ঢাকা, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

অফিসের দায়িত্বও হতে পারে ইবাদত, যা বলছে ইসলাম

২০২৬ জুলাই ২৯ ১২:৫৯:২৯

অফিসের দায়িত্বও হতে পারে ইবাদত, যা বলছে ইসলাম

ডুয়া ডেস্ক: ইসলামে ইবাদতের ধারণা কেবল নামাজ, রোজা, জাকাত বা হজের মতো নির্দিষ্ট ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং শরিয়তের সীমারেখা মেনে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সম্পাদিত প্রতিটি বৈধ কাজই ইবাদতের মর্যাদা লাভ করতে পারে। সে কারণে একজন শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, কৃষক কিংবা অফিসকর্মী যদি সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করেন, তবে তাঁর কর্মজীবনও ইবাদতের অংশ হয়ে ওঠে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘বলুন, আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু সবই বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।’ (সুরা আনআম, আয়াত : ১৬২)। এ আয়াতের মাধ্যমে একজন মুমিনকে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে যে, জীবনের প্রতিটি বৈধ কাজ যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিবেদিত হয়, তবে তা ইবাদতের মর্যাদা লাভ করে।

ইসলামের দৃষ্টিতে অফিসের দায়িত্ব একটি আমানত। নিয়োগকর্তা কর্মীর ওপর নির্দিষ্ট সময়, শ্রম ও দায়িত্ব পালনের যে বিশ্বাস অর্পণ করেন, তা যথাযথভাবে রক্ষা করা ইসলামী নৈতিকতার অংশ। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দেন, তোমরা আমানত তার হকদারের কাছে পৌঁছে দাও।’ (সুরা আন-নিসা, আয়াত : ৫৮)। তাই কর্মঘণ্টায় অবহেলা, অযথা সময় নষ্ট, দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া কিংবা প্রতিষ্ঠানের সম্পদের অপব্যবহার ইসলামের দৃষ্টিতে আমানতের খিয়ানতের শামিল।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ ভালোবাসেন সেই ব্যক্তিকে, যে যখন কোনো কাজ করে, তখন তা দক্ষতা ও উৎকর্ষের সঙ্গে সম্পন্ন করে।’ (আল-মুজামুল আওসাত, তাবারানি, হাদিস : ৮৯৭)। এ কারণে কর্মক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব, সময়ানুবর্তিতা এবং মানসম্মত কাজ একজন মুসলিমের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত।

অফিসে সততা বজায় রাখাকেও ইসলামে ইবাদতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ঘুষ গ্রহণ, জালিয়াতি, মিথ্যা তথ্য দেওয়া, হিসাব গোপন করা কিংবা সহকর্মীর অধিকার ক্ষুণ্ন করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।’ (মুসলিম, হাদিস : ১০২)। তাই একজন মুসলিম কর্মীর সব পরিস্থিতিতে সত্যবাদিতা ও ন্যায়পরায়ণতার পরিচয় দেওয়া উচিত।

কর্মক্ষেত্রে উত্তম আচরণও ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। সহকর্মীদের সম্মান করা, অধস্তনদের প্রতি সদয় হওয়া, ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে শালীন আচরণ করা এবং দলগত কাজে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা সৎকাজ ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করো।’ (সুরা আল-মায়িদা, আয়াত : ২)।

ইসলাম কর্মজীবন ও ইবাদতের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষারও শিক্ষা দেয়। অফিসের ব্যস্ততার কারণে ফরজ ইবাদতে অবহেলা যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি ইবাদতের অজুহাতে অর্পিত দায়িত্ব পালনে অবহেলাও সমর্থনযোগ্য নয়। সৎ উপার্জনের মাধ্যমে নিজের ও পরিবারের জন্য হালাল জীবিকা নিশ্চিত করাকেও ইসলাম মহৎ ইবাদত হিসেবে গণ্য করেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মানুষ নিজের হাতের উপার্জনের চেয়ে উত্তম খাদ্য কখনো আহার করেনি।’ (বুখারি, হাদিস : ২০৭২)।

সব মিলিয়ে, অফিসে দায়িত্ব পালন শুধু জীবিকা অর্জনের মাধ্যম নয়; এটি আল্লাহর নৈকট্য লাভেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। সঠিক নিয়ত, আমানতদারি, সততা, দক্ষতা ও নৈতিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে প্রতিদিনের কর্মঘণ্টাও ইবাদতের সওয়াবে পরিণত হতে পারে। তখন কর্মস্থল শুধু পেশাগত দায়িত্ব পালনের স্থান নয়, বরং চরিত্র গঠন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এক অনন্য ক্ষেত্র হয়ে ওঠে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৯ জুলাই)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৯ জুলাই)

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি... বিস্তারিত