ঢাকা, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩
মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে অ-মুক্তিযোদ্ধা বাদে কঠোর যাচাই
নিজস্ব প্রতিবেদক: মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় থাকা অ-মুক্তিযোদ্ধাদের শনাক্ত করে বাদ দিতে চুলচেরা যাচাই-বাছাই চলছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী আহমেদ আযম খান। বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের তালিকা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের প্রকৃত তালিকা প্রণয়নের কৌশল ও করণীয় নির্ধারণে আয়োজিত মতবিনিময় সভা শেষে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে নির্মোহ অবস্থান নেওয়া হবে। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় রাখা এবং অ-মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দেওয়ার লক্ষ্যেই এই যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচকেরা অংশ নেন। সেখানে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তা সঠিকভাবে তুলে ধরার কৌশল ও করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।
আহমেদ আযম খান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত যোদ্ধাদের তালিকায় অনেক অ-মুক্তিযোদ্ধা যুক্ত হওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। পাশাপাশি ১৯৭১ সালের শহীদদের তালিকা এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় নির্যাতনের শিকার বীরাঙ্গনাদের তালিকা নিয়েও বিভিন্ন সময়ে আলোচনা ও বিতর্ক হয়েছে। এসব বিষয়ে দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে নির্মোহভাবে যাচাই করে সঠিক তথ্য তুলে আনার চেষ্টা করছে মন্ত্রণালয়।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার ইতিহাস যেন যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ হয়, সেটিই তাঁদের লক্ষ্য। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে স্বাধীনতার ইতিহাস সঠিকভাবে জানতে পারে, সে জন্য নির্মোহ অবস্থান থেকেই মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
মুক্তিযোদ্ধা তালিকা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বুধবারের মতবিনিময় সভাটি কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আয়োজন করা হয়নি। এর আগে এ ধরনের গোলটেবিল বৈঠক হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের মতামত নেওয়া হবে। সবার মতামতের ভিত্তিতে জাতীয় ঐকমত্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে।
নতুন করে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আবেদন নেওয়া হচ্ছে কি না জানতে চাইলে আহমেদ আযম খান বলেন, নতুন করে আবেদন নেওয়া হচ্ছে না। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও কেন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আবেদন নেওয়া হবে, সেটি প্রশ্ন। তাই ৭ অক্টোবরের পর নতুন করে আবেদন নেওয়া হবে না বলে প্রজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে যারা আবেদন করেছেন, তাঁদের আবেদন চুলচেরা যাচাই-বাছাই করা হবে। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর যদি দেখা যায় কেউ প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হয়েও তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন, তাঁকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে চূড়ান্ত যাচাই-বাছাইয়ে যারা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উত্তীর্ণ হবেন, শুধু তাঁদেরই তালিকায় রাখা হবে।
আগের তালিকায় থাকা অ-মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রেও যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে।
বিভিন্ন মহলে অ-মুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকার অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ৮৫ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার কথা বলা হয়েছে। তবে তিনি তাঁদের ‘অ-মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে অভিহিত করতে চান।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘অ-মুক্তিযোদ্ধা কেন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে থাকবে? এটাও স্বাধীনতার ইতিহাসের একটা দায়। সেখান থেকেও আমরা বেরিয়ে আসতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার ইতিহাস বাংলাদেশের পরিচয়ের ইতিহাস। সেই ইতিহাসে কোনো মিথ্যা, কলঙ্ক বা দায় যেন না থাকে, সে লক্ষ্যেই কাজ করা হচ্ছে।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ৪৩ পদে নিয়োগ দেবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, আবেদন অনলাইনে
- ঢাবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ
- প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ৫৩৮ পদে নিয়োগ, আবেদনের শেষ সময় ৬ অক্টোবর
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৫ অক্টোবর)
- মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ, বাংলাদেশে দেখবেন যেভাবে
- অক্টোবরে জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণা মন্ত্রণালয়ের
- পে স্কেল বাস্তবায়নে মাউশির নতুন নির্দেশনা
- বেসরকারি মাদ্রাসার শিক্ষকদের সেপ্টেম্বরের বেতন-ভাতার চেক ছাড়
- ব্রাজিল বনাম ভারত: সরাসরি দেখুন এখানে
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ১০ দিনের ছুটির সুযোগ
- আজকের নামাজের সময়সূচি (২ অক্টোবর)
- ৯ গোল খেয়ে দুই ফুটবলারের ‘নারীসঙ্গ’ নিয়ে যা জানা গেল
- যে কারণে স্থগিত বাংলাদেশ-পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন্স ম্যাচ
- শিশুশ্রম বন্ধে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের
- আজকের নামাজের সময়সূচি (১ অক্টোবর)