ঢাকা, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
দেশের সব প্রতিষ্ঠান বিধ্বস্ত অবস্থায় আছে: শফিকুর রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার পাশাপাশি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও বর্তমানে বিধ্বস্ত অবস্থায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘দেশ আমাদের সবার। আমরা বিরোধী দলে থাকলেও আমরা দায়িত্বহীন নই। আমাদেরও দায়িত্ব আছে।’
রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর মধুবাগ খেলার মাঠে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ‘৪–১০ অক্টোবর দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সপ্তাহ’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শুধু স্বাস্থ্যব্যবস্থা নয়, দেশের প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই এখন সংকটাপন্ন। তাঁর ভাষায়, ‘দেশে শুধু স্বাস্থ্যব্যবস্থা নয়, কার্যত দেশের সব প্রতিষ্ঠান এখন বিধ্বস্ত অবস্থায় আছে। ব্যাংক, বিমা, করপোরেশন, স্টক মার্কেট আজকে মাটির সঙ্গে মিশে আছে।’ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজধানীতে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থাকার পরও দিনে-দুপুরে ও রাতে বিভিন্ন সময় নানা অপকর্ম ঘটছে। সরকারের কেন্দ্রীয় অবস্থান রাজধানীর এই পরিস্থিতি থেকেই সারা দেশের অবস্থা বোঝা যায় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, পরিস্থিতি ‘খুবই উদ্বেগজনক’।
বিমানবন্দরের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত আমির বলেন, তিনদিন আগে ঢাকা এয়ারপোর্টে সীমাহীন দুর্নীতি, অন্যায় ও অপকর্মের প্রতিবাদ করেছিলেন ’৭১-এর রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা, দু’বারের সাবেক এমপি ও সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর, যাকে দেশের মানুষ সবাই চেনে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, নিজের লাগেজ পাওয়ার জন্য কেন তাকে তিন ঘণ্টার অধিক সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ওমরাহ থেকে ফেরার সময় ওই ব্যক্তি ও তাঁর সঙ্গীরা সঙ্গে করে কিছু জমজমের পানি এনেছিলেন। পরে সেটি আলাদা করে তাঁদের হাতে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জমজমের পানির মালিককে বলা হয়েছিল, সেটি পরিত্যক্ত। তখন তিনি বলেন, ‘আমি চোর নই। আরেকজনের কষ্টার্জিত এবং ট্যাক্স দিয়ে আনা পানি আমি নিয়ে যাব, এটা আমার দ্বারা সম্ভব হবে না। আমি পবিত্র পানি এনেছি আমার বিশ্বাসের জায়গা থেকে। আমার পানি দাও।’
ঘটনাটি নিয়ে তিনি বলেন, প্রথমে জানানো হয়েছিল, কনটেইনার মদিনায় রয়ে গেছে এবং আপলোড হয়নি। পরে ওই ব্যক্তি আরও উত্তেজিত হলে খোঁজ নিয়ে জানানো হয়, কনটেইনার এসেছে, তবে ভুলক্রমে তা দেওয়া হয়নি। একই সময়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন সংসদ সদস্য ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে এসেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁদের সঙ্গে অশুভ আচরণ করা হয়েছে এবং কোনো সূত্র ছিল না।
জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘না তাকে উত্তেজিত করা হয়েছে, বাধ্য করা হয়েছে। তিনি কিছু কথা বলেছেন, কথা হয়তো অনেকের ভালো লাগেনি, নাও লাগতে পারে। কিন্তু যে বিষয়ে তিনি প্রতিবাদ করেছেন, তা ১০০ বার সত্য।’
তিনি বলেন, ওই ব্যক্তি ভুক্তভোগী যাত্রীদের হয়ে কথা বলেছেন। দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখা খেটে খাওয়া প্রবাসী ভাই-বোনদের পক্ষেও তিনি কথা বলেছেন, যাঁদের ব্যাগ কেটে ভেতর থেকে মূল্যবান সম্পদ সরিয়ে নেওয়া বা চুরি করা হয়।
ডা. শফিকুর রহমানের অভিযোগ, ওই ঘটনায় তড়িঘড়ি করে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং মামলাটি মিথ্যা। মামলায় বলা হয়েছে, তিনি একজনকে শারীরিকভাবে নাজেহাল করেছেন। তাঁর ভাষায়, ‘এটা ১০০ ভাগ নয়, ১০০০ ভাগ মিথ্যা। তিনি কারো গায়ে হাত তোলেননি।’
আদালতে তাঁদের আইনজীবী জানতে চেয়েছেন, কাকে মারধর করা হয়েছে এবং তার প্রমাণ দেখাতে। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এয়ারপোর্ট সম্পূর্ণ সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকা সত্ত্বেও বলা হয়েছে, ওই এলাকায় সিসি ক্যামেরা ছিল না। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘বুঝতে পারছেন বিষয়টা?’
একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে হাতকড়া পরানো, অপমান করার জন্য হেলমেট পরানো এবং তাঁর বুকের জ্যাকেট ফেলে দেওয়ার অভিযোগ তুলে এর নিন্দা জানান জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘এখন আর আপনি শুধু জামায়াতে ইসলামের লোক, নেতা নন। এখন আপনি সারা বাংলাদেশের ভুক্তভোগী, নির্যাতিত সব মানুষের নেতা হয়ে উঠেছেন।’
ডা. শফিকুর রহমান জানান, মামলা হওয়ার পর তিনি ওই ব্যক্তিকে ফোন করে অ্যান্টিসিপেটরি বেল নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন। জবাবে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেছেন, ‘আমি অন্যায় করিনি, কাজেই আমি আত্মসমর্পণ করব না। আমি চাই আমাকে গ্রেপ্তার করা হোক। আমি চাই, প্রতিবাদের কারণে আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এটা বাংলাদেশের কোটি মানুষ এজন্য দেখেছেন।’
তিনি বলেন, ‘মানুষ হিসেবে আমরা কেউ ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে নই। আমাদের এবং উনার কোনো ভুলত্রুটি থাকলে আল্লাহ তাও ক্ষমা করে দিন।’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি দেশবাসী হালকাভাবে নেবে না। প্রবাসীদের পক্ষে ওই ব্যক্তি যে কথা বলেছেন, তাঁরাও বিষয়টি হালকাভাবে নেবেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারকে সতর্ক করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটি মেডিকেল সেন্টার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারে না। সেখানে রাস্তার অন্ধকারে সেটি ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়েছে এবং সব সম্পদ উজাড় করা হয়েছে। তিনি জানতে চান, কারা এটি করেছে এবং সিসি ক্যামেরায় তা ধরা পড়েছে কি না।
তিনি অভিযোগ করেন, সেখানে জনপ্রতিনিধিরা আড়ালে-আবডালে থেকে এবং পাশে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। জনগণের চোখে ধুলো দিতে একজনকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করানো হলেও সংশ্লিষ্ট দুষ্কৃতিকারীকে এখনো দল থেকে বহিষ্কার করা হয়নি। তাঁকে এখনো গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়নি এবং আরও যারা দুষ্কৃতকারী, তাঁদেরও গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জনগণকে বোকা ভাববেন না, অন্ধ ভাববেন না। আপনাদের যদি একজনের দুটো করে চোখ থাকে, তাহলে জনগণের সূর্যের মতো দুটো চোখ আছে। পরিষ্কার করে সবকিছু দেখেন। আড়াল করতে পারবেন না। এখন আড়াল করার জমানা না। এখন মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু জনগণের দোরগোড়ায় হাতে-হাতে পৌঁছে যায়।’
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ডেঙ্গুর আগে হামেও অসংখ্য মায়ের বুক খালি হয়েছে। সংসদে এসব বিষয়ে কথা বলার সময় এমনভাবে জবাব দেওয়া হয় যে বাংলাদেশ উন্নত বিশ্বের একটি দেশে পরিণত হয়েছে এবং এখানে কোনো সমস্যা নেই।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গুর জন্য ইতোমধ্যেই বিশ্বে প্রতিষেধক টিকা বাজারে আছে। এ বিষয়ে আমাদের সরকার কোনো উত্তর দেয়নি। ঠিক আছে, সরকারিভাবে যদি আনার তহবিল না থাকে, বেসরকারি রাস্তা ওপেন করে দেন। অন্তত মানুষ বাঁচার জন্য একটা অস্ত্র তো হাতে পাবে। নিজেও আনবে না, বাজারও খুলে দেবে না।’
তিনি বলেন, দুর্যোগের সময় জামায়াতে ইসলামী বসে থাকার সংগঠন নয়। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা কি দেখে বসে থাকব? জামায়াতে ইসলামী বসে থাকার সংগঠন নয়। আপনারা দেখেছেন, দেশে যখনই যে দুর্যোগ এসেছে, এটা আল্লাহর ইচ্ছা, আমরা সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছি।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ডেঙ্গুকে আমরা একটা মহামারির মতো দেখছি। এজন্য আমরা এই সপ্তাহটা ঘোষণা করেছি। ঘোষণা করে কিছু লিফলেট বিতরণ করাই আমাদের কাজ না। আমরা জনগণকে সচেতন করব এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমরা ভূমিকা ইনশাআল্লাহ পালন করব।’
ঢাকা উত্তরের মেয়র প্রার্থী হিসেবে যাঁকে জনগণের প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, তিনি ইতোমধ্যে কল্যাণমূলক, সচেতনতামূলক ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছেন বলে জানান তিনি। বিভিন্ন খাল, বদ্ধ নালা ও মশার প্রজননস্থল, বিশেষ করে এডিস মশা যেখানে জন্ম নেয়, সেসব জায়গা পরিচ্ছন্ন করতে তাঁর অভিযান শুরু হয়েছে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘তাকে আমরা জনগণের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাই।’
জামায়াত আমির বলেন, সামাজিকভাবে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তিদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো জায়গায় যেন তাঁরা চিকিৎসায় অবহেলার শিকার না হন, সেদিকেও নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, ‘দায়িত্ব পালন করলে সাধুবাদ জানাবো। না করলে অবশ্যই জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা মোকাবিলা করা হবে।’
এসময় কেন্দ্রীয় ও মহানগর জামায়াতে ইসলামী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- একসঙ্গে ৬৮ এসিল্যান্ডকে প্রত্যাহার করল সরকার, দেখুন তালিকা
- প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে দ্বিতীয় দফায় নিয়োগপত্র
- ৩৯ পদে ১০০ জনকে নিয়োগ দেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৭ সেপ্টেম্বর)
- ৪৩ পদে নিয়োগ দেবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, আবেদন অনলাইনে
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৯ সেপ্টেম্বর)
- এইচএসসি উত্তীর্ণদের বৃত্তি দেবে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক, জানুন বিস্তারিত
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ সালমান মুক্তাদিরের
- তিন পদে ৩৫ জনকে নিয়োগ দেবে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়
- ওয়ালটনে টেরিটরি সেলস ম্যানেজার পদে নিয়োগ
- মাসে ৩৫শ রিঙ্গিত বৃত্তিতে মালায়ায় পিএইচডির সুযোগ
- একাদশে দ্বিতীয় ধাপে আবেদনের সুযোগ, আবেদন করবেন যেভাবে
- এইচএসসি পাসেই ৪৭ পদে চাকরি দেবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়
- বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকে চাকরি, আবেদন ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত
- অক্টোবরে জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণা মন্ত্রণালয়ের