ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩
না ফেরার দেশে ঢাবি অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতা শিক্ষার এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন হলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রবাদপ্রতিম শিক্ষক অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান না ফেরার দেশে চলে গেছেন। ৮৫ বছর বয়সী এই গুণীজন গত রোববার রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর প্রয়াণে দেশের সংবাদমাধ্যম ও শিক্ষা অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রবীণ এই শিক্ষক বেশ কিছুদিন ধরেই শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। ‘অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান কিছুদিন আগে স্ট্রোক করেন। তখন কয়েক দিন হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে তাঁকে বাসায় নেওয়া হয়। এর মধ্যে রোববার রাতে তিনি আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে মৃত ঘোষণা করা হয়।’ তাঁর মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ঢাবি ক্যাম্পাসসহ গণমাধ্যম পাড়ায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
তাঁর শেষ বিদায়ের আয়োজন সম্পর্কে জানা গেছে, আজ সোমবার সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে পৈতৃক নিবাস নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায়। সেখানে ধানুয়া গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।
১৯৪১ সালে নরসিংদীর এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া সাখাওয়াত আলী খান দীর্ঘ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে সাংবাদিকতা শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করেছেন। ২০০৮ সালে বিভাগ থেকে অবসরের পর পাঁচ বছর সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক এবং পরবর্তীতে অনারারি প্রফেসর হিসেবে যুক্ত ছিলেন। শিক্ষকতা পেশায় আসার আগে প্রায় এক দশক তিনি মূলধারার সাংবাদিকতায় সক্রিয় ছিলেন। ইউল্যাবের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেষ্টা হিসেবেও তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।
গবেষণার ক্ষেত্রেও তিনি রেখে গেছেন অমূল্য সম্পদ। ‘সাংবাদিকতা ও রাজনীতির মিথস্ক্রিয়া’ ছিল তাঁর গবেষণার অন্যতম প্রিয় ক্ষেত্র। দেশি-বিদেশি জার্নালে তাঁর ৩০টিরও বেশি মৌলিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া তিনি কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট-এর চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল ও পিআইবির ব্যবস্থাপনা বোর্ডেও একাধিকবার মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন।
ব্যক্তিজীবনে তিনি এক ছেলে, এক মেয়ে এবং অসংখ্য ছাত্রছাত্রী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মেয়ে সুমনা শারমীন বর্তমানে প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। গুণী এই শিক্ষকের মৃত্যুতে দেশের সাংবাদিকতা জগত একজন অভিভাবককে হারাল।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- মাস্টারদা সূর্য সেন হল অ্যালামনাইয়ের নতুন কমিটি ঘোষণা, সভাপতি ডাবলু, সাধারণ সম্পাদক পলাশ
- আফগান যুবাদের কাছে হারল বাংলাদেশের যুবারা
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মাহমুদ আলমের মৃত্যু, উপাচার্যের শোক
- যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারিতে বাংলাদেশিরা কি অংশ নিতে পারবে? জানুন বিস্তারিত
- জেনে নিন আজকের বাজারে ২২,২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার দাম
- আজ ২২,২১ ও ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম কত? জেনে নিন
- বৃহস্পতিবার রাজধানীর যেসব মার্কেট-দোকানপাট বন্ধ
- নভেম্বরে টানা তিন দিনের ছুটির সুযোগ, যারা পাবেন
- ১৫ দিনের ব্যবধান দুইবার হবে শারদীয় দুর্গাপূজা
- ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা: ঢাবির সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার
- নতুন পে-স্কেলে শিক্ষকদের বেতন কবে, জানাল অর্থ মন্ত্রণালয়
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২১ অক্টোবর)
- আজ ২২,২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার দাম কত? জেনে নিন
- এসএসসির টেস্ট পরীক্ষা ২৮ অক্টোবর থেকে, ফল প্রকাশ ১৫ নভেম্বর
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৪ অক্টোবর)