ঢাকা, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

৭১-এর ইতিহাস ভুলে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই: শিক্ষামন্ত্রী

২০২৬ এপ্রিল ২৯ ২১:১৭:৪৮

৭১-এর ইতিহাস ভুলে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই: শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: সত্যকে কখনোই ঢেকে রাখা যায় না এবং ইতিহাসের বড় ধরনের অপরাধগুলো সময়ের সাথে মুছে যায় না বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেন, কিছু অপরাধ আছে যেগুলোর কোনো ক্ষমা নেই, কারণ পাপ কখনোই সম্পূর্ণভাবে বিলীন হয় না। তার মতে, জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সেই অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল ১৯৭১ সালে, যা ৫৪ বছর পরেও জনগণের স্মৃতি থেকে মুছে যায়নি।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

শিক্ষামন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, কিছু বিষয় নিয়ে কথা উঠলেই বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেক সময় কেউ কেউ তা শুনতে চান না বা এড়িয়ে যেতে চান। তবে তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, কেউ না চাইলেও কি ইতিহাস বা সত্যকে অস্বীকার করা যায়? তাঁর মতে, কিছু অপরাধ এমন রয়েছে যার কোনো ক্ষমা নেই, যদিও ভুক্তভোগীরা ক্ষমা করে দিলেও। তিনি পবিত্র ধর্মগ্রন্থের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বাস্তব জীবনে অনেক সময় মানুষ অনেক কিছু মেনে নেয়, সহ্য করে বা আপস করে, কিন্তু তাতে পাপের বাস্তবতা বদলায় না। তার ভাষায়, জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সেই অপরাধ ঘটেছে ১৯৭১ সালে এবং ৫৪ বছর পরও তা ভুলে যাওয়ার সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি এই মহান সংসদে আমরা আবারও উপস্থিত হয়েছি। তাই এই ইতিহাস বা ঘটনাকে ভুলে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই; বরং প্রজন্মের পর প্রজন্ম তা মনে করিয়ে দিতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সংসদ অতীতের যেকোনো সংসদের তুলনায় ভিন্ন ও বিশেষ। তার মতে, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে জনগণের প্রতিনিধিত্বমূলক এই সংসদ গঠিত হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শিক্ষা খাতের অগ্রগতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় শিক্ষায় এবং নারী শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারও শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব, ফ্রি ওয়াইফাই এবং মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম চালুর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

এছাড়া তিনি জানান, বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস প্রদান, স্নাতক পর্যন্ত মেয়েদের উপবৃত্তি, প্রাথমিক পর্যায়ে মিড-ডে মিল চালু এবং শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য কমাতে সরকার কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, ১৯৯২ সালে বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষায় পরিবর্তন আসে, আর বর্তমান সরকার সেই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে কাজ করছে।

মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন, তখন তিনি একটি পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন যেখানে অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ঘৃণা ও বিভাজনের রাজনীতি থেকে বের হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ছিল। তিনি বলেন, সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথেই দেশ এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সত্য ও ইতিহাস কখনো আড়াল করা যায় না। একাত্তরের ঘটনা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে মনে রাখতে হবে এবং এ ইতিহাস ভুলে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

শেষে শিক্ষামন্ত্রী দেশের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, তারা যেন নিয়মিত পড়াশোনায় মনোযোগী হয় এবং কোনো ধরনের অনৈতিক পথে না যায়। তিনি বলেন, সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে হলে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই এবং নকল বা অসৎ উপায় পরিহার করে সৎভাবে এগিয়ে যেতে হবে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত