই যখন পাড়ার পূজার সঙ্গে যুক্ত হন, তখন উৎসবের আনন্দের ধরন বদলে যায়। কাঞ্চন বলেন, ‘গলায় ক্লাবের নাম লেখা কার্ড ঝুলিয়ে ভলান্টিয়ার হয়ে ভিড় সামলানোর মধ্যে একটা অন্য রকমের মজা ছিল।’পূজায় কখনো প্রেমে পড়েছেন কি না, এমন প্রশ্নে কৌতুক অভিনেতা কাঞ্চনের উত্তর ছিল মজার। তিনি বলেন, ‘কেউ আমার প্রেমে পড়েনি কোনো দিন, কেউ না। কেউ না মানে কেউ-ই না।’
দশমীর দিনের স্মৃতিও তাঁর কাছে বিশেষ। সেদিন প্রণাম করা, কোলাকুলি করার আনন্দের কথা উল্লেখ করে কাঞ্চন বলেন, ‘দশমীর দিন প্রণাম করা, কোলাকুলি করা—আহা কী সব দিন কেটেছে!’ তবে এখন দিনটি শ্রীময়ীর জন্যও বিশেষ হয়ে উঠেছে। তাঁর ভাষ্য, সিঁদুর খেলতে পারলে শ্রীময়ী আর কথা বন্ধ রাখতে পারেন না।শ্রীময়ীর ছোটবেলার পূজা অবশ্য কিছুটা নিয়মের মধ্যে কেটেছে। রাতে জেগে ঠাকুর দেখার সুযোগ ছিল না তাঁর। বাবার সঙ্গে এক দিনই সারা রাত ঘুরতে যেতেন। বন্ধুদের হয়ে প্রেমের চিঠি বিলি করার স্মৃতিও রয়েছে তাঁর। শ্রীময়ী বলেন, ‘চতুর্থীতে প্রেম হতো, আর দশমীতে কেটে যেত।’
উত্তর কলকাতায় বেড়ে ওঠা শ্রীময়ী পূজার সময় কেউ দেখে ফেলতে পারে—এই ভয়ে নিজে প্রেম করার ঝুঁকি নেননি। তবে মেলায় গিয়ে নাগরদোলায় চড়তে খুব পছন্দ করতেন তিনি। তাঁর কথা শেষ হওয়ার আগেই কাঞ্চন জানান, নাগরদোলা তাঁর কাছে ‘ট্রমা’। একবার ভয়ে এক কাকিমাকে শক্ত করে ধরে ফেলেছিলেন। অল্পের জন্য চড় খাওয়া থেকে বেঁচে যান তিনি।
শ্রীময়ীর সবচেয়ে প্রিয় দিন দশমী। সিঁদুর খেলার প্রতি তাঁর বিশেষ টান রয়েছে। অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি সিঁদুর খেলতে খুব ভালোবাসি। বিয়ের পর তা আরও প্রিয় হয়েছে। আগে তো ফটোশুট করার জন্য খেলতাম। এখন আমি মনে করি, শাঁখাপলা আর সিঁদুর যে কোনো নারীর শ্রেষ্ঠ অলঙ্কার।’ আগে কাঞ্চন তাঁর সৌন্দর্যের প্রশংসা করতেন, এখন সেই প্রশংসা আসে মেয়ের কাছ থেকে বলেও জানান তিনি।
পূজার দিনগুলোতে খাবারের ক্ষেত্রেও কোনো বিধিনিষেধ মানতে চান না শ্রীময়ী। তাঁর কাছে পূজা মানেই ‘নো ডায়েট’। তিনি বলেন, ‘আমরা চতুর্থী থেকে রেস্তোরাঁয় খাই। পোলাও-মাটন তো অবশ্যই থাকে তালিকায়, শুধু অষ্টমীর দিন নিরামিষ খাই। তাই খিচুড়ি ভোগ আর তার সঙ্গে লাবড়া থাকতেই হবে।’অন্যদিকে, দশমী এলেই মন খারাপ হয়ে যায় কাঞ্চনের। কারণ, সারা বছর তিনি দুর্গাপূজার জন্য অপেক্ষা করে থাকেন। কাঞ্চন বলেন, ‘আমার দশমীর দিন মনটা খারাপ হয়ে যায়। কারণ আমি ৩৬৫ দিন অপেক্ষা করি পূজার জন্য। দশমীর রেশ কাটতে না কাটতেই আবার দিন গুনি পরের বছর পূজার। এবারেও তার অন্যথা হবে না।’
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- মাস্টারদা সূর্য সেন হল অ্যালামনাইয়ের নতুন কমিটি ঘোষণা, সভাপতি ডাবলু, সাধারণ সম্পাদক পলাশ
- সরকারি বাঙলা কলেজে উপবৃত্তি আবেদনে শিক্ষার্থীদের পাশে ছাত্রদলের নিরব
- ৬.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল
- নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ৭০ শতাংশের ভিসা প্রত্যাখ্যান, বাড়ছে উদ্বেগ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৬ অক্টোবর)
- বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডে ৭ ক্যাটাগরিতে ৩৮ পদে নিয়োগ
- আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীতে ২২৮ পদে নিয়োগ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১২ অক্টোবর)
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ভর্তির আবেদন শুরু আজ
- ২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস
- আড়ংয়ে পার্টটাইম চাকরির সুযোগ, থাকছে যেসব সুযোগ-সুবিধা
- এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর সাক্ষাৎ
- বিআইডব্লিউটিসি ও মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই
- ভারতকে ৩ রানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
- সালাহউদ্দিন আহমেদের জানাজায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান