ঢাকা, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২

মধ্যপ্রাচ্য সংকট

বিশ্ব অর্থনীতিতে তৃতীয় বড় ধাক্কার আশঙ্কা আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের

২০২৬ এপ্রিল ১২ ২১:১৪:৫৬

বিশ্ব অর্থনীতিতে তৃতীয় বড় ধাক্কার আশঙ্কা আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের

নিজস্ব প্রতিবেদক: কোভিড মহামারি এবং ইউক্রেন যুদ্ধের ক্ষত কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ‘তৃতীয় বড় ধাক্কা’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই যুদ্ধকে কেন্দ্র করে গভীর উদ্বেগের ছায়ায় চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনে সমবেত হচ্ছেন বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতিক ও নীতিনির্ধারকরা।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং বিশ্বব্যাংক ইতিমধ্যে সতর্ক করেছে যে, যুদ্ধের প্রভাবে তারা বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে দেবে এবং মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস বাড়িয়ে দেবে। সংস্থা দুটির মতে, জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং সরবরাহ ব্যবস্থার সংকটের কারণে উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশগুলোই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে উভয় প্রতিষ্ঠানই বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বব্যাংক এখন উদীয়মান ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির জন্য ২০২৬ সালের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩.৬৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে এই হার ২.৬ শতাংশে নেমে আসতে পারে।

একইভাবে, এসব দেশে মূল্যস্ফীতির হার ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪.৯ শতাংশ করা হয়েছে, যা চরম পরিস্থিতিতে ৬.৭ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। আইএমএফ সতর্ক করেছে যে, যুদ্ধ চললে সার সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার কারণে আরও প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়তে পারে।

রেকর্ড পরিমাণ ঋণ এবং সীমিত বাজেটের মধ্যেই এই সংকট মোকাবিলায় তৎপরতা শুরু করেছে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক। আইএমএফ জানিয়েছে, নিম্ন আয়ের এবং জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর জন্য ২০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারের জরুরি সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে। বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, তারা স্বল্প সময়ের মধ্যে ২৫ বিলিয়ন ডলার এবং প্রয়োজন ভেদে পরবর্তী ছয় মাসে ৭০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সহায়তা দিতে প্রস্তুত।

বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা রয়টার্সকে বলেন, "নেতৃত্ব ও সঠিক দিকনির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ, অতীতেও আমরা সংকট কাটিয়ে উঠেছি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি পুরো অর্থব্যবস্থার জন্য একটি বড় ধাক্কা।"

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উদীয়মান দেশগুলো আগের চেয়ে এখন বেশি দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। রকফেলার ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট এরিক পেলফস্কি জানান, নিম্ন আয়ের দেশগুলোকে এখন ২০২৫ সালের তুলনায় দ্বিগুণ ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে, যার ফলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ সংকুচিত হয়ে পড়ছে। অর্ধেকেরও বেশি দেশ এখন ঋণ সংকটে বা এর কাছাকাছি রয়েছে।

অ্যাটলান্টিক কাউন্সিলের ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক্স বিভাগের চেয়ারম্যান জশ লিপস্কি মনে করেন, আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের এই সহায়তার সংকেত মূলত বেসরকারি ঋণদাতাদের আশ্বস্ত করার জন্য। যাতে তারা এই সংকটে উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে না নেয়।

বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চরম উত্তেজনা এবং জি-২০ জোটের অভ্যন্তরীণ অনৈক্যের কারণে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকাকে বর্তমান আলোচনা থেকে বাদ দেওয়ায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। নীতিনির্ধারকদের মতে, এখন আর কেবল প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারের দিকে নজর দিলে হবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদি ঋণ সংকট থেকে দেশগুলোকে বাঁচাতে সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত