ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩

হাসিনাকে ভারত গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় প্রশ্ন বিএনপির

২০২৬ আগস্ট ০৬ ১৪:৫৭:৫৮

হাসিনাকে ভারত গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় প্রশ্ন বিএনপির

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে একটি সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া নিয়ে ভারত সরকারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা।

বিবিসি বাংলাকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “শেখ হাসিনাকে ভারত সরকার গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ কেন দিল-এটি আমাদের প্রশ্ন।”

তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিয়ে আছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আশ্রয়ে থাকার পাশাপাশি শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে নিয়ে রাজনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছেন এবং তাকে সরাসরি গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ প্রশ্ন তুলে বলেন, “বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ড নিয়ে ভারতে থাকা শেখ হাসিনাকে ভারত সরকার কেন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর এই সুযোগ দিল?”

গত ৫ আগস্ট, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনের পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে নয়াদিল্লিতে দক্ষিণ এশিয়া ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অডিও কলে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। ওই সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও উত্তর দেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি দল বিএনপির নেতৃত্বের মধ্যেও এ নিয়ে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে বলে দলটির একাধিক নেতা জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা জুলাই আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের জন্য শেখ হাসিনা দুঃখপ্রকাশ বা ক্ষমা চাইবেন কি না—এ প্রশ্ন করলে তিনি তা এড়িয়ে যান।

ওই সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকা তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, জুলাই আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এক পক্ষকে ইনডেমনিটি বা দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এক পক্ষ দায়মুক্তি পেলে অন্য পক্ষেরও সেই অধিকার রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই আন্দোলনে তারা (আওয়ামী লীগ সরকার) গণহত্যা চালিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা দুঃখ প্রকাশ বা ক্ষমা চায়নি। তার দাবি, তাদের কোনো অনুশোচনাও নেই। বরং তারা ভারতে আশ্রয় নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে তৎপরতা চালাচ্ছে এবং জনগণ তাদের প্রতি ক্ষুব্ধ।

দুই বছর আগে শেখ হাসিনার শাসনের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত কোনো সত্তার সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করে ওই অধ্যাদেশ জারি করা হয়।

পরবর্তীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনী প্রস্তাব সংসদে পাস হয়। ফলে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই থেকে যায়।

নয়াদিল্লির ওই সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা তার দলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের তদন্ত চলছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দলটির বিচার হবে এবং সংশ্লিষ্ট আইনে সে বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণ-রুপার দাম (৫ আগস্ট)

আজকের বাজারে স্বর্ণ-রুপার দাম (৫ আগস্ট)

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের বাজারে আজকের স্বর্ণ ও রুপার দাম প্রকাশ করা হয়েছে। ক্যারেটভেদে স্বর্ণ ও রুপার দামে পার্থক্য রয়েছে। আজকের স্বর্ণের... বিস্তারিত