ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২
এক মাসে ১০ বার ভূমিকম্প; বড় দুর্যোগের আশঙ্কায় দেশবাসী
নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসটি বাংলাদেশের জন্য এক আতঙ্কের মাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাটির নিচের টেকটোনিক প্লেটগুলোতে যেন এক পৈশাচিক অস্থিরতা শুরু হয়েছে, যার ফলে গত ২৭ দিনে অন্তত ১০ বার মৃদু ও মাঝারি ধরনের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে দেশ। আজ শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরেও এক শক্তিশালী কম্পনে দুলল খুলনা ও সাতক্ষীরাসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চল। এক মাসেরও কম সময়ে এত ঘন ঘন ভূকম্পন বড় কোনো মহাবিপর্যয়ের পূর্বাভাস কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে এখন গভীর উদ্বেগ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।
আজকের ভূমিকম্পটির তীব্রতা ছিল রিখটার স্কেলে ৫.৩, যা চলতি মাসে অনুভূত হওয়া কম্পনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জোরালো। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) এবং ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প কেন্দ্র (EMSC) জানিয়েছে, দুপুর ১টা ৫২ মিনিটের এই কম্পনটি ভূপৃষ্ঠের ২৯ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হয়েছে। খুলনা আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে, এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরার আশাশুনি অঞ্চলে, যা খুলনা থেকে ৪৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।
ফেব্রুয়ারির এই কম্পনের মিছিল শুরু হয়েছিল ১ তারিখ সিলেটে ৩ মাত্রার ঝাঁকুনির মাধ্যমে। এরপর ৩ ফেব্রুয়ারি এক দিনেই তিনবার কেঁপে ওঠে দেশ, যার কেন্দ্র ছিল সাতক্ষীরার কলারোয়া ও পার্শ্ববর্তী মিয়ানমার। ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি পুনরায় সিলেটে দুটি এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের ছাতকে ৪.১ মাত্রার আরও একটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। সবশেষ গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) মিয়ানমারে সৃষ্ট ৫.১ মাত্রার এবং গতকাল বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ভারতের সিকিমে উৎপন্ন ৩.৭ মাত্রার কম্পনেও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থরথর করে কেঁপে ওঠে।
ভূতত্ত্ববিদ ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা এই উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সি বা ঘন ঘন কম্পনকে এক অশনি সংকেত হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবেই উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূত্বকের ভেতরে দীর্ঘ সময় ধরে যে বিশাল শক্তি জমা হচ্ছে, তা এই ছোট ছোট কম্পনের মাধ্যমে পুরোপুরি মুক্ত হতে পারছে না। এটি ভবিষ্যতে একটি ‘গ্রেট আর্থকোয়েক’ বা বিশাল মাত্রার ভূমিকম্পের ইঙ্গিত হতে পারে, যা অপরিকল্পিত নগরায়নের এই দেশে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ ডেকে আনতে পারে।
যদিও সৌভাগ্যবশত এখন পর্যন্ত এই ১০টি ভূমিকম্পে কোনো বড় ধরনের প্রাণহানি বা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবুও বারবার কেঁপে ওঠা মাটি নগরবাসীকে শঙ্কার মধ্যে রেখেছে। বিশেষজ্ঞরা অবিলম্বে জাতীয় বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে মেনে চলা এবং ভূমিকম্প-পরবর্তী উদ্ধার তৎপরতার চেয়ে দুর্যোগ প্রশমনে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান ১ম ওয়ানডে: কখন, কোথায় সরাসরি লাইভ দেখবেন যেভাবে
- বাংলাদেশ বনাম উজবেকিস্তান ম্যাচ: কখন, কোথায় সরাসরি লাইভ দেখবেন যেভাবে
- শেষ হলো বাংলাদেশ বনাম উত্তর কোরিয়ার ফুটবল ম্যাচ, জানুন ফলাফল
- জানা গেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঈদের ছুটির সময়সূচি
- সোমবার থেকে সকল বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা
- আগামীর বাংলাদেশে সহিংসতা নয়, বরং শান্তির রাজনীতি চায় যুবসমাজ
- ক্ষেপণাস্ত্র হা'মলায় নেতানিয়াহুর মৃত্যু, দাবি ইরানি গণমাধ্যমের
- বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান: খেলাটি সরাসরি দেখুন
- চাকরির বাজারে সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন শীর্ষ ১০ ডিগ্রি
- বাংলাদেশকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উজবেকিস্তান
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা মব নয়, নির্ধারিত ক্রাইম: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজের টিকিট মূল্য প্রকাশ, কাটবেন যেভাবে
- অবশেষে হাদি হ'ত্যার প্রধান আসামী ফয়সাল করিম গ্রেপ্তার
- জ্বালানি সংকটের আতঙ্কে শেয়ারবাজারে বড় ধস
- ব্যবসায়িক সাফল্যে নতুন রেকর্ড গড়ল লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ