ঢাকা, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

আজ সারা দেশে এনসিপির বিক্ষোভ কর্মসূচি

২০২৬ জুলাই ২৯ ০৯:০৪:২১

নিজস্ব প্রতিবেদক: হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা’ শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগের ঘটনায় সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি। মঙ্গলবার রাতে জারি করা জরুরি সাংগঠনিক নির্দেশনায় বুধবার দেশের সব সাংগঠনিক ইউনিটকে এ কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে এনসিপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত জরুরি নির্দেশনায় বলা হয়, হবিগঞ্জে দলের শান্তিপূর্ণ পদযাত্রায় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের গাড়িবহরে বিএনপির নেতা-কর্মীদের হামলার প্রতিবাদে বুধবার সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

নির্দেশনায় মহানগর, জেলা, উপজেলা ও থানা পর্যায়ের সব সাংগঠনিক ইউনিটকে নিজ নিজ এলাকায় প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কর্মসূচি সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ এবং নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দলটি বিএনপিকে দায়ী করে। পরে শহরে প্রতিবাদ মিছিল বের করলে আরেক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমসহ কয়েকজন আহত হন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, বিকেল পাঁচটার দিকে হবিগঞ্জ টাউন হলের সামনে এনসিপির সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ শেষে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহর সার্কিট হাউসের দিকে রওনা হলে স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় তার গাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়া হয়। চালক দ্রুত গাড়ি চালিয়ে সার্কিট হাউসে পৌঁছে যান।

এর কিছুক্ষণ পর সারজিস আলমের গাড়িকেও ধাওয়া করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে তার গাড়ি শহরের সোনালী ব্যাংক ভবনে আশ্রয় নেয়। খবর পেয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ভবনটি ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন। রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সারজিস আলমকে সেখান থেকে উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়।

এনসিপির অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলাকারীরা তাদের নেতা-কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। দলটির দাবি, মিডিয়া টিম বহনকারী একটি মাইক্রোবাস সার্কিট হাউসে প্রবেশ করলে হামলাকারীরা সেখানে ভাঙচুর চালায় এবং সাংবাদিকদের মুঠোফোন ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়।

ঘটনার পর ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের একদল নেতা-কর্মী হকিস্টিক, রামদা, চেইনসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র‍্যাব উপস্থিত থাকলেও তারা কার্যকর কোনো ভূমিকা নেয়নি। হামলায় দলের মিডিয়া টিমের সদস্য, চালক ও স্থানীয় নেতা-কর্মীরা গুরুতর আহত হয়েছেন এবং কারও কারও হাত-পা ভেঙে গেছে।

অন্যদিকে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে এনসিপি ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হন এবং শহরের প্রধান সড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

তবে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান দাবি করেন, এনসিপির নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্যের জেরেই নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং সেখান থেকেই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে।

হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় বুধবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতে যাচ্ছে এনসিপি।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আবারও বেড়েছে সোনার দাম

আবারও বেড়েছে সোনার দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাটসহ স্বর্ণালঙ্কারের দাম প্রতি... বিস্তারিত