ঢাকা, বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩
রোযা রেখে পারফিউম ব্যবহার করা যাবে কি? যা বলছে ইসলাম
নিউজ ডেস্ক: পবিত্র রমজান মাসে মুমিনরা ইবাদতে মনোযোগী থাকেন এবং আত্মসংযমের প্রতি বিশেষ যত্ন নেন। তবে আধুনিক প্রসাধন সামগ্রী ও সুগন্ধি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনেকেরই দ্বিধা দেখা দেয়। বিশেষ করে পারফিউমে অ্যালকোহল থাকা বা লিপস্টিক ব্যবহার রোজা ভাঙে কি না, এমন প্রশ্ন প্রায়ই উঠে। ইসলামী শরিয়ত ও নির্ভরযোগ্য ফিকহি গ্রন্থের আলোকে এ বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে।
পারফিউম ও আতর ব্যবহারের বিধান
রোজা অবস্থায় পারফিউম বা আতর ব্যবহার করা সম্পূর্ণ জায়েজ। বরং সুগন্ধি ব্যবহার করা সুন্নাহর অংশ। হযরত আবু আইয়ুব আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ আছে, নবীদের চারটি সুন্নাহের মধ্যে সুগন্ধি ব্যবহার অন্যতম। রাসুলুল্লাহ (স.) সুগন্ধি পছন্দ করতেন এবং কেউ দিলে তা গ্রহণ করতেন। (মুসনাদে আহমাদ: ২২৪৭৮)
সৌদি আরবের স্থায়ী ফতোয়া কমিটি জানিয়েছে, রোজা অবস্থায় শরীর বা কাপড়ে সুগন্ধি ব্যবহার করলে রোজা ভাঙে না। তবে ধোঁয়াযুক্ত সুগন্ধি নাকের কাছে গিয়ে গভীর শ্বাসে নিলে সতর্ক থাকতে হবে, কারণ ধোঁয়ার কণা গলায় পৌঁছালে রোজা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। (ফতোয়া লাজনাতিদ্দায়িমা: ১০/২৭১)
পারফিউমে অ্যালকোহল থাকলে
অনেকে মনে করেন, অ্যালকোহলযুক্ত পারফিউম নাপাক হয়ে যায় এবং তা ব্যবহার করে নামাজ পড়া যাবে না। তবে হানাফি মাজহাবের ইমাম আবু হানিফা (র.) অনুযায়ী, যদি অ্যালকোহল আঙ্গুর বা খেজুর থেকে তৈরি না হয়, তবে তা বৈধভাবে ব্যবহার করা যায়। আধুনিক শিল্পে ব্যবহৃত অ্যালকোহল প্রায়শই রাসায়নিক বা শস্যজাত, তাই একে নাপাক বলে মনে করা হয় না। ফলে এই ধরনের পারফিউম ব্যবহার করলেও কাপড় নাপাক হয় না এবং নামাজ বৈধ। (রদ্দুল মুখতার: ৩/৩৬৫)
মেকআপ ও লোশন
রোজা অবস্থায় মুখে মেকআপ, ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করলেও রোজা ভাঙে না। কারণ এগুলো চামড়ার ওপর ব্যবহার হয় এবং সরাসরি পাকস্থলীতে পৌঁছায় না। ইসলামী শরিয়তের মূলনীতি অনুযায়ী, শুধুমাত্র পাকস্থলীতে প্রবেশ করা বস্তুই রোজা ভাঙে।
লিপস্টিক ব্যবহারে সতর্কতা
লিপস্টিক বা লিপবাম শুধু ঠোঁটে থাকলে রোজা ভাঙে না। তবে জিহ্বা দিয়ে চেটে গিলে নিলে এবং স্বাদ গলায় পৌঁছালে রোজা ভেঙে যায়। তাই রোজার সময় লিপস্টিক ব্যবহার এড়িয়ে চলা বা সতর্ক থাকা উচিত।
সুরমা ও আইড্রপ
হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, চোখে সুরমা বা আইড্রপ ব্যবহার করলে রোজা ভাঙে না। চোখ থেকে পাকস্থলীর সরাসরি কোনো সংযোগ নেই, তাই সুরমার স্বাদ গলায় যাক বা না যাক, রোজা নষ্ট হয় না। (ফতোয়ায়ে আলমগিরি: ১/২০৩)
ইসলামি স্কলারদের মতে, রোজা শুধু পানাহার থেকে বিরত থাকা নয়, গুনাহ থেকে দূরে থাকা এবং আত্মসংযম বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রসাধনী ব্যবহার বৈধ হলেও, মুমিনের উচিত সতর্কভাবে ব্যবহার করে ইবাদতে মনোযোগ রাখা।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- পর্নো তারকা থেকে কলম্বিয়ার সিনেটর দেইসি
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির সুযোগ, আবেদন ২০ আগস্ট পর্যন্ত
- ঢাবিতে ৩ শিক্ষক বরখাস্ত, ৪ জনের দায়িত্ব স্থগিত
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২ আগস্ট)
- চেয়ারম্যান-মেম্বার পদে শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে যা জানা গেল
- বিনামূল্যে এআই প্রশিক্ষণ, মিলবে দৈনিক ২০০ টাকা ভাতা
- ঢাবির সূর্যসেন হলে সমকামিতার অভিযোগে দুইজন আটক
- দেশের বাজারে ফের বেড়েছে সোনার দাম
- ‘গুলশানের চামেলি’ তে যৌনকর্মীর দালাল অ্যাডলফ খান
- আজ শুক্রবার রাজধানীর যেসব মার্কেট-দোকানপাট বন্ধ
- নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন চূড়ান্ত পর্যায়ে, যা জানালেন অর্থমন্ত্রী
- জাপানে সম্পূর্ণ ফ্রি স্কলারশিপে মাস্টার্স ও পিএইচডি করার সুযোগ
- কবে শুরু হচ্ছে ঢাবির ভর্তি আবেদন, জানাল কর্তৃপক্ষ
- ভাতা-উপবৃত্তির আবেদন শুরু, জেনে নিন পদ্ধতি
- যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ২৩ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হলো