ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩
ইরানকে বিশ্ববাজার থেকে বিচ্ছিন্ন করতে কঠিন পথে যুক্তরাষ্ট্র
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানকে বিশ্ব অর্থনীতি থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে একটি নতুন নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন।
এর আওতায় তেহরানের প্রায় ৬০টি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি, পণ্যবাহী জাহাজ, সোনা, প্রযুক্তি, বিমান চলাচল ও ডিজিটাল সম্পদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছেন, যাতে তারা ইরানের সঙ্গে সব ধরনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও দেনা-পাওনা চুকিয়ে ফেলে।
তবে তেহরানকে রাতারাতি বিশ্ব অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করা ওয়াশিংটনের জন্য সহজ নয়। দীর্ঘদিনের পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার ধাক্কা সামাল দিতে ইরান এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের সঙ্গে শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে।
কাস্টমস উপাত্ত অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ইরান প্রায় ৫৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি এবং ৬৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে।
ইরানের বিশ্ববাজারে টিকে থাকার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় শক্তি চীন ও ইরাক। চীন মূলত ইরান থেকে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি তেল কেনে। ইরানের সমুদ্রপথে পাঠানো মোট অপরিশোধিত তেলের ৮০ শতাংশের বেশি যায় চীনে। ২০২৪ সালে এর মাধ্যমে প্রায় ১৪ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি বাণিজ্য হয়েছে।
পশ্চিমা নজর এড়াতে কম দামে বা ছায়া-জাহাজের বহর ব্যবহার করে এই তেলের বড় অংশ লেনদেন হয়। অন্যদিকে, প্রতিবেশী ইরাক তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস ও সরাসরি বিদ্যুৎ ইরান থেকে কেনে। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও নির্মাণসামগ্রীসহ ২০২৪ সালে তারা ইরান থেকে ১১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত এতদিন ইরানের অন্যতম প্রধান অর্থপ্রবাহ ও পণ্য অন্য দেশে পাঠানোর মূল পথ বা রি-এক্সপোর্ট কেন্দ্র হিসেবে কাজ করেছে। এর পরিমাণ ছিল প্রায় ৭ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার।
তবে সম্প্রতি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জেরে দুবাই তেহরানের ওপর অনির্দিষ্টকালের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় ইরানের এই গুরুত্বপূর্ণ পথ এখন বন্ধ হয়ে গেছে। অন্যদিকে, প্রতিবেশী তুরস্ক ও আফগানিস্তান এখনো ইরানের বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। তুরস্ক গ্যাস, পেট্রোকেমিক্যাল ও খাদ্যসামগ্রীর বিনিময়ে ৬ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য করেছে। আর আফগানিস্তান জ্বালানি ও অবকাঠামো সামগ্রীর জন্য ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের কেনাকাটা করেছে।
আমদানির ক্ষেত্রেও ইরান নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের ওপর একইভাবে নির্ভরশীল। গত বছর পর্যন্ত ইরানের মোট আমদানির ৩০ শতাংশের বেশি, অর্থাৎ ২১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য সংযুক্ত আরব আমিরাত হয়ে আসত। দুবাইয়ের মধ্যস্থতায় মূলত পশ্চিমা বিশ্বের যন্ত্রপাতি ও ইলেকট্রনিকস ইরানে পৌঁছাত। তবে এই পথ বন্ধ হওয়ায় চীন এখন ইরানের প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে। দেশটি থেকে ১৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের চীনা যন্ত্রপাতি, গাড়ির যন্ত্রাংশ ও শিল্প সরঞ্জাম সরবরাহ পাচ্ছে তেহরান।
ভৌগোলিক সুবিধার কারণে তুরস্কের স্থলপথ ব্যবহার করেও বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক ও শিল্পপণ্যসহ ১১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের আমদানি সম্পন্ন হয়।
এর বাইরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ভারত থেকেও ইরান সীমিত আকারে পণ্য আমদানি করে। এর মধ্যে ইউরোপ থেকে ৬ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং ভারত থেকে ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের চাল, চা ও মৌলিক ওষুধ অন্যতম।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই ইরানকে বিশ্ব অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চাইলে চীন, ইরাক ও তুরস্কের মতো বড় বাণিজ্যিক অংশীদারদের ইরানের সঙ্গে লেনদেন বন্ধ করতে বাধ্য করতে হবে। আর সেটি বাস্তবায়ন করা ওয়াশিংটনের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ৬৪ জেলায় পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগ, আবেদন ১৩ অক্টোবর
- আধুনিক প্রযুক্তিতে শিল্প এগিয়ে নিতে হবে: রিজভী
- এস আলমের কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল
- প্রবাসের ঠিকানা বদলায় শিকড়ের পরিচয় নয়
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স তৃতীয় বর্ষের রুটিন প্রকাশ, দেখুন এখানে
- প্রধান শিক্ষক নিয়োগে হাইকোর্টের রায় স্থগিত
- জাবির জঙ্গলে গভীর রাতে তিন নারীসহ পাঁচ বহিরাগত আটক
- ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি নিয়ে যা জানা গেল
- ফ্যামিলি কার্ডের আশায় টিপসই দিয়ে ‘বিয়ে হয়ে গেল’ আছিয়ার
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৮ অক্টোবর)
- দৈনন্দিন একাডেমিক কার্যক্রম সহজকরণে 'ক্লাসট্যাবলেট'
- বুয়েটে ২৪ পদে নিয়োগ, আবেদন ১১ নভেম্বর পর্যন্ত
- শেখ হাসিনার ফেরার ঘোষণায় দেশজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান
- বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় ঢাবির ২২ শিক্ষক-গবেষক
- বিআরটিসির নতুন চেয়ারম্যান মীর আহমেদ তারিকুল ওমর