ঢাকা, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩
২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে কি ছিটকে যাবে ইরান? নতুন সমীকরণে ফিফা
নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের মাঠ কাঁপাতে যখন বিশ্বের সেরা দলগুলো প্রস্তুতিতে মগ্ন, ঠিক তখনই ইরানের অংশগ্রহণ ঘিরে ফুটবল বিশ্বে ঘনিয়ে আসছে কালো মেঘ। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান সংঘাতের উত্তাপ এবার খেলার মাঠকেও স্পর্শ করেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ইরানের ফুটবল ভক্তদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন তাদের প্রিয় দল কি শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের মঞ্চে নামতে পারবে? যদি মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে ইরান সরে দাঁড়ায়, তবে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা কী পদক্ষেপ নেবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
সংঘাতের আবহে ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। দেশটির ওপর হামলার প্রতিবাদে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, "এই আক্রমণ ও নিষ্ঠুরতার পর আমরা বিশ্বকাপের দিকে আশাবাদী দৃষ্টিতে তাকাতে পারি না।" এই প্রতিবাদের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যেই ইরানের ঘরোয়া ফুটবল লিগ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। এই ঘোষণা বিশ্বকাপের আসরে ইরানের থাকা না থাকাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।
এবারের আসরে ইরান গ্রুপ ‘জি’-তে রয়েছে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী বেলজিয়াম, মিশর ও নিউজিল্যান্ড। সূচি অনুযায়ী, তাদের তিনটি ম্যাচের দুটি লস অ্যাঞ্জেলেসে এবং একটি সিয়াটলে হওয়ার কথা। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শত্রুভাবাপন্ন দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে গিয়ে খেলা ইরানের জন্য নৈতিক ও নিরাপত্তার দিক থেকে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে মাঠের বাইরের সমীকরণই এখন মুখ্য হয়ে উঠেছে।
বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা ফিফা বিষয়টি নিয়ে বেশ সতর্ক। ফিফা মহাসচিব ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রম এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তারা বিষয়টিকে ‘সতর্ক অবস্থান’ হিসেবে দেখছেন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে ফিফার অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, ইরান এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহারের কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদন জানায়নি। ২০২৬ বিশ্বকাপের নিয়মাবলির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো দেশ যদি ‘ফোর্স মেজর’ বা অনিবার্য কারণে সরে দাঁড়ায়, তবে ফিফা নিজস্ব বিবেচনায় অন্য কোনো দলকে সেই শূন্যস্থানে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।
যদি ইরান শেষ পর্যন্ত সরে যায়, তবে এশিয়া অঞ্চল থেকেই অন্য কোনো দেশের ভাগ্য খুলে যেতে পারে। এবারের আসরে এশিয়া থেকে আটটি দল সরাসরি জায়গা করে নিয়েছে। র্যাঙ্কিং বা বাছাইপর্বের ফলাফলের ভিত্তিতে এশিয়ার অন্য কোনো দলকে ইরানের বিকল্প হিসেবে বেছে নেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা ফিফার হাতে রয়েছে। অতীতে ১৯৯২ সালের ইউরোতে যুদ্ধের কারণে যুগোস্লাভিয়ার বদলে ডেনমার্ককে সুযোগ দেওয়ার নজির রয়েছে, যারা পরে শিরোপাও জিতেছিল। এছাড়াও ২০২২ সালে ইউক্রেন হামলার জেরে রাশিয়াকে নিষিদ্ধ করেছিল ফিফা।
বর্তমানে দুই পক্ষই একে অপরের পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছে। ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না জানানো পর্যন্ত এবং ফিফা কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত এই অনিশ্চয়তা কাটছে না। তবে ভূ-রাজনৈতিক এই টানাপোড়েন ২০২৬ বিশ্বকাপের আকর্ষণ ও কাঠামোর ওপর যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ১১তম মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
- ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সিরাজুল হক আর নেই
- ১১-২০ গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষায় নতুন মানবণ্টন
- নব্বইয়ের দশকের রেট্রো ছবি বানাবেন যেভাবে, জেনে নিন ১০ AI প্রম্পট
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৬ সেপ্টেম্বর)
- মেসির দুই সহায়তাতেও আটলান্টার সঙ্গে ড্র ইন্টার মিয়ামির
- ‘সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিলটি কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক’
- পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সুখবর দিল মন্ত্রণালয়
- ফেল বিরোধীদলের ওয়াকআউট
- ‘ছয় মাসে জুলাই সনদের একটি অক্ষরও বাস্তবায়ন করেনি বিএনপি’
- ব্যালন ডি’অর ২০২৬-এর ৩০ ফুটবলারের তালিকা প্রকাশ
- বক্তৃতায় দায় সারছে কমিশন, ধসের মুখে পড়েছে বাজার
- মেঘনা গ্রুপে বিভিন্ন পদে চাকরির সুযোগ
- সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা ডিজিটাল ঋণ চালু করল বাংলাদেশ ব্যাংক
- ছাদখোলা গাড়িতে লংমার্চে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, গাড়িটি কার?