ঢাকা, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২

মার্কিন দূতাবাস ও কূটনৈতিক পাড়ায় বিজিবি মোতায়েন

২০২৬ মার্চ ০২ ১৬:২২:৫৯

মার্কিন দূতাবাস ও কূটনৈতিক পাড়ায় বিজিবি মোতায়েন

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোনো ধরণের ঝুঁকি নিতে চায় না নবনির্বাচিত সরকার। বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে মার্কিন দূতাবাসসহ সকল বিদেশি মিশনের সুরক্ষায় পুলিশের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। সোমবার (২ মার্চ) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সাথে এক উচ্চপর্যায়ের সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা জানান।

বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ডিপ্লোমেটিক এরিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের লক্ষ্যে নিয়মিত বাহিনীর পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত সম্ভাব্য যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এই আগাম সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।

আলোচনায় গুরুত্ব পায় ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের নিরাপত্তা সুসংহত করতে ‘স্পেশাল প্রোগ্রাম ফর এম্বাসি অগমেন্টেশন অ্যান্ড রেসপন্স (স্পিয়ার)’ কর্মসূচি। এ সময় মন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ মিত্র। দেশটি শুরু থেকেই বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ দমন ও নিরাপত্তা খাতে ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে কাজ করে আসছে।’ জবাবে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন জানান, ঢাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আধুনিকায়নে স্পিয়ার কর্মসূচি বাস্তবায়নে দ্রুত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর প্রয়োজন, অন্যথায় এর জন্য বরাদ্দকৃত মার্কিন তহবিল ফেরত চলে যেতে পারে। মন্ত্রী জানান, ‘আমরা সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সম্মতি নিয়ে দ্রুত এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে চাই।’

বৈঠকে অবৈধ অভিবাসন রোধে ‘ইলেকট্রনিক ন্যাশনালিটি ভেরিফিকেশন (ইএনভি)’ প্রোগ্রাম বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এটি সফল হলে মার্কিন অভিবাসন খাতে বাংলাদেশ ‘গ্রিন জোনে’ অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে। এছাড়া ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের প্রায় ৩০ হাজার কর্মকর্তাকে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম নিয়ে কথা হয়। কর্মকর্তাদের ঘন ঘন বদলি ও অবসরের কারণে এই প্রশিক্ষণের সুফল যাতে নষ্ট না হয়, সে লক্ষে মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একটি বিশেষ কর্মশালা আয়োজনের নির্দেশ দেন।

এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব রেবেকা খান এবং মার্কিন দূতাবাসের পলিটিক্যাল ও ইকোনমিক কাউন্সিলর এরিক গিলানসহ উভয় পক্ষের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নতুন সরকারের অধীনে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলে উভয় পক্ষই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত