ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২

নতুন সরকারের সাথে কাজ করতে চায় যুক্তরাজ্য: সারাহ কুক

২০২৬ মার্চ ০৩ ১৩:০৩:৪২

নতুন সরকারের সাথে কাজ করতে চায় যুক্তরাজ্য: সারাহ কুক

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবং নবনির্বাচিত সরকারের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায় শুরু করতে উন্মুখ হয়ে আছে যুক্তরাজ্য। গণতান্ত্রিক উত্তরণের এই পথে ঢাকার নতুন প্রশাসনের সাথে বাণিজ্য, নিরাপত্তা এবং উন্নয়নসহ সকল গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে দেশটি। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সাথে এক উচ্চপর্যায়ের সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক তাঁর দেশের এই ইতিবাচক অবস্থানের কথা সাংবাদিকদের জানান।

হাইকমিশনার সারাহ কুক বৈঠকে আলোচনার সারসংক্ষেপ তুলে ধরে বলেন, “যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ অংশীদারত্বের শক্তি ও গভীরতা পুনর্ব্যক্ত করে উভয় দেশ অভিন্ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চায়।” তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে তাঁর নতুন দায়িত্বভার গ্রহণের জন্য ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান এবং দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি মনে করেন, এই অংশীদারত্ব দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষায় এক বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করবে।

বৈঠকে দুই দেশের আগামীর কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সারাহ কুক জানান যে, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা এবং অভিবাসন সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের পাশে থাকবে। তিনি বলেন, “অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অভিবাসন, নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং রোহিঙ্গা ইস্যুসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।” বিশেষ করে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন ও মানবিক সহায়তায় যুক্তরাজ্যের ধারাবাহিক সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

সবশেষে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক অভিযাত্রাকে স্বাগত জানিয়ে এক বার্তায় বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। দেশের এই নতুন অধ্যায়ে আমরা একসঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যেতে আগ্রহী।” কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই প্রভাবশালী এই পশ্চিমা দেশটির এমন প্রকাশ্য সমর্থন নতুন সরকারের জন্য এক বড় ধরণের কূটনৈতিক সাফল্য। এর ফলে ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিনিয়োগ ও কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও বেগবান হবে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত