ঢাকা, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩

ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনা জানালেন মির্জা ফখরুল

২০২৬ এপ্রিল ২৭ ১৬:৪২:৩৪

ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনা জানালেন মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে রাজধানী ঢাকায় জলাবদ্ধতা কমানো এবং মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে দুই সিটি কর্পোরেশনকে ঘিরে বিস্তৃত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সরকার আশা করছে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নগরবাসীর ভোগান্তি অনেকটাই কমবে এবং ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকিও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বটি টেবিলে উপস্থাপিত হয়।

মন্ত্রী জানান, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন প্রাক-বর্ষা ও বর্ষাকালকে সামনে রেখে কিউলেক্স ও এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে পৃথক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিতকরণ, সার্ভেইল্যান্স জোরদার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সকালে লার্ভিসাইডিং ও সন্ধ্যায় ফগিংয়ের পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহায়তায় খাল-বিল ও ড্রেন পরিষ্কার করা হচ্ছে। প্রায় ছয় হাজার বিঘা কচুরিপানায় ভরা জলাশয় পরিষ্কারের কাজও চলমান রয়েছে। ‘শনিবারের অঙ্গীকার, নিজ নিজ বাসা-বাড়ি করি পরিষ্কার’ স্লোগানে নির্দিষ্ট ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং ‘অপারেশন ক্লিন হোম’ কর্মসূচি চালানো হচ্ছে। ব্যবহৃত রাসায়নিক কীটনাশকের পাশাপাশি অধিক কার্যকর জৈব কীটনাশক বিটিআই পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শেষে ক্রয়ের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। কীটনাশকের মান যাচাইয়ে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রম সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, সেখানে প্রতি সপ্তাহে প্রতিটি অঞ্চলে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত মনিটরিং টিম ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো শনাক্ত করে বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম চালাচ্ছে। এডিস মশার প্রজননস্থল নিয়ন্ত্রণে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা ও সচেতনতা কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি জনবহুল এলাকায় লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং করা হচ্ছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে সেগুনবাগিচা বক্স কালভার্ট, জিয়া সরণি ও কাজলা খাল পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য দক্ষিণ সিটি ছয়টি পোর্টেবল পাম্প কিনেছে। বর্তমানে তিনটি আউটলেট দিয়ে পানি বের করা হচ্ছে এবং নতুন আরেকটি আউটলেট নির্মাণাধীন। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত একটি বড় নর্দমা বা আউটলেট নির্মাণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের অংশ হিসেবে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সমীক্ষা চালিয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আউটলেট তৈরির উদ্যোগ চলছে।

সব মিলিয়ে, স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে রাজধানীতে বর্ষাকালীন জলাবদ্ধতা কমানো এবং মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হবে বলে সরকার মনে করছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

৩ কোটি ডলার ঋণ পাচ্ছে প্রাইম ব্যাংক; চাঙ্গা হবে এসএমই ও কৃষি খাত

৩ কোটি ডলার ঋণ পাচ্ছে প্রাইম ব্যাংক; চাঙ্গা হবে এসএমই ও কৃষি খাত

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বেসরকারি খাতের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান প্রাইম ব্যাংক পিএলসি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়ন সংস্থা ‘ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট’... বিস্তারিত