ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে: হুমায়ুন কবির
নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ৫০ বছরে বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক অর্থনীতি, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, অবকাঠামো এবং সংযোগের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘কম্পারেটিভ গভর্নেন্স ফোরাম ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, গত চার দশকে চীন বিশ্বের অন্যতম সফল উন্নয়ন মডেল গড়ে তুলেছে। দেশটি প্রায় ৮০ কোটি মানুষকে চরম দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করেছে, ব্যাপক বাজার সংস্কার বাস্তবায়ন করেছে এবং বৈদ্যুতিক যান, সৌরশক্তি, উন্নত উৎপাদন ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এসব অভিজ্ঞতা গভীরভাবে অধ্যয়ন করে বাংলাদেশের শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, তুলনামূলক শাসনব্যবস্থা বলতে কোনো দেশের মডেল হুবহু অনুসরণ করাকে বোঝায় না। বরং নিজস্ব বাস্তবতা ও জাতীয় প্রয়োজনের আলোকে অন্য দেশের সফল অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণই এর মূল উদ্দেশ্য।
উপদেষ্টা আরও বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব এখন একটি সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বে রূপ নিয়েছে। স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তিতে বাংলাদেশ সব দেশের সঙ্গে গঠনমূলক অংশীদারিত্ব আরও জোরদারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, আগামী দিনে দুই দেশের মধ্যে শূন্য শুল্ক সুবিধা নিয়ে আলোচনা, উৎপাদন খাতে সহযোগিতা, সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থানান্তর এবং উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রপ্তানি বহুমুখীকরণের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাম্প্রতিক বৈঠক দুই দেশের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিআইআইএসএস এবং চীনের ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্স যৌথভাবে চার দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ফোরামের আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বক্তব্য রাখেন।
সুশাসনের বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, মানুষের জীবনমান উন্নয়নই কার্যকর শাসনব্যবস্থার মূল লক্ষ্য। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, আইনের শাসন ও উন্নত জনসেবার মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন সম্ভব। তিনি জানান, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, জনপ্রশাসনের আধুনিকায়ন এবং ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে জনসেবার মানোন্নয়নে বাংলাদেশ কাজ করছে।
জলবায়ু পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি এখন শুধু পরিবেশগত নয়; বরং উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও মানবিক সংকটের বিষয়। বাংলাদেশ দুর্যোগ প্রস্তুতি ও ঝুঁকি হ্রাসে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করলেও এ বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় জলবায়ু অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতি আরও বেশি সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, অবকাঠামো, বিমান চলাচল, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক এবং আঞ্চলিক সংযোগ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। টেকসই অবকাঠামো, পর্যটন, বাণিজ্য ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে চীনসহ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণে বাংলাদেশ আগ্রহী।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স শেষপর্বের ফল প্রকাশ
- মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের জুলাইয়ের বেতন ফাইল চূড়ান্ত
- এসএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষণে আবেদন করবেন যেভাবে
- মালয়েশিয়াকে ৮৯ রানে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে বাংলাদেশ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৯ আগস্ট)
- দাখিল ও কারিগরি বোর্ডের ফল দেখবেন যেভাবে
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১০ আগস্ট)
- পরীক্ষায় ফেল বা খারাপ করার পর শিক্ষার্থীদের করণীয় কী
- একাদশে ভর্তি: আবেদন ও প্রক্রিয়া জানুন
- ১৯তম নিবন্ধন থেকে শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশ করবে না এনটিআরসিএ
- পাঁচ দপ্তরে নতুন সচিব নিয়োগ দিল সরকার
- পিএসসিতে আরও চার সদস্য নিয়োগ
- এসএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষণ নিয়ে যা জানালেন শিক্ষামন্ত্রী
- এসএসসিতে ফেলের হার ৩৭.৭৫ শতাংশ
- যেভাবে সহজে অনলাইনে দেখবেন এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল