ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে অস্থির ডলারের বাজার: আবারও চাপের মুখে টাকা

২০২৬ মার্চ ১২ ১৭:১১:০৪

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে অস্থির ডলারের বাজার: আবারও চাপের মুখে টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ফেব্রুয়ারির শেষভাগ পর্যন্ত ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকলেও মার্চের শুরু থেকে তা আবারও ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করেছে। মূলত ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক অস্থিতিশীলতার প্রবাদে ব্যাংকগুলো ডলার লেনদেনে সতর্ক অবস্থান নেওয়ায় টাকার মান কমতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতি ২০২২-২৩ সালের চরম মুদ্রাস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে।

গতকাল বুধবার (১১ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের ভারিত গড় হার বেড়ে ১২২.৬৯ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা গত সোমবার ছিল ১২২.৪৯ টাকা এবং রবিবার ছিল ১২২.৪৩ টাকা।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আগের চেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে ব্যাংকগুলো সতর্ক হয়ে গেছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো আশঙ্কা করছে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে আমদানি ব্যয় বেড়ে যেতে পারে এবং উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে আসতে পারে।

মার্কেটাইল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতি উল হাসান বলেন, "অনিশ্চয়তার কারণে অনেক ব্যাংক সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। তবে এর প্রকৃত প্রভাব বুঝতে আরও অন্তত এক সপ্তাহ সময় লাগবে।"

অন্যদিকে, চট্টগ্রামভিত্তিক এক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান অভিযোগ করেছে যে, বাজারে ডলারের প্রকৃত সংকট না থাকলেও কিছু ব্যাংক 'কৃত্রিম সংকট' তৈরির চেষ্টা করছে। এলসি (LC) খোলার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো এখন প্রতি ডলারে ১২২.৯০ থেকে ১২৩ টাকা পর্যন্ত দাবি করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমানে বাজার নিয়ন্ত্রণে ডলার বিক্রি বন্ধ রেখেছে। ফলে ডলারের দাম বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়ায় টাকার মান কমছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় আমদানিকারকদের বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কেনাও বন্ধ করে দিয়েছে।

বর্তমানে আইএমএফ-এর হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের নিট রিজার্ভের পরিমাণ ২৯.৩৮ বিলিয়ন ডলার (অফিশিয়াল রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলার)। গত সপ্তাহে অর্থনীতিবিদদের সাথে এক বৈঠকে গভর্নরকে রিজার্ভ থেকে ডলার খরচের ব্যাপারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এক মাস স্থায়ী হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। এলএনজি এবং জ্বালানির দাম ইতিমধ্যে বাড়তে শুরু করেছে, যা আগামী দিনে আমদানি খরচ বাড়িয়ে দেবে।

তিনি সরকারকে আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের জ্বালানি চাহিদার একটি সঠিক হিসাব করার এবং রিজার্ভের ওপর চাপ না বাড়িয়ে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বা অন্যান্য দাতা সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে জ্বালানি আমদানির পরামর্শ দেন। একইসঙ্গে থমকে থাকা বিদেশি অর্থায়নের প্রকল্পগুলো দ্রুত চালু করার তাগিদ দেন তিনি।

এমজে/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত