ঢাকা, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২

সীতাকুণ্ডের ইরা হ'ত্যার বিষয়ে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

২০২৬ মার্চ ০৪ ১৫:১৩:২০

সীতাকুণ্ডের ইরা হ'ত্যার বিষয়ে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: সীতাকুণ্ডের গহীন পাহাড়ে সাত বছরের শিশু জান্নাতুল নাইমা ইরাকে গলাকেটে হত্যার রোমহর্ষক ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণের পর ধর্ষণচেষ্টা এবং শেষে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগে প্রতিবেশী বাবু শেখকে (৪৫) গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে কুমিরা কাজীপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, দীর্ঘদিনের পারিবারিক শত্রুতার জেরে ইরাকে হত্যার ছক কষেছিলেন বাবু শেখ। অভিযুক্ত বাবুর স্থায়ী বাড়ি গাইবান্ধায় হলেও তিনি সীতাকুণ্ডে ভুক্তভোগী শিশুটির বাড়ির পাশেই ভাড়া থাকতেন। গ্রেফতারের পর বাবু শেখ নিজেই পুলিশের কাছে এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের বিবরণ দিয়েছেন।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ঘাতক স্বীকার করেছেন যে, গত রোববার সকালে ইরাকে চকলেটের লোভ দেখিয়ে অপহরণ করেন তিনি। এরপর কুমিরা থেকে বাসে চড়ে সীতাকুণ্ড বাসস্ট্যান্ড হয়ে বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের নির্জন পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করলে সে চিৎকার শুরু করে। এতে ধরা পড়ার ভয়ে বাবু নিজের কাছে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে ইরার গলায় সজোরে আঘাত করেন এবং মৃত ভেবে তাকে ঝোপঝাড়ে ফেলে পালিয়ে যান।

ঘটনার পর রক্তাক্ত ইরা কোনোমতে পাহাড় থেকে হামাগুড়ি দিয়ে নিচে নেমে এলে স্থানীয় শ্রমিকরা তাকে উদ্ধার করে পুলিশে খবর দেন। প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি; সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইরার মৃত্যু হয়।

পুলিশের তদন্ত দল সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘাতক বাবু শেখকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারের পর আসামির দেওয়া তথ্যানুযায়ী ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা পোশাকসহ বেশ কিছু আলামত জব্দ করা হয়েছে। সীতাকুণ্ড থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী শিশুর মায়ের করা পূর্বের মামলাটি এখন একটি 'হত্যা মামলায় পরিণত হবে'।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

জাতীয় এর অন্যান্য সংবাদ