ঢাকা, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
না ফেরার দেশে ঢাবি অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতা শিক্ষার এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন হলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রবাদপ্রতিম শিক্ষক অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান না ফেরার দেশে চলে গেছেন। ৮৫ বছর বয়সী এই গুণীজন গত রোববার রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর প্রয়াণে দেশের সংবাদমাধ্যম ও শিক্ষা অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রবীণ এই শিক্ষক বেশ কিছুদিন ধরেই শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। ‘অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান কিছুদিন আগে স্ট্রোক করেন। তখন কয়েক দিন হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে তাঁকে বাসায় নেওয়া হয়। এর মধ্যে রোববার রাতে তিনি আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে মৃত ঘোষণা করা হয়।’ তাঁর মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ঢাবি ক্যাম্পাসসহ গণমাধ্যম পাড়ায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
তাঁর শেষ বিদায়ের আয়োজন সম্পর্কে জানা গেছে, আজ সোমবার সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে পৈতৃক নিবাস নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায়। সেখানে ধানুয়া গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।
১৯৪১ সালে নরসিংদীর এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া সাখাওয়াত আলী খান দীর্ঘ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে সাংবাদিকতা শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করেছেন। ২০০৮ সালে বিভাগ থেকে অবসরের পর পাঁচ বছর সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক এবং পরবর্তীতে অনারারি প্রফেসর হিসেবে যুক্ত ছিলেন। শিক্ষকতা পেশায় আসার আগে প্রায় এক দশক তিনি মূলধারার সাংবাদিকতায় সক্রিয় ছিলেন। ইউল্যাবের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেষ্টা হিসেবেও তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।
গবেষণার ক্ষেত্রেও তিনি রেখে গেছেন অমূল্য সম্পদ। ‘সাংবাদিকতা ও রাজনীতির মিথস্ক্রিয়া’ ছিল তাঁর গবেষণার অন্যতম প্রিয় ক্ষেত্র। দেশি-বিদেশি জার্নালে তাঁর ৩০টিরও বেশি মৌলিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া তিনি কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট-এর চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল ও পিআইবির ব্যবস্থাপনা বোর্ডেও একাধিকবার মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন।
ব্যক্তিজীবনে তিনি এক ছেলে, এক মেয়ে এবং অসংখ্য ছাত্রছাত্রী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মেয়ে সুমনা শারমীন বর্তমানে প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। গুণী এই শিক্ষকের মৃত্যুতে দেশের সাংবাদিকতা জগত একজন অভিভাবককে হারাল।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বিআইডব্লিউটিসির নতুন চেয়ারম্যান এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রো-ভিসি হলেন অধ্যাপক ড. সালমা বেগম
- ইউজিসির তিন সদস্যকে অব্যাহতি দিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়
- শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরাতে ১১ দফা দাবি বিনিয়োগকারীদের
- অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের ৫০ হাজার টাকা অনুদান, আবেদন যেভাবে
- বিআইডব্লিউটিসি'র চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করলেন এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী
- বাজারের ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক
- ঢাবির লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে ২৪ শিক্ষার্থী পেলেন ডিরেক্টরস অ্যাওয়ার্ড
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৫ জুলাই)
- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানালেন নবনিযুক্ত ১২ কর্মকর্তা
- ঢাবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২২ জুলাই)
- গাজী নজরুলকে বিয়েতে অনড় ছিল মেয়েটি
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৪ জুলাই)
- আজকের খেলার সময়সূচি (২৫ জুলাই)