ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২

শেয়ারবাজারে অনিয়ম: ৪ মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিএসইসির তদন্ত শুরু

২০২৬ মার্চ ১৯ ১৮:৪১:৫৩

শেয়ারবাজারে অনিয়ম: ৪ মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিএসইসির তদন্ত শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা এবং বাজারে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে চারটি শেয়ারবাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। পৃথক আদেশের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেড, প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজ লিমিটেড, গ্রিন ডেল্টা সিকিউরিটিজ লিমিটেড এবং মার্চেন্ট ব্যাংক হিসেবে কর্মরত লঙ্কাবাংলা ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের বিরুদ্ধে এই আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করেছে।

গত ১১ মার্চ এই তদন্ত পরিচালনার জন্য চারটি পৃথক অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম জানান, কমিশন এই প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে বেশ কিছু অসঙ্গতি চিহ্নিত করেছে। বিশেষ করে নেগেটিভ ইক্যুইটি, মার্জিন ঋণ প্রদান পদ্ধতি, আর্থিক প্রতিবেদন এবং করপোরেট সুশাসনের ক্ষেত্রে এসব অনিয়ম পাওয়া গেছে।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের অনিয়ম বাজারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর কমিশন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। প্রতিটি তদন্তের জন্য পৃথক কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং আগামী ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তদন্তের অন্যতম প্রধান দিক হলো—নেগেটিভ ইক্যুইটি থাকা সত্ত্বেও এই প্রতিষ্ঠানগুলো ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা বা বিতরণে সহায়তা করেছে কি না। বাজার অনুযায়ী, এ ধরনের কার্যক্রম বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করতে পারে এবং কোম্পানির প্রকৃত আর্থিক অবস্থা গোপন করতে পারে। বিশেষ করে এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজ এবং লঙ্কাবাংলা ইনভেস্টমেন্টসের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এছাড়া এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে পদ্ধতিগতভাবে ভুল তথ্য প্রদান এবং তথ্য কারচুপির অভিযোগ রয়েছে। প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো—তারা পর্যাপ্ত সঞ্চিতি না রেখেই গ্রাহকদের কাছ থেকে পাওনা অর্থকে সম্পদ হিসেবে দেখিয়েছে, যা আর্থিক ঝুঁকি গোপন করার শামিল।

অন্যদিকে, গ্রিন ডেল্টা সিকিউরিটিজের ক্ষেত্রে নেগেটিভ ইক্যুইটি গণনার পদ্ধতি এবং সঞ্চিতি না রাখার বিষয়টি খতিয়ে দেখবে কমিশন।

তবে গ্রিন ডেল্টা সিকিউরিটিজের সিইও ওয়াফি শফিক মেনহাজ খান একে একটি 'রুটিন ইস্যু' হিসেবে উল্লেখ করে জানান যে, তারা কমিশনকে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন এবং অনিয়মগুলো অত্যন্ত সামান্য প্রকৃতির।

তদন্তে প্রতিষ্ঠানগুলোর মার্জিন ঋণ প্রদানের সীমা এবং নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে। অভিযোগ রয়েছে যে, যথাযথ অনুমতি ছাড়াই অনেক ক্ষেত্রে ক্যাশ অ্যাকাউন্টকে মার্জিন বা নেগেটিভ ইক্যুইটি অ্যাকাউন্টে রূপান্তর করা হয়েছে। লঙ্কাবাংলা ইনভেস্টমেন্টসের বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতিবেদনে প্রায় ১০৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকার প্রদেয় সুদ না দেখিয়ে মুনাফা বাড়িয়ে দেখানোর অভিযোগ উঠেছে।

মার্কেট ইনসাইডারদের মতে, নেগেটিভ ইক্যুইটি এবং মার্জিন ঋণের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফেরাতে বিএসইসির এই পদক্ষেপ বাজারে একটি শক্ত বার্তা দেবে। করপোরেট সুশাসনে দুর্বলতা এবং নিয়ম লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই অবস্থান শেয়ারবাজারে শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এমজে/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত