ঢাকা, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্যাতন বন্ধে আইন নয়, সামাজিক সচেতনতাও জরুরি: আইনমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক: নির্যাতনের সংস্কৃতি বন্ধে শুধু আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, এ সমস্যা থেকে উত্তরণে আইন বাস্তবায়নের পাশাপাশি সামাজিক ও মানসিক পরিবর্তন এবং জনসচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘নির্যাতন প্রতিরোধ এবং ইউএনসিএটি ও ওপিসিএটি বাস্তবায়ন বিষয়ক জাতীয় পরামর্শ সভা’য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, সমাজে বিদ্যমান এই সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক ব্যাধি দূর করতে না পারলে উন্নত আইন ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানগুলোও পুরোপুরি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে না। তাই নির্যাতন প্রতিরোধে আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৫(৫) অনুযায়ী কোনো ব্যক্তিকে নির্যাতন, নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর শাস্তি দেওয়া সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। এ বিধান মানবাধিকারের আন্তর্জাতিক নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং রাষ্ট্র ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক।
আইনমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে রাতারাতি উত্তরণ সম্ভব নয়। তবে গত দুই মাসে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জোরপূর্বক গুমের কোনো ঘটনা পাওয়া যায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি দাবি করেন, আগস্ট-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর হেফাজতে নির্যাতনের ঘটনাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে, যা দেশের আইনি কাঠামো ও মানবাধিকারের ক্ষেত্রে অগ্রগতির ইঙ্গিত দেয়।
একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, আইন যেন অপব্যবহারের শিকার না হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, দায়মুক্তির কোনো সংস্কৃতি সরকার চায় না এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন, হেফাজতে মৃত্যু, জোরপূর্বক গুম কিংবা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে মানবাধিকার সংস্থা অধিকার এবং নির্যাতন, জোরপূর্বক গুম, যথেচ্ছ আটক ও অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণের বিরুদ্ধে কর্মরত বেসরকারি সংস্থাগুলোর বৈশ্বিক জোট ও এমসিটি।
এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের প্রধান মাইকেল মিলার, দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি মঈনুল ইসলাম।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নির্যাতন ও অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ বা শাস্তি বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টার ড. অ্যালিস জিল এডওয়ার্ডস।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- চলছে বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তানের ম্যাচ: খেলাটি সরাসরি দেখুন (LIVE)
- প্রথমবারের মতো নিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপাচার্য পেলো কুবি
- শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের ভিডিও ধারণ ও আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ
- ৫৪ জেলায় টিসিবির ডিলার নিয়োগ, আবেদন শুরু ১০ মে
- পে স্কেলের প্রস্তাবিত গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামো প্রকাশ
- ঢাবিতে প্রথমবারের মতো আন্ডারওয়াটার ফটোগ্রাফি কর্মশালা
- ঢাবির নতুন প্রক্টর অধ্যাপক ইসরাফিল
- পে স্কেল নিয়ে ৭ দাবি সরকারি কর্মচারীদের
- রবির মুনাফায় আকাশচুম্বী প্রবৃদ্ধি, ব্যাকফুটে শিপিং কর্পোরেশন
- ঈদকে সামনে রেখে মুনাফা তুলছেন বিনিয়োগকারীরা
- বাংলাদেশিদের স্কলারশিপ দেবে যুক্তরাষ্ট্রের সিমন্স ইউনিভার্সিটি, আবেদন শুরু
- পদত্যাগ করলেন ঢাবি শিক্ষক মোনামি
- আজ সন্ধ্যায় সাদিক কায়েমের বিয়ে
- এমপিও শিক্ষকদের ঈদ বোনাস কবে, যা জানা গেল
- বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৫ চেয়ারম্যান ও ৭ ডিনের পদত্যাগ, নেপথ্যে কী?