ঢাকা, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩
কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ
বিনোদন ডেস্ক: নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে আয়োজিত একটি সালিশে রিপন মিয়া দায় স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। সালিশে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং গ্রাম ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নন্দুরা বাজারে বিএনপির কার্যালয়ে এ সালিশ অনুষ্ঠিত হয়।
রিপন মিয়া দক্ষিণ বিশিউড়া গ্রামের মোক্তাল হোসেনের ছেলে। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। পেশায় কাঠমিস্ত্রি হলেও কয়েক বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, একই এলাকার ওই কিশোরীকে রিপন মিয়া প্রায়ই উত্যক্ত করতেন। কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে বাড়ির উঠানে রান্না করার সময় কৌশলে তাকে বাড়ির পেছনে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন রিপন। পরে স্থানীয় দুজন ঘটনাটি দেখে ফেললে তাদের ৫০ হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়রা বিষয়টি নিয়ে সালিশের উদ্যোগ নেন।
স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি নেতা আব্দুল হাই মুন্সি, আতাউর রহমান, স্থানীয় জামায়াত নেতা জয়নাল আবেদীন, দৌলত মিয়াসহ এলাকাবাসী সালিশে অংশ নেন। সেখানে রিপন মিয়া নিজের দোষ স্বীকার করেন বলে দাবি করা হয়। পরে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং পাঁচ দিনের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধের সময় নির্ধারণ করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া সালিশের একটি ভিডিওতে রিপন মিয়াকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার দোষ থাকলেও আছে, না থাকলেও আছে। আমি সবার সিদ্ধান্ত মেনে নেব।’ একই ভিডিওতে তাকে উপস্থিত মুরুব্বিদের পা ধরে ক্ষমা চাইতেও দেখা যায়।
এ ঘটনায় জেলা এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক মো. সোহাগ মিয়া প্রীতম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘রিপন ভিডিও’র রিপন মিয়া ধর্ষণ বা অনৈতিক সম্পর্ক যা করেছে, তা ফৌজদারি অপরাধের আওতায় পড়ে। উপযুক্ত প্রমাণ-আলামতসহ পুলিশ ডেকে থানায় দেন। জেল-জরিমানা হোক। কিন্তু ক্ষমতাসীন সরকারের রাজনৈতিক দলের পার্টি অফিসের ভেতর বসে ফৌজদারি অপরাধের বিচার করার দুঃসাহস দেখানো আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার একটি বাজে নজির।’
সালিশে অংশ নেওয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান বলেন, মেয়েটি অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের। টাকার লোভ দেখিয়ে রিপন তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ঘটনাটি জোরপূর্বক ধর্ষণ নয় বলে তারা জেনেছেন। মেয়েটির পরিবারের মামলা পরিচালনার সামর্থ্য না থাকায় এলাকাবাসী মিলে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করেছেন।
ফৌজদারি অপরাধের ঘটনা সালিশে নিষ্পত্তি করা যায় কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মেয়েটির হতদরিদ্র পরিবারের কথা বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
এদিকে, রোববার রাতের পর থেকে রিপন মিয়া গা ঢাকা দিয়েছেন। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল খায়ের বলেন, এ ঘটনায় থানায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তবে বিষয়টি জানার পর এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার তারিখ জেনে নিন
- বাংলাদেশের জলবায়ু অগ্রাধিকার তুলে ধরতে তুরস্ক যাচ্ছে YFB-এর প্রতিনিধিদল
- মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেবে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (০৩ নভেম্বর)
- বিশ্ববিদ্যালয়-মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা কি পেছাচ্ছে?
- পুলিশের ৭৮ পরিদর্শক পদোন্নতি পেয়ে হলেন এএসপি
- ঢাবির ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
- সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার্থীদের ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে যা জানা গেল
- যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণীর সঙ্গে যৌন বিকৃতির অভিযোগে সাবেক শিবির নেতা গ্রেপ্তার
- প্রবাসীর সন্তানেরা পাবে শিক্ষাবৃত্তি, জানুন আবেদন পদ্ধতি
- কিউএসের এশিয়া র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের শীর্ষ ২০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা প্রকাশ
- ফের স্বর্ণের দাম বেড়েছে, ভরিতে কত?
- জাতীয়করণের তালিকায় ৫ বেসরকারি কলেজ
- সরাসরি সাক্ষাৎকারে ১৩০ পদে নিয়োগ দেবে মেঘনা গ্রুপ
- ২০২৭ সালে সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ