ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
রাজ্জাকের কথা শুনলে জামায়াতের অনেক প্রশ্নের সমাধান হতো: আইনমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দল হিসেবে তাদের সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের কথা শুনলে অনেক প্রশ্নের সমাধান হয়ে যেত বলে দাবি করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের লেখা বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। বইটির নাম ‘বাংলাদেশ জামায়াত-ই ইসলামী : ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিক্স’। বইটি প্রকাশ করেছে দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড।
ব্যারিস্টার রাজ্জাক জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন। ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আসামি পক্ষের প্রধান কৌঁসুলির দায়িত্বও পালন করেন তিনি। ১৯৪৯ সালের ৬ মার্চ জন্ম নেওয়া ব্যারিস্টার রাজ্জাক ৭৫ বছর বয়সে ২০২৫ সালের ৪ মে মারা যান।
১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকার জন্য দলটিকে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন আব্দুর রাজ্জাক। তাঁর লেখা ‘বাংলাদেশ জামায়াত-ই ইসলামী : ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিক্স’ বইয়েও বিষয়টি উঠে এসেছে।
বইটির প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, রাজ্জাক সাহেব ১৯৭১ নিয়ে যে মূল্যায়ন করেছেন এবং জাতির কাছে একটি স্টেটমেন্ট দেওয়ার যে কথা বলেছেন, সেটি ২০১৬ সালে জামায়াত সই করলে দলের অনেক প্রশ্নের সমাধান হতো।
ব্যারিস্টার রাজ্জাকের বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, তাঁর ড্রাফটে একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকা জাতির সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছিল। জামায়াত ইনডাইরেক্টলি ‘না’ ভোট না দেওয়ার মধ্য দিয়ে একাত্তরের সেই ভূমিকা মেনে নিলো, বাই পার্টিসিপেটিং দ্য পার্লামেন্টারি প্রসেস। এখানেই রাজ্জাক সাহেবের দূরদর্শিতা প্রকাশ পায়।
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘জামায়াত কিন্তু এই প্রশ্নটাই এখন মেনে নিয়েছে। এই স্টেটমেন্টের আলোকেই জামায়াতের আজকের পজিশন।’
বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার রাজ্জাকের চিন্তাধারা নিয়েও কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তাঁর ভাষায়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বর্তমান প্রজন্মকে বড় একটি শিক্ষা দিয়েছে। সময়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে নতুন প্রজন্ম যেভাবে অন্যায়কে তছনছ ও ভেঙে দিতে পারে, ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের চিন্তাধারায় সেই নির্দেশনাই ছিল।
ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা যদি ইসলামি শাসন কায়েম করে তা চাপিয়ে দেওয়ার কথা বলি, সেটি ভ্রান্ত নীতি হবে। তাঁর মতে, সমাজ থেকে ইসলামিক মূল্যবোধের আলোকে একটি রাষ্ট্র গড়ে উঠবে এবং রাষ্ট্র পরিচালিত হবে এটাই প্রকৃত ইসলামিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েমের সঠিক পথ।
মন্ত্রী বলেন, ‘ব্যারিস্টার রাজ্জাকের বইয়ে ঠিক এইভাবে বিষয়টা এসেছে, আমি দেখলাম। আমি রাজ্জাক সাহেবের ইসলামিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েমের চিন্তার সাথে দ্বিমত পোষণ করতে পারি, কিন্তু একটা মূল্যবোধের জায়গা থেকে, একটা রাষ্ট্রব্যবস্থার জায়গা থেকে আমার ধারণা, দিস ইজ দ্য প্রোস ফর জুরিস্ট’।
বইটির মূল্যায়ন করতে গিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এই বইটা আমার কাছে সাহিত্য মনে হয়নি, গবেষণাধর্মীও মনে হয়নি, এটা একটা জীবন্ত একজন মানুষের এনসাইক্লোপিডিয়ার মতো মনে হয়েছে। রাজ্জাক সাহেব একটা সমাজকে তার জীবন দিয়ে যেভাবে দেখেছেন, তার জীবন দর্শন যেভাবে ছিল এই বইটা তার একটা রিফ্লেকশন।’
মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে জামায়াতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিত না থাকার বিষয়টিও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, জামায়াতের যারা বর্তমানে মূলধারার আইনজীবী হিসেবে পরিচিত এবং যারা দলটির নেতৃত্বে আছেন, এই আলোচনায় তাঁদের উপস্থিত থাকার প্রত্যাশা ছিল তাঁর। কিন্তু তাঁদের কেউ উপস্থিত হতে পারেননি। তাঁর ভাষায়, ‘এটা তাদের দীনতা, এটা তাদের ব্যর্থতা, এটা তাদের সংকীর্ণতা ও সীমাবদ্ধতা।’
তাঁদের উপস্থিত হয়ে বইটির বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণের সুযোগ ছিল বলেও মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কারণ দিস ইজ ডেমোক্রেসি। আপনি রাজ্জাক সাহেবের সব কথার সঙ্গে একমত হবেন এটা যেমন সত্যি না, আবার তার সমালোচনা গ্রহণ করতে পারবেন না এটাও সঠিক না।’
বইটিতে বিএনপি সম্পর্কে সমালোচনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এই বইয়ের মধ্যে বিএনপি সম্পর্কে সমালোচনা করা হয়েছে, ফাইন। উই হ্যাভ টু অ্যাকসেপ্ট। আমরা যদি এটা ধারণ করতে না পারি, সমাজ ব্যবস্থা নিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে পারবো না।’
অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী ছাড়াও অংশ নেন হাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর অধ্যাপক আলী রীয়াজ, দ্য ডেইলি স্টারের কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ, ওয়াশিংটনভিত্তিক সংস্থা রাইট টু ফ্রিডমের প্রেসিডেন্ট জন ড্যানিলোভিচ এবং সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা
- চলতি মাসে টানা চার দিনের ছুটির সুযোগ
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাপানি ভাষা বিষয়ক `NAT-Test`সেবা চালুর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত
- প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ৫৩৮ জন নিয়োগ, আবেদন শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর
- ছবিতে সাফল্য আর বাস্তবে সংগ্রাম, প্রবাস জীবনের অদেখা গল্প
- মব হেনস্তার প্রতিবাদে ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান তাহসিনের
- নটর ডেম কলেজের একাদশের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ
- যে কারণে বিলম্ব হচ্ছে পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ
- একাদশ শ্রেণির ভর্তির ফল প্রকাশ আজ, যেভাবে দেখবেন
- পে-স্কেলের গেজেট কেন প্রকাশ হচ্ছে না, জানা গেল রহস্যময় তথ্য
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১২ সেপ্টেম্বর)
- একাদশে ভর্তি আবেদনের সময়সীমা শেষ হচ্ছে কখন
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৫ সেপ্টেম্বর)
- পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে যা বলছেন কর্মকর্তারা
- আরও ৯০ দিন মেয়াদ বাড়ল ডাকসুর