ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩
হাসিনাকে ভারত গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় প্রশ্ন বিএনপির
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে একটি সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া নিয়ে ভারত সরকারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা।
বিবিসি বাংলাকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “শেখ হাসিনাকে ভারত সরকার গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ কেন দিল-এটি আমাদের প্রশ্ন।”
তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিয়ে আছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আশ্রয়ে থাকার পাশাপাশি শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে নিয়ে রাজনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছেন এবং তাকে সরাসরি গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ প্রশ্ন তুলে বলেন, “বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ড নিয়ে ভারতে থাকা শেখ হাসিনাকে ভারত সরকার কেন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর এই সুযোগ দিল?”
গত ৫ আগস্ট, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনের পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে নয়াদিল্লিতে দক্ষিণ এশিয়া ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অডিও কলে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। ওই সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও উত্তর দেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি দল বিএনপির নেতৃত্বের মধ্যেও এ নিয়ে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে বলে দলটির একাধিক নেতা জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা জুলাই আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের জন্য শেখ হাসিনা দুঃখপ্রকাশ বা ক্ষমা চাইবেন কি না—এ প্রশ্ন করলে তিনি তা এড়িয়ে যান।
ওই সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকা তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, জুলাই আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এক পক্ষকে ইনডেমনিটি বা দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এক পক্ষ দায়মুক্তি পেলে অন্য পক্ষেরও সেই অধিকার রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই আন্দোলনে তারা (আওয়ামী লীগ সরকার) গণহত্যা চালিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা দুঃখ প্রকাশ বা ক্ষমা চায়নি। তার দাবি, তাদের কোনো অনুশোচনাও নেই। বরং তারা ভারতে আশ্রয় নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে তৎপরতা চালাচ্ছে এবং জনগণ তাদের প্রতি ক্ষুব্ধ।
দুই বছর আগে শেখ হাসিনার শাসনের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত কোনো সত্তার সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করে ওই অধ্যাদেশ জারি করা হয়।
পরবর্তীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনী প্রস্তাব সংসদে পাস হয়। ফলে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই থেকে যায়।
নয়াদিল্লির ওই সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা তার দলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের তদন্ত চলছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দলটির বিচার হবে এবং সংশ্লিষ্ট আইনে সে বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বাংলাদেশ পোস্ট বেসিক গ্রাজুয়েট নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি স্টুডেন্ট কাউন্সিলের স্মারকলিপি
- শুধু আইফোনের জন্য নয়, অপ্রতীম হ/ত্যার পেছনে ছিল বিরোধও
- পাভেলকে ঘিরে ফের ভাইরাল পাঁচ মিনিটের ভিডিও
- একাদশ শ্রেণির ভর্তির ফল প্রকাশ আজ, যেভাবে দেখবেন
- রাস্তার পাশে গাড়ি পার্কিং না করার আহ্বান পরিবহন মালিক সমিতির
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি আবেদনের সময় বাড়ল
- সিগারেট নিয়ে নতুন বিধান জারি
- নতুন পে স্কেলে কোন গ্রেডে কত বেতন, দেখুন এখানে
- শতবর্ষী ৮০৮ স্কুল-কলেজের তালিকা করল মাউশি
- মিছিলের প্রস্তুতিকালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৮ কর্মী আটক
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ, আবেদন ১২ অক্টোবর পর্যন্ত
- পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে যা জানা গেল
- আরও ৯০ দিন মেয়াদ বাড়ল ডাকসুর
- অপ্রতিম হ/ত্যার রহস্যময় তথ্য উন্মোচন করেছে পুলিশ
- আত্মহ/ত্যার আগে যা লিখেছিলেন এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী