ঢাকা, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩
৭১-এর ইতিহাস ভুলে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই: শিক্ষামন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক: সত্যকে কখনোই ঢেকে রাখা যায় না এবং ইতিহাসের বড় ধরনের অপরাধগুলো সময়ের সাথে মুছে যায় না বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেন, কিছু অপরাধ আছে যেগুলোর কোনো ক্ষমা নেই, কারণ পাপ কখনোই সম্পূর্ণভাবে বিলীন হয় না। তার মতে, জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সেই অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল ১৯৭১ সালে, যা ৫৪ বছর পরেও জনগণের স্মৃতি থেকে মুছে যায়নি।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
শিক্ষামন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, কিছু বিষয় নিয়ে কথা উঠলেই বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেক সময় কেউ কেউ তা শুনতে চান না বা এড়িয়ে যেতে চান। তবে তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, কেউ না চাইলেও কি ইতিহাস বা সত্যকে অস্বীকার করা যায়? তাঁর মতে, কিছু অপরাধ এমন রয়েছে যার কোনো ক্ষমা নেই, যদিও ভুক্তভোগীরা ক্ষমা করে দিলেও। তিনি পবিত্র ধর্মগ্রন্থের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বাস্তব জীবনে অনেক সময় মানুষ অনেক কিছু মেনে নেয়, সহ্য করে বা আপস করে, কিন্তু তাতে পাপের বাস্তবতা বদলায় না। তার ভাষায়, জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সেই অপরাধ ঘটেছে ১৯৭১ সালে এবং ৫৪ বছর পরও তা ভুলে যাওয়ার সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি এই মহান সংসদে আমরা আবারও উপস্থিত হয়েছি। তাই এই ইতিহাস বা ঘটনাকে ভুলে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই; বরং প্রজন্মের পর প্রজন্ম তা মনে করিয়ে দিতে হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সংসদ অতীতের যেকোনো সংসদের তুলনায় ভিন্ন ও বিশেষ। তার মতে, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে জনগণের প্রতিনিধিত্বমূলক এই সংসদ গঠিত হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষা খাতের অগ্রগতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় শিক্ষায় এবং নারী শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারও শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব, ফ্রি ওয়াইফাই এবং মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম চালুর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
এছাড়া তিনি জানান, বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস প্রদান, স্নাতক পর্যন্ত মেয়েদের উপবৃত্তি, প্রাথমিক পর্যায়ে মিড-ডে মিল চালু এবং শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য কমাতে সরকার কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, ১৯৯২ সালে বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষায় পরিবর্তন আসে, আর বর্তমান সরকার সেই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে কাজ করছে।
মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন, তখন তিনি একটি পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন যেখানে অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ঘৃণা ও বিভাজনের রাজনীতি থেকে বের হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ছিল। তিনি বলেন, সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথেই দেশ এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সত্য ও ইতিহাস কখনো আড়াল করা যায় না। একাত্তরের ঘটনা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে মনে রাখতে হবে এবং এ ইতিহাস ভুলে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
শেষে শিক্ষামন্ত্রী দেশের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, তারা যেন নিয়মিত পড়াশোনায় মনোযোগী হয় এবং কোনো ধরনের অনৈতিক পথে না যায়। তিনি বলেন, সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে হলে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই এবং নকল বা অসৎ উপায় পরিহার করে সৎভাবে এগিয়ে যেতে হবে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের ১ম টি-টোয়েন্টি-দেখুন সরাসরি (LIVE)
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা: দেখুন সবগুলো প্রশ্নের সঠিক সমাধান
- স্কুলছাত্রী থেকে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধার সাথে অন্তরঙ্গের পর ভিডিও কুয়েট ছাত্রের
- বিকালে আসছে ১৯ কোম্পানির ডিভিডেন্ড-ইপিএস
- স্কলারশিপ দিচ্ছে মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়, জেনে নিন আবেদন পদ্ধতি
- বুলগেরিয়ার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত হলো ঢাবি শিক্ষার্থীর প্রামাণ্যচিত্র
- দেশে সোনার দামে বড় পতন
- বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১০০ ধাপ এগিয়েছে ঢাবি, যৌথভাবে দেশসেরা
- এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে যা জানাল শিক্ষাবোর্ড
- বদলে যাচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম
- নবনিযুক্ত সিন্ডিকেট সদস্য মোর্শেদ হাসান খানকে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের শুভেচ্ছা
- ঢাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ বাসা থেকে উদ্ধার
- বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের সিনেট সদস্য হলেন ৫ সংসদ সদস্য
- প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগে ভাইভার সময়সূচি নিয়ে যা জানা গেল
- বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের ভিসা স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রে