ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২

ধর্ষণের পর সেপটিক ট্যাংকে লাশ; প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৭ ১৬:১৭:৩৩

ধর্ষণের পর সেপটিক ট্যাংকে লাশ; প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ৫ বছরের শিশু তাবাসসুমের সেই বুকফাটা আর্তনাদের অবসান ঘটিয়ে পৈশাচিক এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারিগরকে বন্দি করেছে পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর বৃহস্পতিবার এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা করে সেপটিক ট্যাংক থেকে শিশুটির হাত-পা বাঁধা নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। এরপরই গা ঢাকা দেওয়া ঘাতক আবু তাহেরের (৩৪) পিছু নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অবশেষে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কুষ্টিয়া থেকে তাকে পাকড়াও করতে সক্ষম হয় ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল। শুক্রবার সকালে তাকে কালীগঞ্জ থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে।

পুলিশের কাছে দেওয়া ঘাতক তাহেরের স্বীকারোক্তিতে উঠে এসেছে অপরাধের ভয়ংকর সব আলামত। তার দেখানো তথ্যের ভিত্তিতে রাইগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশের ময়লা থেকে তাবাসসুমের একটি জুতা এবং পার্শ্ববর্তী নদী থেকে রক্তমাখা একটি লুঙ্গি উদ্ধার করেছে পুলিশ। মূলত অপরাধের চিহ্ন মুছে ফেলতেই সে এগুলো বিভিন্ন স্থানে ফেলে দিয়েছিল। এই পৈশাচিকতার শিকার তাবাসসুম মহেশপুর উপজেলার ভৈরব এলাকার নজরুল ইসলামের আদরের কন্যা। অভাবের তাড়নায় পরিবারটি কালীগঞ্জের বারবাজার এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকত।

ঘটনার দিন বুধবার দুপুরে বাড়ির আঙিনায় খেলাধুলা করার সময়ই অদৃশ্য হয়ে যায় অবুঝ শিশুটি। চারদিকে হাহাকার আর আর্তনাদে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠলেও কোথাও তার সন্ধান মিলছিল না। অপেক্ষার অবসান হয় বৃহস্পতিবার সকালে, যখন স্থানীয় বাদুরগাছা গ্রামের আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকে একটি বস্তা পড়ে থাকতে দেখেন পথচারীরা। পুলিশ এসে বস্তার মুখ খুলতেই বেরিয়ে আসে হাত-পা বাঁধা নিথর সেই ছোট্ট প্রাণ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পাশবিক নির্যাতনের পর তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে শুরু থেকেই পুলিশ ছায়াতদন্ত চালিয়ে আসছিল। তিনি বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঘটনার বিস্তারিত ও আইনি সব বিষয় স্পষ্ট হবে।” অপরাধীর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী রশি ও বস্তাসহ আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে যা বিচারিক প্রক্রিয়ায় শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।

নৃশংস এই ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো ঝিনাইদহ। এলাকাবাসী এই নরপিশাচের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন। তাবাসসুমের বাবা-মায়ের আহাজারিতে এলাকার বাতাস এখন ভারি হয়ে আছে। শিশুটির অকাল মৃত্যুতে ক্যাম্পাসেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত